Bengal BJP: বাড়ি ফিরে বউদের গাইনো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ পরিযায়ী শ্রমিকদের! তৃণমূলের পোস্ট করা বিজেপি নেতার ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্ক

কলকাতা: একটা ভিডিয়ো, যেখানে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি বলছেন, “যাহ যাহ যাহ, তোরা গুজরাট চলে যা, চেন্নাই যা, সারাদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা রোজগার করে বাড়িতে পাঠা, আর এদিকে দেখ বাড়ির বউটা দিঘা চলে যাচ্ছে, উন্নয়নের পাঁচালি পড়তে, দীক্ষা নিতে, কোন হোটেলে দীক্ষা নিচ্ছে, কতক্ষণ দীক্ষা নিচ্ছে, বাড়িতে এসে বউকে হয়তো গাইনো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে!” আর এই ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে তৃণমূল। আর সেই ভিডিয়োর ক্যাপশন, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়া নিয়ে অশ্লীল আক্রমণ। কে করেছেন? অভিযুক্ত একজন বিজেপি নেতা। নাম প্রলয় পাল! তিনি নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা! তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা কাজের জন্য বাইরে গিয়েছেন, তাঁদের স্ত্রীদের সম্ভ্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্ততপক্ষে এই ভিডিয়োতে যা দেখা যাচ্ছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি TV9 বাংলা।
আর এই বিষয়টিকেই ইস্যু করেছে তৃণমূল। তৃণমূল পোস্টে লিখেছে, “নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পালের দাবি, যে সকল মহিলার স্বামী অন্য রাজ্যে কাজ করেন, সেই মহিলাদের সতীত্ব প্রমাণ করার জন্য গাইনোকোলজিক্যাল টেস্ট অর্থাৎ স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা করাতে হবে। আসলে বিজেপির ভারতে, যে সকল মহিলা ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ পাঠে অংশ নেন বা দিঘার জগন্নাথ ধামে যান, তাঁদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়। কারণ, বিজেপির দুনিয়ায় একজন মহিলার চরিত্র সর্বদা প্রশ্নের মুখে থাকে এবং তাঁর শরীর সর্বদা পরীক্ষা, বিচার এবং প্রকাশ্যে অপমানের জন্য উন্মুক্ত!”
বিজেপি বরাবরই নারী নির্যাতনের অভিযোগ তুলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে বলেও প্রাক নির্বাচনী আশ্বাস দিচ্ছে বিজেপি। তার মধ্যেই তাঁদের দলের নেতার এহেন মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ভোট এসে গিয়েছে, শাসক-বিরোধী নেতৃত্ব একে অপরের দিকে আক্রমণ শানাচ্ছে। তবে এহেন মন্তব্য, কিংবা আক্রমণ রাজনীতির ইতিহাসেও ‘বিরল’ বলছেন বিশ্লেষকরা। আর স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়টা নিয়ে ইস্যু করছে তৃণমূল। তৃণমূল নেতৃত্বে বক্তব্য, “বিজেপি আসলে চায়, মহিলারা তাঁদের সতীত্ব প্রমাণ করতে “অগ্নিপরীক্ষা” দিক।”
এহেন ভিডিয়ো সামনে আসতে স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে বিজেপি। বিজেপি নেতা সজল ঘোষের বক্তব্য, “এখন এআই-এর যুগে সব সম্ভব। তৃণমূল AI দিয়ে এই ধরনের ভিডিয়ো বানিয়েছে নাকি দেখতে হবে। তবে এই ধরনের মন্তব্য কখনই সমর্থনযোগ্য নয়।”