বৃদ্ধ-সহ দুই ইহুদিকে প্রকাশ্যে কোপ লন্ডনে, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
লন্ডন: ক’সপ্তাহ ধরেই ইহুদির সম্পত্তির উপরে হামলার অভিযোগ উঠছে। এ বার দিনদুপুরে দুই ইহুদির উপরে চড়াও হয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠল উত্তর লন্ডনে। আক্রান্তদের একজন সত্তরোর্ধ্ব, অন্যজন ত্রিশের ঘরে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দু’জনের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে চিহ্নিত করেছে। গ্রেপ্তার হয়েছে বছর ৪৫-এর এক অভিযুক্ত।
বুধবারের এই ঘটনায় দায় স্বীকার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়েছে ইরানপন্থী গোষ্ঠী ‘হারাকত আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া।’ পুলিশ জানিয়েছে, সোমালিয়ায় জন্মালেও শিশু বয়সে বৈধ পথে ইউকে পৌঁছয় বর্তমানে ব্রিটিশ ন্যাশনাল ওই অভিযুক্ত
ঘটনাটা কী? সে দিন বেলা সওয়া ১১টা নাগাদ গোল্ডার্স গ্রিন রোডের কাছে হাইফিল্ড অ্যাভিনিউয়ে হামলার খবর পায় দ্য মেট্রোপলিটান পুলিশ। হাইফিল্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তকে জগিং করতে দেখা যায় ঘটনার মিনিট খানেক আগে। তারপরেই এক ব্যক্তির উপরে সে হামলা চালায়, আক্রান্ত পালানোর চেষ্টা করলে তাঁর পিছনে ধাওয়া করে। চলন্ত একটি গাড়ি থেকে ভিডিয়োয় ধরা পড়া ক্লিপেও অভিযুক্তকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। এ বাদে একাধিক ফুটেজে পুলিশ দেখে, স্থানীয় বাস স্টপের কাছে এক ব্যক্তিকে পরের পর কোপ মেরে রাস্তায় ফেলে পালাচ্ছে সে।
এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তাদের দিকেও তেড়ে আসে অভিযুক্ত। পুলিশের বডি-ক্যামেরার ভিডিয়োয় শোনা যাচ্ছে, হাত থেকে ছুরি ফেলে দেওয়ার কথা বারবার বলা হলেও কর্ণপাত করছে না ওই ব্যক্তি। এক অফিসার অভিযুক্তকে টার্গেট করে ‘টেজ়ার’ (এক ধরনের ইলেক্ট্রোশক অস্ত্র, যা থেকে দু’টি ছোট ডার্ট নিক্ষেপ করে কাউকে সাময়িক ভাবে অচল করা যায়) চালান। পরে তাকে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্তরা হলেন, বছর ৩৪-এর শ্লোইম রান্দ এবং ৭৬-এর মোশে শাইন। ঘটনাস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। মোশের আঘাত বেশি গুরুতর। তবে ডাক্তারদের আশা, দু’জনেই পুরোপুরি সেরে উঠবেন।
হামলার নিন্দে করে চিফ রাবাই এফ্রাইম মিরভিস বলেন, ‘ইহুদিদের আতঙ্কিত করে রাখার চেষ্টা চলছে লাগাতার। কিন্তু লাভ হবে না। আমাদের মনের জোর আর সহনশীলতা অনেক বেশি।’ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের প্রতিক্রিয়া, ‘ইহুদিদের উপরে আক্রমণ মানে ব্রিটেনের উপরে আক্রমণ।’ কিং চার্লসও এতে উদ্বিগ্ন বলে বাকিংহাম প্যালেসের খবর।
মেট্রোপলিটান পুলিশের কমিশনার মার্ক রোলি বলেন, ‘অভিযুক্তকে প্রাথমিক ভাবে সন্ত্রাসবাদী বলে মনে হচ্ছে। হেফাজতেও সে রীতিমতো ভায়োলেন্ট আচরণ করছে, হুমকি দিচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর বাকিদের সঙ্গে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করছি, লন্ডনের ইহুদি সম্প্রদায়ই তার নিশানা কি না।’ ধৃতের ভয়াবহ হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো ও মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস রয়েছে।