Women Reservation Bill: ‘মহিলা বিরোধী’ তকমা ঘোচানোর চেষ্টা? তিন দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখবেন বিরোধীরা – Bengali News | INDIA Bloc will write letter to PM Narendra Modi over Women reservation Bill
নয়াদিল্লি: লোকসভায় পাশ হয়নি ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল। যা নিয়ে জোর তরজা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ইতিমধ্যে বিরোধীরা দলগুলিকে ‘মহিলা বিরোধী’ তকমা দিয়েছে বিজেপি। পাল্টা সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর চ্যালেঞ্জ, ‘কারা মহিলা বিরোধী প্রমাণ হয়ে যাক’। এই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মাঝেই এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখবেন বিরোধীরা। ওই চিঠিতে ২০২৩ এর মতো মহিলা সংরক্ষণ বিলকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার আবেদন জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে। মহিলা বিরোধী তকমা ঘোচাতেই কি এই সিদ্ধান্ত বিরোধীদের?উঠছে প্রশ্ন।
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত?
আজ বৈঠকে বসেন ইন্ডিয়া জোটের সংসদীয় দলের নেতারা। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ সংসদীয় দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকেই বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম সিদ্ধান্ত হল, প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি লেখা হবে। সেই চিঠিতে মূলত ২০২৩ এর মতো মহিলা সংরক্ষণ বিলকে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানানো হবে। একইসঙ্গে দাবি তোলা হবে, বর্তমানে লোকসভার ৫৪৩ আসনের উপর ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ লাগু করা হোক। সোমবার ফের সংসদের অধিবেশন ডেকে পুরনো বিলকে আনার চ্যালেঞ্চ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, ওই পুরনো বিলকে সমর্থন করবে বিরোধী জোট।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কী বললেন?
এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “এটা স্পষ্ট যে বিল পাশ হয়ে গেলে জয়। না পাশ হলে বিরোধীদের মহিলা বিরোধী বলে বড় ত্রাতা সাজব। আসলে বিষয়টা মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে নয়। আসন পুনর্বিন্যাসের বিরুদ্ধেই ছিলাম আমরা। আমি খুব খুশি যে বিরোধীরা একজোট হয়েছে। আর যখন একজোট হয়,তখন কী হয় তা সবাই দেখল। সরকার বলছে গতকাল ব্ল্যাক ডে ছিল। এটা বলছে কারণ ওদের প্রথমবার ধাক্কা লেগেছে। ২০২৩-এর পুরনো বিল যেটা পাশ হয়েছিল ওটা ফিরিয়ে আনা হোক। সেইসময় সব দল সমর্থন করছিল।” অর্থাৎ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী স্পষ্ট করে দিলেন, মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরুদ্ধে তাঁরা নয়। তার সঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাস-সহ বাকি যে বিষয়গুলো জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, সেটা ঠিক নয়।
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে কী বার্তা তৃণমূলের?
বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, আজ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যে সাংবাদিক বৈঠক করেন, তা আগে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করার প্রস্তাব দিয়েছিল কংগ্রেস। কিন্তু, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই মুহূর্তে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করা সম্ভব নয়। বরং, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল আলাদা আলাদাভাবে প্রচার সংশ্লিষ্ট রাজ্যে করুক। সূত্রের খবর বৈঠকে ডেরেক ও ব্রায়েন বলেন, “এখানে যে রাজনৈতিক দলের নেতারা আছেন তাঁরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও দলের শরিক। এক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস একমাত্র দল যারা বিজেপির বিরুদ্ধে একা লড়াই করছে। রাজনৈতিক মহল বলছে, আসলে লোকসভার অন্দরে যৌথভাবে বিরোধিতা করলেও, ভোটপর্বে একসঙ্গে কোনও মঞ্চে তাঁরা থাকবেন না। অর্থাৎ তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা, সংসদে ঐক্য থাকলেও, ভোট ময়দানে আপস নয়।