Supreme Court on SIR: কমিশনের দায়িত্ব তারা কোথা থেকে ফোর্স আনবে, বিচারকদের রক্ষার দায়িত্ব আমাদের: সুপ্রিম কোর্ট

দিল্লি: মালদহে কালিয়াচক সাত বিচারককে ৮ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ। মধ্যরাতে তাঁদের উদ্ধারে পরও কনভয়ে পাথর ছোড়ার অভিযোগ। সেই ঘটনা এবার উঠল সুপ্রিম কোর্টে। আরও নজরদারি প্রয়োজন ছিল, মন্তব্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর। কোর্টের সওয়াল-জবাব এক নজরে…
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: আমি এই ঘটনার রাজনীতিকরণ করতে চাই না। কিন্তু আমরা রাত দু’টো পর্যন্ত খবর পেয়েছি। বিকেল পাঁচটার সময় তাঁদের ঘেরাও করা হয়েছে। রাত এগারোটা পর্যন্ত সেখানে কেউ ছিল না।
আইনজীনী কপিল সিব্বল: অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা।
আইনজীনী মেনকা গুরুস্বামী: রাজ্যের সব অফিসারদের ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়েছে।
সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা: এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। অত্যন্ত কড়া একটি বার্তা দেওয়া প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নাইডু: আগে জুডিশিয়াল অফিসারদের ভয় দেখানো হচ্ছিল। এখন সরাসরি তাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এই মবের ক্ষেত্রে কেউ কিছু করতে পারছে না।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে প্রশাসনের উচ্চকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়েছে। আমরা জড়িত নই বলে কেউ দায় এড়াতে পারে না। সব রাজনৈতিক দলের একসঙ্গে প্রতিবাদ করা উচিত। জুডিশিয়াল অফিসারদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। তাঁরা যে অর্ডার দিচ্ছেন সেটা কোর্টের অর্ডার।
সলিসিটর জেনারেল: জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা রাজ্য পুলিশের হাতে থাকতে পারে না। যা ঘটছে তা আইনের বিরুদ্ধে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি: এটা কমিশনের দায়িত্ব তারা কোথা থেকে ফোর্স আনবেন। কিন্তু জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
কমিশনের আইনজীবী গোপাল শংকর নারায়ণ: সেন্টার পুলিশ ফোর্স তা না হলে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী: আমাদের নির্দেশকে সম্পূর্ণ অমান্য করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁদের ভেরিফিকেশনের কাজ শেষ করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত: আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। গতকাল হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের জানানো হয়েছে কয়েকজন সমাজ বিরোধী সাতজন জুডিশিয়াল অফিসার, যাঁর মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন তাঁদের ঘেরাও করা হয়েছে। দুপুর সাড়ে তিনটে থেকে ঘেরাও শুরু হয়েছে। রেজিস্টার জেনারেল প্রশাসনিক কর্তাদের জানিয়েছিলেন এবং তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করার আবেদন করেছেন। রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কিছুই করা হয়নি। এই সময় হোম সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং প্রধান বিচারপতি ডিজিপির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন। আশ্বাস দেওয়া হয়েছে,পদক্ষেপ করা হবে কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কিছুই করা হয়নি।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি চিঠিতে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার এবং ডিএম ঘটনাস্থলে যাননি। প্রধান বিচারপতিকে ডিজিপি এবং হোম সেক্রেটারিকে ফোন করতে হয়েছে। এরপর ডিজিপি এবং হোম সেক্রেটারি প্রধান বিচারপতি বাসভবনে পৌঁছন। অন্যান্য সিনিয়র বিচারপতিরা যোগাযোগ রাখছিলেন। রাত বারোটার পর তাঁরা মুক্ত হন। মুক্ত হওয়ার পর যখন তাঁরা বাড়ি যাচ্ছিলেন তখন তাঁদের গাড়িতে লাঠি দিয়ে মারা হয় এবং পাথর বৃষ্টি হয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: পর্যাপ্ত পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। যেখানে জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ করছেন। কমিশনকে কাজ করতে হবে। যেখানে এই জুডিশিয়াল অফিসাররা থাকছেন সেই হোটেল এবং অন্যান্য জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত: এই জুডিশিয়াল অফিসাররা কোনও হুমকি পাচ্ছেন কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে। এদের পরিবারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।