পূজার সময় প্রদীপ জ্বালানো কি কেবলই প্রথা? জানুন সঠিক নিয়ম এবং কোন ভুলগুলো ডেকে আনতে পারে অমঙ্গল - 24 Ghanta Bangla News
Home

পূজার সময় প্রদীপ জ্বালানো কি কেবলই প্রথা? জানুন সঠিক নিয়ম এবং কোন ভুলগুলো ডেকে আনতে পারে অমঙ্গল

পূজার সময় প্রদীপ জ্বালানো কি কেবলই প্রথা? জানুন সঠিক নিয়ম এবং কোন ভুলগুলো ডেকে আনতে পারে অমঙ্গল

হিন্দুধর্মে প্রতিটি ঘরেই প্রতিদিন দেব-দেবীর আরাধনা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠাভরে পূজা করলে ঈশ্বর প্রসন্ন হন এবং তাঁর আশীর্বাদে সংসারে সুখ, শান্তি ও ইতিবাচকতা বজায় থাকে। শাস্ত্র মতে, প্রদীপ প্রজ্বলন ছাড়া যেকোনো পূজাই অসম্পূর্ণ। কিন্তু প্রদীপ জ্বালানো কেবল একটি প্রথা নয়; এর পেছনে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য। প্রদীপের শিখাকে জ্ঞান এবং সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

আমরা প্রায় সবাই পূজার সময় প্রদীপ জ্বালি, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক নিয়ম না জানায় অজান্তেই কিছু ভুল করে ফেলি। বাস্তুশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, প্রদীপ জ্বালানোর নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে যা মেনে চললে শুভ ফল পাওয়া যায়।

ঘিয়ের প্রদীপ: গরুর ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালালে সেটি দেবতার ডান দিকে রাখা শুভ বলে মনে করা হয়। ঘিয়ের প্রদীপের ক্ষেত্রে সাদা তুলার সলতে ব্যবহার করা উচিত।

তেলের প্রদীপ: সর্ষের তেল বা তিলের তেলের প্রদীপ জ্বালালে সেটি দেবতার বাম দিকে রাখা উচিত। এক্ষেত্রে লাল সুতো বা ‘কালাভা’ দিয়ে তৈরি সলতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

সঠিক দিক: বাস্তুশাস্ত্রমতে, প্রদীপ জ্বালানোর জন্য উত্তর দিক বা ঈশান কোণ (উত্তর-পূর্ব) সবচেয়ে উত্তম। প্রদীপের শিখার মুখ সবসময় পূর্ব বা উত্তর দিকে থাকা উচিত।

বর্জনীয় দিক: প্রদীপের শিখা কখনোই দক্ষিণ বা পশ্চিম দিকে রাখা উচিত নয়। এছাড়া প্রদীপ জ্বালানোর আগে অবশ্যই হাত ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন:

সরাসরি সামনে নয়: পূজার সময় প্রদীপটি কখনোই দেবতার মূর্তির একেবারে মাঝখানে বা ঠিক সামনে রাখবেন না। সেটি সামান্য পাশে রাখা শ্রেয়।

পরিচ্ছন্নতা: প্রদীপ যেন সবসময় পরিষ্কার থাকে। নোংরা বা পুরোনো পোড়া সলতে যুক্ত প্রদীপ ব্যবহার করবেন না।

পর্যাপ্ত জ্বালানি: প্রদীপে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘি বা তেল দিন যাতে পূজার মাঝপথে প্রদীপটি নিভে না যায়। পূজার মাঝে প্রদীপ নিভে যাওয়া অশুভ বলে মানা হয়।

খণ্ডিত প্রদীপ: কোনো অবস্থাতেই ফেটে যাওয়া বা ভেঙে যাওয়া (খণ্ডিত) প্রদীপ পূজায় ব্যবহার করবেন না।

শাস্ত্রীয় এই ছোটখাটো নিয়মগুলো মেনে চললে গৃহকোণ যেমন ইতিবাচক শক্তিতে ভরে ওঠে, তেমনি আধ্যাত্মিক উন্নতিও ত্বরান্বিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *