জানেন কেন নিজের কন্ঠই পাল্টে ফেলেছিলেন আশা? - 24 Ghanta Bangla News
Home

জানেন কেন নিজের কন্ঠই পাল্টে ফেলেছিলেন আশা?

Spread the love

জানেন কেন নিজের কন্ঠই পাল্টে ফেলেছিলেন আশা?

পরলোকে পাড়ি দিয়েছেন আশা ভোঁসলে। ৯২ বছর বয়সে শেষ হল ভারতীয় সংগীতের এক বর্ণময় অধ্যায়। লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণের পর নিজেকে রসিকতা করে ‘শেষ মুঘল’ বলতেন তিনি। কিন্তু এই সাফল্যের পথটা কি খুব সহজ ছিল? লতার পাশে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটাই ছিল তাঁর জীবনের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

খুব কম মানুষই জানেন, কেরিয়ারের একদম শুরুতে দুই বোনের গলার স্বর ছিল প্রায় একই রকম। আশা খুব দ্রুত বুঝে গিয়েছিলেন, দিদির মতো করে গাইলে তিনি কোনওদিন দিদির ছায়া থেকে বেরোতে পারবেন না। এক অনুষ্ঠানে তিনি সোজাসাপ্টা বলেছিলেন, “শুরুতে আমাদের গলা ছিল একই ধাঁচের। আমি যদি দিদির মতো করেই গাইতাম, তবে কেউ আমায় ডাকত না। লোকে বলত, লতা তো আছেই, তবে আর আশার কী কাজ?”

ঠিক এই জায়গা থেকেই জন্ম নিয়েছিল এক জেদ। আশা ঠিক করেছিলেন, তিনি কারও ‘কপি’ বা নকল হবেন না। নিজের দিদিরও নয়। তিনি চেয়েছিলেন ‘আশা ভোঁসলে’ নামটা যেন নিজের পরিচয়ে উজ্জ্বল থাকে। আর সেই জন্য তিনি নিজেকে বদলে ফেলার এক অদ্ভুত রাস্তা বেছে নিয়েছিলেন। নিজের গলার স্টাইল পাল্টাতে তিনি নিয়মিত শুনতেন স্প্যানিশ এবং ইতালীয় গান। বিদেশি সুরের সেই অন্যরকম ছোঁয়া নিজের গলায় আয়ত্ত করে তিনি হিন্দি গানের জগতে এক নতুন বিপ্লব এনেছিলেন। লতা যখন ধ্রুপদী বা মেলোডি গানে অপ্রতিদ্বন্দ্বী, আশা তখন নিয়ে এলেন ক্যাবারে বা পপ ঘরানার এক জাদুকরী বৈচিত্র্য।

আশা ভোঁসলে বিশ্বাস করতেন, “নকল আসলে নকলই হয়, তা কখনও আসল হতে পারে না।” তাঁর সেই সাহস আর এক্সপেরিমেন্টের কারণেই ‘দম মারো দম’ থেকে ‘পিয়া তু আব তো আজা’— আজও যে কোনও পার্টি বা আড্ডার প্রাণ।

বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে গত শনিবার রাতে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বুকে সংক্রমণ ও ক্লান্তি নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি। আইসিইউ-তে লড়াই চালালেও শেষরক্ষা হল না। রবিবার দুপুরে মাল্টি-অর্গান ফেলিওরের কারণে না ফেরার দেশে চলে গেলেন কিংবদন্তি। সোমবার বিকেলে শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। সুরের এক আকাশ থমকে গেলেও, আশার সেই লড়াকু মানসিকতা আর অদ্বিতীয় কণ্ঠ থেকে যাবে ইতিহাসের পাতায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *