মাত্রাতিরিক্ত লক্ষ্মীর চাপে কি তবে অধরাই থেকে যাবেন সরস্বতী?
এক একটি ক্লাসের জন্য নাম করা স্কুলেও প্রায় চারটি পাঁচটি সেকশন থাকে। তা হলে বুঝুন, কত পড়ুয়া থাকলে একটি ক্লাসে প্রায় পাঁচটি সেকশন হতে পারে? আকাশছোঁয়া মাসিক বেতন। তার উপরে অ্যাডমিশন ফি। এখানেই শেষ নয়, স্কুলে প্রায়ই শোনা যায় আজ ৭০০ টাকা লাগবে, কাল ৫০০ টাকা, কোনও দিন আবার ১০০ টাকা দিতে হবে। কোনও না কোনও অনুষ্ঠান লেগেই রয়েছে। তার জন্যও টাকা দেবেন পড়ুয়াদের বাবা-মা। এ দিকে, ২০২৩–এ কলকাতা হাইকোর্ট স্কুলের বেতন নিয়ে একটি মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করেছিল। বিচারপতি জানিয়েছিলেন, বেসরকারি স্কুলগুলো কত ফি বাড়াবে, কখন বাড়াবে, সে সব দিকে নজর নেই রাজ্য সরকারের। রাজ্য সরকারকে একটি গাইডলাইন তৈরি করার নির্দেশও দেন বিচারপতি। কিন্তু ওই পর্যন্তই! তারপরে আদৌ রাজ্য সরকার এ নিয়ে কিছু ভেবেছে কি না সন্দেহ আছে। না হলে কোন সাহসে দশম শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণির ফি দু’লক্ষ টাকারও বেশি হতে পারে। কলকাতার এক নাম করা স্কুলে ফোন করে জানতে চেয়েছিলাম, ক্লাস নাইনে ভর্তির ফি কত। আসলে বিষয়টি যাচাই করে দেখছিলাম, এ ভাবে মাঝপথে ভর্তি করা যায় কি না? ফোনেই আমাকে বলা হয়, ‘ক্লাস নাইন মানে তো অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। তিন লক্ষ টাকা পড়বে।’ কোয়ার্টারলি ফি নেওয়া হয়। হিসেব করে দেখেছিলাম, সেই মান্থলি ফি প্রায় ১২ হাজার টাকা। এই তো অবস্থা! কলকাতার সব নামী এবং পুরোনো স্কুলগুলো তো ছিলই, সেই দলে নাম লিখিয়েছে আরও বেশ কিছু নতুন স্কুল। তাদের কথা শুনে তো আমি অবাক। স্কুলের টিচারদের কাছেই পড়তে হবে। স্কুলের বাসেই আসা-যাওয়া করতে হবে। এমনই নাকি স্কুলের নিয়ম! ভাবখানা এই যে, আমরা দোকান খুলে বসেছি। এ বার দোকানে ঢোকা থেকে বেরোনো পর্যন্ত শুধু টিকিটই কেটে যেতে হবে। অমৃতসরে থাকেন আমার এক আত্মীয়। তিনি বলছিলেন, ‘স্কুল আর আমাদের সম্পর্ক শুধু শিক্ষা দেওয়া-নেওয়া নয়। শিক্ষা কেনাবেচার। তুমি কিনছ আর তারা বিক্রি করছে। ইট ইজ় ওনলি বিজ়নেস নাউ।’ তাঁর কথায় সে দিন আমি হেসেছিলাম। কিন্তু এখন ভাবি, কথাটা তো ফেলনা নয়।