বাংলাতেও কাঁটে কি টক্কর! কনফিডেন্ট দুই শিবিরই - 24 Ghanta Bangla News
Home

বাংলাতেও কাঁটে কি টক্কর! কনফিডেন্ট দুই শিবিরই

Spread the love

এই সময়: স্বাধীনোত্তর বাংলায় রেকর্ড ভাঙা ভোট কি পরিবর্তন, নাকি প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত! গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই শাসক ও বিরোধী— দুই যুযুধান রাজনৈতিক শিবিরের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে ভোট বিশেষজ্ঞরা চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। এই প্রেক্ষাপটেই বুধবার অধিকাংশ বুথ ফেরত সমীক্ষায় বাংলার এ বারের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে বেশির ভাগ সমীক্ষাতেই গেরুয়া শিবির ম্যাজিক ফিগার পেয়ে যেতে পারে আভাস রয়েছে। ছ’টি প্রথম সারির সংস্থার বুথ ফেরত সমীক্ষার মধ্যে পাঁচটি সংস্থার সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে, বিজেপি ম্যাজিক সংখ্যা পার করতে চলেছে। একটিতে তৃণমূলকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তবে কোনও সমীক্ষাতেই কোনও শিবির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে, এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি, বরং কাঁটে কি টক্করেরই ইঙ্গিত রয়েছে।

পাঁচটি বুথ ফেরত সমীক্ষায় পদ্ম এবং জোড়াফুলের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আসন সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধানও দেখানো হয়নি। একটি বুথ ফেরত সমীক্ষা বলেছে, তৃণমূল ফের ক্ষমতায় ফিরছে, কিন্তু সেখানেও তাদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখানো হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের ভোট ইতিহাস বলছে, এই রাজ্যে নির্বাচনের ফলাফলে বরাবরই ক্লিন সুইপ দেখা গিয়েছে। একশোর বেশি আসন নিয়ে কোনও দল বা জোট বিরোধী আসনে বসেছে, ১৯৫২ থেকে এই নজির নেই। ১৯৬৭ এবং ১৯৬৯ সালে দু’টি যুক্তফ্রন্ট সরকারে জমানা ছাড়া ত্রিশঙ্কু বিধানসভা গঠিত হওয়ার নজিরও নেই। এ রাজ্যে যে দল অথবা জোট জয়ী হয়েছে, তারাই দুশোর বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ১৯৭৭–এ বামফ্রন্ট দু’শোর বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, ২০১১–তে তৃণমূল জোটও দু’শোর বেশি সিটে জয়ী হয়েছিল। তারপরে ২০১৬ ও ২০২১–এ কংগ্রেসের হাত ছেড়ে তৃণমূল একা লড়লেও দু’শোর বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে।

বুধবার কোনও বুথ ফেরত সমীক্ষায় কিন্তু তৃণমূল অথবা বিজেপি দু’শোর বেশি আসন পাচ্ছে, এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট শেষ হওয়ার পরেই ঘোষণা করেছেন, তৃণমূল দু’শোর বেশি আসন পেতে চলেছে। ভিকট্রি চিহ্নও দেখিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। অধিকাংশ বুথ ফেরত সমীক্ষায় গেরুয়া শিবিরকে এগিয়ে রাখা হলেও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এই ফোরকাস্টকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে নারাজ। যদিও জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্ব।

সাম্প্রতিক অতীতে ২০২১–এর বিধানসভা এবং ২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনে বুথ ফেরত সমীক্ষার সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলের বিরাট পার্থক্য দেখা গিয়েছিল। তৃণমূল যে দু’শো আসনের বেশি পাবে, তা ২০২১–এ কোনও বুথ ফেরত সমীক্ষাতেই উঠে আসেনি। আবার ২০২৪–এর লোকসভা ভোটে বিজেপির আসন সংখ্যা যে মাত্র ১২ হতে পারে, তাও কোনও বুথ ফেরত সমীক্ষা আঁচ করতে পারেনি। সে বার সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, গেরুয়া শিবির ২০টি বা তারও বেশি আসনে জয়লাভ করবে। ভারতের রাজনীতিতে বুথ ফেরত সমীক্ষার ট্রেন্ড শুরু হওয়ার পরে অনেকবার দেখা গিয়েছে, এই সমীক্ষার পূর্বাভাস সম্পূর্ণ ভুল বলে প্রতিপন্ন হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে যেখানে প্রায় ৭ কোটি ভোটার রয়েছেন, সেখানে বুথ ফেরত সমীক্ষার জন্য যে স্যাম্পল সাইজ় সমীক্ষক সংস্থাগুলি সংগ্রহ করে, তা নগণ্য। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের বুথে দলে দলে দাঁড়িয়ে যে মানুষ ভোট দেন, তাঁদের অধিকাংশই কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা খোলাখুলি বলতে চান না। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে অন্য রাজ্যের নির্বাচনের মৌলিক পার্থক্য হলো— এখানে ভোট বুথে হয়। স্রেফ প্রচারের জৌলুস, জাঁকজমক, হাওয়ার উপরে ভর করে এই রাজ্যে ভোট হয় না। মসৃণ ভোট মেশিনারি না–থাকলে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতিতে এঁটে ওঠা যে কঠিন, তা শাসক হোক বা বিরোধী, দুই পক্ষের নেতারাই স্বীকার করেন।

তবে এ বার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (সার) কারণে ভোটার তালিকা থেকে প্রচুর মানুষের নাম বাদ যাওয়া এবং ভোট শতাংশ রেকর্ড হওয়ায় সুনির্দিষ্ট সংখ্যার পূর্বাভাস দেওয়া আরও কঠিন বলেই সেফোলজিস্টরা মনে করছেন। প্রচুর নাম বাদ পড়ার পরেও প্রথম দফায় দেখা গিয়েছে, ২০২১–এর তুলনায় ২১ লক্ষ বেশি মানুষ এ বার ভোট দিয়েছেন। দ্বিতীয় দফায় এই সংখ্যাটা কত, তা বুধবার রাত পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের বক্তব্য, এ বারের ১৪২টি কেন্দ্রেও বিপুল নাম বাদ যাওয়ার পরেও গত বারের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ ভোট দিয়েছেন। এই অঙ্কের বিশ্লেষণও বুথ ফেরত সমীক্ষায় কতখানি উঠে এলো, তা ন‍িয়েও সংশয় রয়েছে ভোট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনে দৃঢ়বিশ্বাসী। মমতা বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী খুব মারধর করেছে, তাও আমি আশাবাদী, দু’শো আসন তো ক্রস করবই— সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, মানুষ ঠিক করবেন।’ তৃণমূল সূত্রের খবর, শাসকদল অভ্যন্তরীণ যে অ্যাসেসমেন্ট করেছে, সেখানে জোড়াফুল ২৩০টি আসন পাবে বলে হিসেব এসেছে। উল্টোদিকে, গেরুয়া শিবির মনে করছে, এ বার রাজ্যে পরিবর্তনই হতে চলেছে। বিপুল ভোট শতাংশ তারই ইঙ্গিত। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, ‘বুথ ফেরত সমীক্ষা কী বলছে, আমি জানি না। ভোটের প্রচারে জেলায় জেলায় ঘুরেছি। মানুষের মন বুঝেছি। বাং‍লায় বিজেপির সরকার তৈরি হচ্ছেই। ভোটাররা মুখিয়ে আছেন, তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করার জন্য।’

বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফলকে কংগ্রেস ও বামেরাও বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘কিছু বুথ ফেরত সমীক্ষায় এ বারে বাম, কংগ্রেসের আসনপ্রাপ্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এটা নতুন। সাম্প্রতিক অতীতে এটা দেখা যায়নি।’ যদিও বুথ ফেরত সমীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র–সহ তৃণমূলের সমস্ত নেতা প্রশ্ন তুলেছেন। জোড়াফুল নেতৃত্বের বক্তব্য, ২০২১–এর ‘পি–মার্ক’ সংস্থা বুথ ফেরত সমীক্ষায় বলেছিল, তৃণমূল ১৫২–১৭২টি আসন পাবে। ‘পিপলস পালস’ দাবি করেছি‍ল, তৃণমূল ৬৪–৮৮টি আসন পাবে। ‘সি–ভোটার’ বলেছিল তৃণমূল ১৫২–১৬৪টি আসন পাবে। ‘অ্যাক্সিস–মাই ইন্ডিয়া’র দাবি ছিল, ১৩০–১৫৬টি আসন পাবে জোড়াফুল। কিন্তু তৃণমূল হাসতে হাসতে ২১৬টি আসন পেয়েছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *