Iran-Israel War: ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধে কীভাবে দু’কুল ব্যালেন্স করে চলবে ভারত? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Iran-Israel War: ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধে কীভাবে দু’কুল ব্যালেন্স করে চলবে ভারত?

Spread the love

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে ভারতের সামনে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আলোচনা শুরু করার আগে দু’টি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। প্রথমত, যুদ্ধ এখনই থামার সম্ভাবনা নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, সংঘাত চলবে। ইরান ভেনেজুয়েলার মতো দ্রুত ভেঙে পড়ার দেশ নয়। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর আত্মসমর্পণ তো দূরের কথা, বরং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাবও মারাত্মক হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ঐতিহাসিকভাবে ইরান এবং ইজরায়েল—দু’দেশই ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। খামেনেই কখনও প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী মন্তব্য করেননি। ভবিষ্যতে পাকিস্তান ইস্যুতে ইরানের সমর্থন ভারতের দরকার হতে পারে। তেলের ক্ষেত্রেও ইরান গুরুত্বপূর্ণ। আবার অন্যদিকে ইজরায়েলের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইজরায়েল সফর করেছেন। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ইজরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। তাই এই পরিস্থিতি ভারতের কাছে কার্যত ‘টাইট রোপ ওয়াক’। সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও যুদ্ধের প্রভাব সামলাতে হবে দিল্লিকে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে প্রধানত তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

প্রথমত, উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গাল্ফ অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস করেন। এর সঙ্গে রয়েছেন কাজের সূত্রে নিয়মিত যাতায়াত করা মানুষও। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দুবাই, আবুধাবি এবং দোহা বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক ভারতীয় আটকে পড়েছেন। দেশে ফিরতে চাইলেও আপাতত উপায় নেই। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হলে অতীতের মতো আবারও উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে পারে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই জানিয়েছেন, ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাল্ফ দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে নয়াদিল্লি।

দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ তেলের সরবরাহ। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান বা কাতার—যে দেশ থেকেই ভারত তেল আমদানি করুক না কেন, তা মূলত এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। পারস্য উপসাগর থেকে আরব সাগরে প্রবেশের কার্যত একমাত্র পথ এটি। ফলে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে যখন সৌদি আরব বা আমিরশাহির মতো বড় তেল উৎপাদক দেশও ইরানি হামলার মুখে পড়েছে।

তবে আপাতত কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ভারতীয় তেল আমদানিকারী সংস্থাগুলি অনেক ক্ষেত্রেই অশোধিত তেল আগাম চুক্তির মাধ্যমে কিনে রেখেছে। ফরওয়ার্ড মার্কেটের এই চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর আগেই ঠিক করা দামে তেল সরবরাহ করা হয়। ফলে স্বল্পমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও তার পুরো প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে পড়বে না। কিন্তু এই ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি নয়। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে সরবরাহে বিলম্ব হওয়া আটকানো যাবে না। সেই ক্ষেত্রে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিকল্পও খোলা রাখতে পারে ভারত। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে রুশ তেলের ট্যাঙ্কার ভারতমুখী হলে যুক্তরাষ্ট্রও আপাতত কড়া আপত্তি নাও জানাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃতীয় বড় চ্যালেঞ্জ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। ইরান প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে দেশে কোনও ধরনের উস্কানি বা অশান্তি যাতে না ছড়ায়, সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারগুলিকে সতর্ক করেছে কেন্দ্র। পাকিস্তানে এই ইস্যুতে সাম্প্রতিক অশান্তিতে দশজনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে জম্মু-কাশ্মীর, লখনউ এবং কর্নাটকের কিছু এলাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। উল্লেখ্য, আশির দশকে যুবক বয়সে আলি খামেনেই কর্নাটক সফরও করেছিলেন। কাশ্মীরে ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সুন্নি অধ্যুষিত দেশ হলেও পাকিস্তান এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। ফলে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের জন্য কূটনীতি, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা—তিন ক্ষেত্রেই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *