প্রকাশ্য রাস্তায় শ্লীলতাহানি! ১২ ঘন্টায় নওশাদকে এনকাউন্টার যোগী পুলিশের
লখনউ: উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে এক বোরখা পরা নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মৌলানা নওশাদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (molestation)। সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধের দৃশ্য ধরা পড়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই এক …
লখনউ: উত্তরপ্রদেশের মুরাদাবাদে এক বোরখা পরা নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মৌলানা নওশাদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (molestation)। সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধের দৃশ্য ধরা পড়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই এক রোমহর্ষক পুলিশি অভিযানে তাকে পাকড়াও করা হয়। এই গ্রেফতারির সময় পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় নওশাদ পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
গত ২৯ এপ্রিল মুরাদাবাদের মুঘলপুরা থানা এলাকার বরবলান নামক একটি ঘিঞ্জি গলিতে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী বোরখা পরে গলি দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় টুপি পরিহিত এক ব্যক্তি তার পিছু নেয় এবং আচমকা পেছন থেকে তাকে জাপটে ধরে অশালীন আচরণ শুরু করে। নারীটি তাৎক্ষণিক চিৎকার করে বাধা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আরও দেখুনঃ নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগেই তৃণমূল সন্ত্রাসের অভিযোগ ‘সিংহমের’ ফলতায়
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তকে ‘মৌলানা’ হিসেবে শনাক্ত করেন।পুলিশি অভিযান ও এনকাউন্টারঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়। নারীটির অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর (FIR) দায়ের করে অপরাধীকে ধরতে পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। ১ মে ভোরে রামগঙ্গা নদীর পাড়ে নওশাদ আছে বলে খবর পায় পুলিশ। পুলিশ তাকে ঘিরে ফেললে আত্মসমর্পণ করার পরিবর্তে নওশাদ তার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে পুলিশের ওপর গুলি চালায়।
আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে নওশাদের বাম পায়ে গুলি লাগে। এরপর পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় গ্রেফতার করে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই তথ্যগুলো নিয়ে তদন্ত করে দেখা গেছে যে ধৃত ব্যক্তির নাম নওশাদ (৪৫), পেশায় তিনি একজন লেডিস টেইলর এবং স্থানীয়ভাবে তাকে ‘মৌলানা’ বলা হয়।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, নওশাদ আগেও একাধিকবার নারীদের সাথে অভদ্র আচরণ করেছে, তবে লোকলজ্জার ভয়ে কেউ আগে অভিযোগ করেনি।মুরাদাবাদ পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপের পর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নারীর নিরাপত্তার সঙ্গে যারা খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে এই ধরণের কঠোর ব্যবস্থাই নেওয়া হবে। বর্তমানে নওশাদ পুলিশি প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।