স্ট্রংরুমে কারচুপির অভিযোগ মমতার, এজেন্ট গ্রেফতার নিয়ে বাড়ল বিতর্ক
Mamata Banerjee অভিযোগ, ইভিএম স্ট্রংরুমে অনিয়ম চলছে, এজেন্ট গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন; কমিশন অবশ্য কারচুপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে
কলকাতা: দ্বিতীয় দফার ভোট শেষে এক্সিট পোল প্রকাশে বাংলার রাজনীতির অঙ্গন রীতিমতো উত্তপ্ত৷ আর এই আবহেই ‘ভোটের বাজার’ গরম করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বিধানসভা নির্বাচনের ফল গণনার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইভিএম স্ট্রং রুমে কারচুপির গুরুতর অভিযোগ তুললেন৷ বৃহস্পতিবার রাতে তিনি বলেছেন, অনেক জায়গায় ইভিএম-এর সঙ্গে কারচুপি করা হচ্ছে।
মমতার বক্তব্য
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখানে ইভিএম-এর জন্য স্ট্রং রুম আছে। আমরা দেখেছি অনেক জায়গায় কারচুপি হচ্ছে। যখন টিভিতে সিসিটিভি দেখলাম, তখন আমারও যাওয়া উচিত মনে হল। প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী আমাকে ঢুকতে দিতে চায়নি। কিন্তু নির্বাচনী নিয়ম অনুসারে যেকোনও দলের প্রার্থী ও নির্বাচনী এজেন্ট সিল করা রুম পর্যন্ত যেতে পারেন।”
Read More: বাংলায় এক্সিট পোল করতে নারাজ অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমাদের এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতটা একপেশে আচরণ চলছে। তারপরেও যদি কেউ ইভিএম মেশিন চুরি করার চেষ্টা করে বা গণনা চুরি করার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা প্রাণ দিয়ে লড়াই করব।”
নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে ভোট গণনার প্রস্তুতি চলছে। ৪ মে ফল ঘোষণা হবে। এই সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্ট্রং রুমে গিয়ে সিসিটিভি দেখতে চাইলে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রথমে বাধা দেয় বলে তাঁর অভিযোগ। পরে তিনি সেখানে প্রবেশ করেন।
Read More: ‘অপরাধীদের লাশে মালা দিন!’ প্রশাসনকে কড়া বার্তা বিহারের গেরুয়া মুখ্যমন্ত্রীর
মমতা বলেন, তৃণমূলের এজেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং স্ট্রং রুমে একপেশে আচরণ চলছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে ইভিএম বা গণনায় কোনও চুরির চেষ্টা হলে তৃণমূল প্রাণ দিয়ে লড়াই করবে।
রাজ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ানল এদিন রাতেই জানিয়ে দিয়েছেন, স্রংমন রুমে কোন কারচুপি হয়নি৷ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের প্রার্থী, তিনি দক্ষিণ কলকাতার স্ট্রং রুমে যেতে পারেন৷ কিন্তু উত্তর কলকাতায় আসতে পারেন না৷
বর্তমান পরিস্থিতি
নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের সামনে তৃণমূল নেতাদের ধর্না ও অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। ভোট গণনার আগে এ ধরনের অভিযোগ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যদি কেউ ভোট চুরি করার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা প্রাণ দিয়ে লড়াই করব।”
রাজ্যের ভোটাররা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন যে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলো কীভাবে খতিয়ে দেখে এবং ৪ মে ফল ঘোষণার আগে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।