৮০,০০০ কোটির ‘ক্ষতি’ দেশের তেল সংস্থাগুলির
এই সময়: ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় ভারতের তেল বিপণন সংস্থাগুলির উপরে আর্থিক চাপ বেড়ে চলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পেট্রল ও ডিজ়েল বিক্রি করে যথাক্রমে লিটারপিছু প্রায় ১৪ টাকা এবং ১৮ টাকা লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে তাদের। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে এই তথ্য তুলে ধরেছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ইকরা।
সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দর ব্যারেলপিছু ১২০-১২৫ মার্কিন ডলারের ঘরে পৌঁছলেও ক্রেতাদের উপরে বাড়তি দামের বোঝা না চাপাতে খুচরো জ্বালানির দাম একই রাখা হয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তেল সংস্থাগুলির মুনাফার উপরে। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপিছু অপরিশোধিত তেলের দর ৭০-৭২ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। কিন্তু, যুদ্ধ পরিস্থিতি এই কয়েকদিনের মধ্যে তেলের দাম হঠাৎ করে এতটা বাড়িয়ে দেওয়ায় বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলে ইকরা-র দাবি।
তেল বিপণন সংস্থাগুলির উপরে এই চাপ শুধুমাত্র পেট্রল-ডিজ়েলেই সীমাবদ্ধ নেই, এলপিজি-র ক্ষেত্রেও বিপুল পরিমাণ ‘আন্ডার রিকভারি’-র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন অথবা আমদানি খরচের চাইতে কম দামে এলপিজি বিক্রি করার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে রেটিং সংস্থাটি। চলতি অর্থবর্ষে এর জন্য তেল বিপণন সংস্থাগুলির ক্ষতির পরিমাণ ৮০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলে তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে ইকরা। একই সঙ্গে সারে ভর্তুকির পরিমাণও ২.০৫ লক্ষ কোটি টাকা থেকে ২.২৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে, যা বাজেটে নির্ধারিত অঙ্কের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার ফলে সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। কারণ, বিশ্বের মোট জ্বালানি আমদানির ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়েই হয়। এর মধ্যে তেল ও এলএনজি গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ় দিয়ে সরবরাহ সঙ্কটের ফলে সার, রাসায়নিক পণ্য এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তার অভিঘাত বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের উপরে পড়েছে।
কাঁচামালের দাম এবং জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাপের মুখে পড়েছে দেশের সার শিল্প-ও। সালফার, অ্যামোনিয়া এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চাপ পড়েছে উৎপাদন খরচের উপরে। চলতি মাসে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট সারের দাম ১৯ মার্কিন ডলার হয়েছে। যা ইরান যুদ্ধের আগে ১৩ মার্কিন ডলার ছিল। এই পরিস্থিতিতে সরকার ভর্তুকির পরিমাণ না বাড়ালে সার উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির মুনাফা আরও কমতে পারে। পাশাপাশি অনিশ্চিত আবহাওয়ায় কৃষকদের পক্ষেও বাড়তি খরচ বহন করা কঠিন হয়ে উঠবে।
রাসায়নিক ও পলিমার শিল্পেও একই ছবি। জ্বালানির বাড়তি খরচ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় দাম বেড়েছে। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে মজুত বাড়ানোর পথে হাঁটতে শুরু করেছে এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত শিল্পসংস্থাগুলি। তবে, আগামী দিনে চাহিদা কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্যাসের বাড়তি দাম এবং ডলার নিরিখে ভারতীয় মুদ্রার দরে পতন চাপে ফেলেছে পাইপলাইন মারফত গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকেও।