Iran vs US War: তেলের যুদ্ধকে জলে নিয়ে যেতে মরিয়া ইরান - 24 Ghanta Bangla News
Home

Iran vs US War: তেলের যুদ্ধকে জলে নিয়ে যেতে মরিয়া ইরান

Spread the love

Iran vs US War: তেলের যুদ্ধকে জলে নিয়ে যেতে মরিয়া ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফের হুঁশিয়ারি ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোর-এর। আমেরিকা-ইজরায়েল হামলা না থামালে মধ্য-প্রাচ্যে যত পানীয় জল পরিশোধনাগার রয়েছে, সব ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের হরমুজ খোলার ডেডলাইন-হুঁশিয়ারির পাল্টা হুমকি তেহরানের। রাষ্ট্রসংঘও এই আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্ক করেছে। ইরানের হাবভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে, এবার লড়াই শুধু তেল নয়, জল নিয়েও হতে চলেছে।

প্রায় এক মাস হতে চলা ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরানকে বাগে আনতে না পেরে আরও সেনা পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প। পাঠাচ্ছেন নতুন নতুন রণতরী, এয়ারক্রাফট কেরিয়ার। ইরানও পাল্টা হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। এখনই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনকারী ট্যাঙ্কার যাতায়াতে একগুচ্ছ নজরদারি চালাচ্ছে ইরানি নৌসেনা। প্রভাবিত হয়েছে বিশ্বের মোট তেল আদানপ্রদানের প্রায় ২০%। এই ক’দিনেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু তেলের থেকেও মধ্য প্রাচ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ পানীয় জল শোধনাগার পরিকাঠামো। কারণ, মধ্য প্রাচ্যের বড় জল শোধনাগারগুলির উপর বাসিন্দাদের জীবন-মরণ নির্ভর করে। কাতারের ৯৯%, সৌদির ৭০, বাহরিন ও কুয়েতের প্রায় ৯০% পানীয় জল এই শোধনাগারগুলি থেকে আসে। সমুদ্রের নোনা জলকে পানের উপযোগী করে তুলতে প্রায় ৪০০টি ছোট-বড় ওয়াটার প্ল্যান্ট রয়েছে। জল শোধনাগারে ইরান হামলা চালালে দুবাই বা দোহার মতো বড় শহরগুলির বাসিন্দান্দের প্রবল জল-সঙ্কটে পড়তে হবে। জল না মিললে শহর খালি করতে দিতে হবে।

Water Refinary

ইরান যে শুধু বিশ্বের তেলের বাজারকেই লণ্ডভণ্ড করে থামবে না, সে বিষয়ে সতর্ক করল রাষ্ট্রসংঘ। রাষ্ট্রসংঘের আধিকারিক কাভেহ মাদানি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন,

  • আগামী কয়েকদিনে ইরান টার্গেট করবে জল পরিশোধনাগার
  • মধ্য প্রাচ্যের সবচেয়ে বড় শোধনাগারকে লক্ষ্য করে হামলা হবে
  • মরু শহরগুলির জলের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে তেহরান
  • পানীয় জলের সঙ্কট তৈরি করে আন্তর্জাতিক ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা
  • আমেরিকা ও ন্যাটো-র উপর চাপ বাড়িয়ে জল সঙ্কটের পরিস্থিতি হবে

গত রবিবার ট্রাম্প ইরানি নেতৃত্বকে ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন বেঁধে হুমকি দেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের পরিকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেবে মার্কিন সেনা। তারই পাল্টা এবার দিল IRGC। ইরানি সেনা বিবৃতি দিয়ে পাল্টা হুমকি দিয়েছে, তেহরানের জ্বালানি ও শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র আক্রান্ত হলে মধ্য প্রাচ্যে আমেরিকার সব সেনা ঘাঁটি তো বটেই, ইনফরমেশন টেকনোলোজি সেন্টার ও জল শোধনাগারগুলি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রসংঘের আশঙ্কা, মধ্য প্রাচ্যে সাধারণ মানুষের জন্য নির্মিত পরিকাঠামোয় হামলা চালাতে পারে ইরান। হামলা হতে পারে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, পাম্পিং স্টেশন ও পাইপ লাইনে। যদি সত্যি এমনটা হয় তাহলে তার ফল মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। ইজরায়েল ও আমেরিকা কিন্তু ইতিমধ্যেই ইরানের কাশিম আইল্যান্ডের জল পরিশোধনাগার হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে IRGC। কাভেহ মাদানির সতর্কবার্তা, যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে ইরানের লক্ষ্য এখন আর শুধু মার্কিন সেনাঘাঁটি নয়। বরং যেখানে আঘাত করলে আমেরিকা ও ট্রাম্পের সবচেয়ে বেশি রক্তক্ষরণ হবে, সেই সব পরিকাঠামোয় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। আর তাই এবার টার্গেট নিরীহ নাগরিকদের পানীয় জল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *