Crude Oil Price Hike: ১০৭ ডলারে পৌঁছে গেল অপরিশোধিত তেলের দাম! এক মাস পর না খেয়ে থাকতে হবে?

নয়া দিল্লি: যুদ্ধের আঁচ ও ঝাঁঝে নাজেহাল মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষ। ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাতের মাশুল গুনতে হচ্ছে ভাত-ডাল খাওয়া আম আদমিকে। ঘুম উড়িয়েছে রান্নার গ্য়াসের দাম বৃদ্ধি ও সঙ্কট। পেট্রোল-ডিজেলের দামও বাড়ছে। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বাড়ল। অপরিশোধিত ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেল ফের একবার। এখন ব্যারেল প্রতি ক্রুড তেলের দাম ১০৭ ডলার।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায়, দেশীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়তে চলেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এলপিজি সহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দাম আবারও বাড়তে চলেছে।
তেলের এই ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতও দিচ্ছে। রেকর্ড বলছে, যখনই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের উপরে ওঠে, তখন দাম এই স্তরের নিচে নামতে কয়েক মাস সময় লাগে। এর অর্থ হল, সস্তায় অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে। অতীতের তথ্য ও প্রবণতা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে তেলের দাম ৮০ ডলারের নীচে নামতে প্রায় এক বছর সময় লাগে।
এই কারণেই ক্রমবর্ধমান তেলের দাম বাজারে ভীতি ছড়াচ্ছে এবং অস্থিরতা তৈরি করছে। যখন তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকে, তখন এর প্রভাব শুধু পেট্রোল ও ডিজেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরকে প্রভাবিত করে।
৩৫ বছরে চতুর্থবারের মতো তেলের দাম ৮০ ডলার ছাড়িয়েছে-
ব্রোকারেজ হাউস অ্যামবিটের একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩৫ বছরে এই নিয়ে চতুর্থবার অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০ ডলারের উপরে উঠছে। এর আগে ২০০৭-০৮, ২০১০-১৪ এবং ২০২১-২৩ সালে এমনটি ঘটেছিল এবং প্রতিবারই দীর্ঘ সময় ধরে দাম বেশি ছিল। যখনই তেলের দাম ৮০ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করে, তা ১২ মাস বা তারও বেশি সময় ধরে সেই স্তরের নিচে নামে না। সাম্প্রতিক সময়েও প্রায় ১৯ মাস ধরে অপরিশোধিত তেলের দাম চড়া ছিল। এই প্রবণতার ভিত্তিতে অনুমান করা যায় যে, শুক্রবার প্রায় ১০৭ ডলারে পৌছে যাওয়া ক্রুড তেলের দাম শীঘ্র কমবে না।
ব্রোকারেজ সংস্থার তথ্য অনুসারে, বৈশ্বিক পণ্য সূচকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে ভারতের বিশ্ব মূল্য সূচককে (WPI) ৫.৭ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে। মূল্যস্ফীতির উপর তেলের দামের প্রভাব সাধারণত এক মাস দেরিতে দেখা যায়।