বডিগার্ডকে কত টাকা দেন শাহরুখ? ফাঁস সত্য – Bengali News | Shah Rukh Khan’s Ex Bodyguard Debunks ‘Crore Salary’ Rumors, Reveals Real Income Details
বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের নিরাপত্তা বলে কথা! মন্নতের সামনে জনসমুদ্র সামলানো হোক বা বিদেশের মাটিতে কিং খানকে আগলে রাখা- ছায়ার মতো তাঁর সঙ্গে থাকেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় হামেশাই শোনা যায়, শাহরুখের বডিগার্ড রবি সিং বা সলমন খানের ছায়াসঙ্গী শেরারা নাকি বছরে কোটি কোটি টাকা পারিশ্রমিক পান। কিন্তু সত্যিই কি তাই? নাকি রূপোলি পর্দার তারকাদের মতো তাঁদের বেতন নিয়েও গুঞ্জন তৈরি করা হয়েছে? সম্প্রতি এই নিয়ে মুখ খুলেছেন শাহরুখের প্রাক্তন বডিগার্ড ইয়াসিন খান। আর তাঁর দেওয়া তথ্য রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো।
কোটি টাকার গল্প কি তবে মিথ্যে?
দীর্ঘ এক দশক শাহরুখ খানের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলেছেন ইয়াসিন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ইন্টারনেটে তারকাদের বডিগার্ডদের বেতন নিয়ে যে বিপুল অঙ্কের দাবি করা হয়, তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। সাধারণ মানুষের ধারণা, নামী তারকাদের রক্ষীরা বছরে ২ থেকে ২.৫ কোটি টাকা আয় করেন। ইয়াসিন সাফ জানিয়েছেন, “এমনটা একেবারেই হয় না।” তাঁর কথায়, বেশিরভাগ বডিগার্ডই নির্দিষ্ট মাসিক বেতনে কাজ করেন। কোনও বিশেষ শুটিং বা প্রজেক্ট থাকলে হয়তো কিছুটা অতিরিক্ত টাকা পাওয়া যায়, কিন্তু তা কখনওই কয়েক কোটিতে পৌঁছায় না।
আসল বেতন কত?
ভাইরাল হওয়া ১০ লাখ বা ২০ লাখ টাকার মাসিক বেতনের দাবি নস্যাৎ করে ইয়াসিন জানান, অভিজ্ঞ এবং দক্ষ নিরাপত্তারক্ষীরা সাধারণত মাসে বড়জোর ১ লক্ষ টাকার কাছাকাছি বেতন পান। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “কে দেয় মাসে ১০ লাখ টাকা?” তাঁর মতে, এই পেশায় চুক্তির ভিত্তিতে কাজ হয় এবং আয়ের অঙ্কটা একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই থাকে। ইয়াসিন নিজেও একটা সময় শুটিংয়ের সেটে যথাযথ চুক্তির মাধ্যমে কাজ করার দাবি তুলেছিলেন, যা পরবর্তীতে ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শাহরুখের সঙ্গে দীর্ঘ সফর শেষ করার পর ২০১৫ সালে ইয়াসিন নিজের পথ বেছে নেন। গড়ে তোলেন নিজস্ব সিকিউরিটি ফার্ম ‘ওয়াইকে প্রোসেক’ (YK PROSEC)। আজ তিনি নিজেই সফল ব্যবসায়ী। তাঁর সংস্থা এখন বিরাট কোহলি থেকে শচীন তেন্ডুলকরের মতো মহাতারকাদের ভিআইপি সুরক্ষা এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ সামলায়। গ্ল্যামার জগতের আড়ালে থাকা এই মানুষগুলো সবসময়ই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকেন। ইয়াসিনের কথায়, “আমাদের কাজ তখনই নজরে আসে, যখন কোথাও কোনও ভুল হয়ে যায়।”