Haldia Port: ১৬ কোটি টাকা খরচে হলদিয়া জুড়ে এটা কী তৈরি হচ্ছে – Bengali News | This dust screen installed in Haldia worth 16 crore by Haldia port
হলদিয়ায় বসছে এই পাঁচিলImage Credit: TV9 Bangla
হলদিয়া: রাস্তার ধার জুড়ে বসছে এক বিশাল পাঁচিল। মাটি থেকে বেশ অনেকটাই উঁচু। এমন প্রাচীর আগে কখনও দেখেনি হলদিয়াবাসী। শিল্প শহরে বেড়েছে কৌতূহল। আসলে কী এই পাঁচিল? হলদিয়া বন্দর (Haldia Port) কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই পাঁচিল বসাতে খরচ হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আসলে দূষণ থেকে হলদিয়াকে বাঁচাতেই এই ব্যবস্থা।
হলদিয়ায় প্রবল দূষণ
শিল্পশহর হলদিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা বায়ু দূষণ। এবার শিল্প শহরে দূষণ রুখতে উদ্যোগী হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই এলাকায় থাকা একাধিক কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ৫০০০ পণ্যবাহী গাড়ি যাতায়াত করে। শিল্প শহরে এই দূষণের মাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশ মন্ত্রক ২০০৮ থেকে ২০১৩- এই পাঁচ বছরে হলদিয়ায় নতুন শিল্প-নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
বন্দর থেকে কয়লা, ম্যাঙ্গানিজ, লোহা, মাটি বোঝাই করে বিভিন্ন গাড়ি কারখানায় সরবরাহ করে। কিন্তু এগুলি পরিবহনের সময়ে বাতাসে ধূলিকণার মাত্রা বেড়ে যায়। সেই দূষণ রুখতেই ডাস্টস্ক্রিন বসানো হচ্ছে। বসানো হচ্ছে উইন্ড স্ক্রিন। মাটি থেকে অনেকটা উঁচু পাঁচিলের মতো দেখতে এই স্ক্রিন।
কী কাজ করবে এই স্ক্রিন?
লোহার ফ্রেমের উপরে কালো রঙের ছোট ছোট জালি দিয়ে তৈরি এই স্ক্রিন। কয়লা-ম্যাঙ্গানিজ-লোহার মতো খনিজ পরিবহণের সময়ে খনিজ কণা বাতাসের সঙ্গে মিশে যায়। ফলে বাতাসে বায়ুদূষণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, সেই বাতাস এই ডাস্ট স্ক্রিনে ধাক্কা খেলেই জালিতে আটকে মাটিতে পড়ে যাবে। বাতাসে ভেসে থাকতে পারবে না। ভাসলেও তার পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে। রোখা যাবে দূষণ।
১৬ কোটি খরচে বসানো হল ডাস্ট স্ক্রিন
ইতিমধ্যেই বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরের ভিতরের একাধিক এলাকায় এই স্ক্রিন বসিয়েছে। বন্দর সূত্রে খবর, প্রথম দফায় প্রায় ১৫৪৮ মিটার এলাকা জুড়ে এই স্ক্রিন বসানো হয়েছে। এর ফলে বন্দরের ভিতরের বায়ু দূষণ অনেকটাই রোধ করা গিয়েছে বলে দাবি বন্দর কর্তৃপক্ষের। দ্বিতীয় দফায় বন্দরের বাইরে অর্থাৎ এক নম্বর গেট এবং রানিচক সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয় করে ৮৩৩ মিটার ডাস্ট স্ক্রিন বসানো হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, বন্দর সংলগ্ন এলাকায় একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) খুব ভালো ছিল না। এই স্ক্রিন বসানোর পরে সেই ইনডেক্স অনেকটাই নিম্নমুখী। অর্থাৎ বন্দরের জেনারেল ম্যানেজার (ইঞ্জিনিয়ারিং) মানস মণ্ডলের বলেন, “হলদিয়া বন্দর এবং বন্দর সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ ঠিক রাখতেই এই ডাস্টস্ক্রিন বসানো হয়েছে।”