ভোটপর্বে সৈকতে বেআইনি নির্মাণ, কড়া পদক্ষেপ পুলিশের
এই সময়, মন্দারমণি: ভোটের সময়ে পুলিশ–প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগে নজরদারি এড়িয়ে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের মন্দারমণির সমুদ্র সৈকতে। বিষয়টি নজরে আসার পরে মন্দারমণি কোস্টাল থানার পুলিশ দুই অবৈধ নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়, দক্ষিণ পুরুষোত্তমপুর, সোনামুই ও সিলামপুর—চারটি মৌজা নিয়ে মন্দারমণি পর্যটন কেন্দ্র। এই মন্দারমণি সৈকতে কোস্টাল রেগুলেশন জ়োন (সিআরজে়ড) আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ নতুন নয়। যার প্রেক্ষিতে ২০২৪-এ পরিবেশ আদালত সৈকতের ১৪৪টি অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। পরিবেশ আদালতের সেই নির্দেশ মেনে তৎকালীন জেলাশাসক মন্দারমণি সৈকতের ১৪৪টি অবৈধ নির্মাণই ভেঙে ফেলার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন। কিন্তু হোটেল মালিকরা হাইকোর্টে মামলা করায় পরিবেশ আদালতের সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি এখনও।
ওই মৌজায় হোটেল-রিসর্ট ২৫০-এর বেশি। অভিযোগ, এগুলোর বেশিরভাগই তৈরি সরকারি নির্দেশকে অমান্য করে। কোস্টাল জ়োন রেগুলেশন অ্যাক্ট অনুসারে সৈকত থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে কোনও স্থায়ী পাকা নির্মাণ করা যাবে না। অর্থাৎ সমুদ্রের জল যতদূর পর্যন্ত পৌঁছয়, তার থেকে ৫০০ মিটার দূরে নির্মাণ করা যাবে।
অভিযোগ, মন্দারমণি-তাজপুরের সৈকতে অধিকাংশ হোটেল নির্মাণের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি। শুধু সিআরজ়েড আইন ভেঙে নির্মাণ নয়, পাশাপাশি মন্দারমণি ও তাজপুর সৈকতে পাট্টার জমি ও সরকারি খাসজমিতে অবৈধ ভাবে হোটেল, রিসর্ট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একশ্রেণির ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও রয়েছে জমির অবৈধ হস্তান্তরের অভিযোগ।
ভোটের আগে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালায় মন্দারমণি থানার পুলিশ। সম্প্রতি দাদনপাত্রবাড় ও তাজপুর এলাকায় দু’টি অবৈধ নির্মাণ বন্ধের পাশাপাশি এই ধরনের নির্মাণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে পুলিশের তরফে। সরকারি নিয়ম অনুসারে নতুন নির্মাণের পাশাপাশি মেরামতির কাজ ও বিল্ডিং এক্সটেনশনের জন্যও প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন।
কাঁথির মহকুমা শাসক প্রতীক অশোক ধুমাল বলেন, ‘অবৈধ নির্মাণ কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্লক ভূমি আধিকারিককে তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।’