প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা ভরত কাপুর – Bengali News | Veteran Bollywood Actor Bharat Kapoor Passes Away at 80
সোমবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের শ্মশানেই সম্পন্ন হয়েছে তাঁর শেষকৃত্য।
Image Credit: youtube
নব্বইয়ের দশকের সেই টানটান উত্তেজনা ভরা বলিউড সিনেমাগুলোর কথা মনে পড়ে? যেখানে নায়ক-নায়িকার প্রেমের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াতেন একদল দুঁদেল অভিনেতা, কখনও তিনি আদর্শবাদী পুলিশ অফিসার, কখনও কূটনীতিতে পারদর্শী আইনজীবী, আবার কখনও হাড়হিম করা খলনায়ক। পর্দার সেই পরিচিত মুখ, অভিনেতা ভরত কাপুর সোমবার মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। খলনায়ক হোক কিংবা নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসার— গত তিন দশক ধরে অসংখ্য পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছিলেন ভরত কাপুর। সোমবার দুপুর তিনটে নাগাদ নিজের বাড়িতেই মৃত্যু হয় তাঁর। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা তো ছিলই, তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, শেষ কয়েকদিন ধরে তাঁর শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হতে শুরু করেছিল। সোমবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের শ্মশানেই সম্পন্ন হয়েছে তাঁর শেষকৃত্য।
ভরত কাপুরের প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু তথা অভিনেতা অবতার গিল। স্মৃতির সরণি বেয়ে তিনি জানান, তাঁদের বন্ধুত্ব প্রায় ৫০ বছরের। শ্মশান থেকে ফিরে ভারাক্রান্ত গলায় তিনি বলেন, “ভরতের ছেলে রাহুলই আমাকে ফোন করে খবরটা দেয়। গত তিন দিন ধরে ও ভীষণ অসুস্থ ছিল। আমরা এক পুরনো বন্ধুকে হারালাম।” এই কঠিন সময়ে অভিনেতার পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী লোপা এবং দুই পুত্র রাহুল ও সাগর। তবে কয়েক বছর আগেই নিজের কন্যা কবিতাকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন ভরত।
শুরুটা হয়েছিল মঞ্চের আলো-আঁধারিতে, থিয়েটারের হাত ধরে। কিন্তু তাঁর ভাগ্যে লেখা ছিল রুপোলি পর্দার জৌলুস। কিংবদন্তি দেব আনন্দের ভাই চেতন আনন্দ প্রথম তাঁর প্রতিভা আবিষ্কার করেন এবং সত্তর দশকের মাঝামাঝি হিন্দি সিনেমায় সুযোগ করে দেন। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘নুরি’ (১৯৭৯), ‘রাম বলরাম’ (১৯৮০), ‘বাজার’ (১৯৮২) থেকে শুরু করে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘খুদা গাওয়া’ (১৯৯২)— সর্বত্রই নিজের প্রতিভার মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেন তিনি। শুধু বড় পর্দা নয়, নব্বইয়ের দশকের টেলিভিশনের স্বর্ণযুগেও তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিহার্য। ‘ক্যাম্পাস’, ‘সাঁস’, ‘আমানত’ কিংবা ‘তারা’-র মতো মেগা সিরিয়ালে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। ২০০৪ সালে ‘মীনাক্ষ্মী: এ টেল অফ থ্রি সিটিস’ ছবিতেও তাঁর কাজ বুঝিয়ে দিয়েছিল, অভিনয়ের খিদে তাঁর শেষ বয়স পর্যন্ত কমেনি।
বলিউডে একটা সময় ছিল যখন পার্শ্বচরিত্ররাই গল্পের মেরুদণ্ড হয়ে উঠতেন। ভরত কাপুর ছিলেন সেই ঘরানারই শিল্পী। তাঁর চলে যাওয়া মানে বিনোদন জগতের একটি অধ্যায়ের অবসান। তাঁর অভিনয় দক্ষতা আর পর্দার সেই গম্ভীর কণ্ঠস্বর আজ কেবল স্মৃতি হয়েই থেকে গেল। তবে তাঁর কাজের মাধ্যমে তিনি সকলের মধ্যে থেকে যাবেন আজীবন।