বাবরকে দলে নেওয়া নিয়ে ক্ষোভ, বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান নির্বাচকের পদত্যাগ! – Bengali News | Anger over babars inclusion in the squad pakistan selector resigns after the world cup
কলকাতা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায়ের পরই দেশটির ক্রিকেটে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। দলের ব্যর্থতার জেরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে বড় ধাক্কা খেয়েছে। পাকিস্তানের নির্বাচক ও প্রাক্তন আন্তর্জাতিক আম্পায়ার আলিম দার পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন বলে খবর। যদিও পিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করেনি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপের দল গঠন নিয়ে প্রধান কোচ মাইক হেসনের সঙ্গে মতবিরোধই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। বিশ্বকাপের জন্য দল বাছাইয়ের সময় হেসনকে সম্পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল এবং নির্বাচক কমিটির মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। নির্বাচক কমিটিতে আলিম দারের পাশাপাশি ছিলেন আসাদ শফিক ও আকিব জাভেদ।
বাবর আজম ও শাদাব খানকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করেছিলেন আলিম দার। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের দলে নেওয়া ঠিক হয়নি। কিন্তু প্রধান কোচ হেসন, তাঁদের দলে রাখার ব্যাপারে অনড় ছিলেন। বিশ্বকাপে বাবর আজমের পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক। পাঁচ ম্যাচে তিনি মাত্র ৯০ রান করেন। দু’টি ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগই পাননি তিনি, এমনকি ব্যাটিং অর্ডারেও তাঁকে নিচে নামানো হয়। হেসন নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে বিশ্বকাপে বাবরের স্ট্রাইক রেট সন্তোষজনক ছিল না। ফলে দলের ব্যাটিং বিভাগে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল।
শুধু বাবর ও শাদাব নয়, দল নির্বাচনে অভিজ্ঞ উইকেটকিপার ও ব্যাটার মহম্মদ রিজওয়ানকে না নেওয়াতেও আপত্তি ছিল দারের। তাঁর প্রশ্ন ছিল, যদি পারফরম্যান্স ছাড়াই কিছু ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে রিজওয়ানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে কেন দলে রাখা হল না? তিনি উসমান খানের পরিবর্তে রিজওয়ানকে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে নির্বাচক কমিটির অন্য সদস্যরা তাঁকে সমর্থন করেননি। সালমান আলি আগার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল সুপার এইট পর্বেই বিদায় নেয়। একটি ম্যাচে হার ও একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় নেট রান রেটের নিরিখে তারা নিউজিল্যান্ডকে টপকাতে পারেনি। সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও দল নির্বাচন ও কোচের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আলিম দারের পদত্যাগ সেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এখন দেখার, পিসিবি কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভবিষ্যতে দল গঠনের প্রক্রিয়ায় কোনও পরিবর্তন আনে কি না।