ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য! – Bengali News | Donald trumps stern remarks on irans participation in the world cup
কলকাতা: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র বাকি ১০০ দিনেরও কম। কিন্তু এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল ইরানের অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে স্পষ্ট ও কঠোর মন্তব্য করেছেন। ইরান আদৌ উত্তর আমেরিকায় এসে বিশ্বকাপে খেলবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি সত্যিই পরোয়া করি না।” তাঁর কথায়, “ইরান একটি পরাজিত দেশ। তারা এখন একেবারে নিঃশেষ অবস্থায় চলছে।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ককেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক যৌথ মার্কিন-ইজরায়েলি সামরিক হামলার পর দুই দেশের কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বেড়েছে। যদিও আগে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে ক্রীড়াবিদ ও টিম স্টাফদের জন্য কিছু ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের অগ্রাধিকারে বিশ্বকাপ নেই বলেই মনে হচ্ছে। এদিকে তেহরানেও পরিস্থিতিও ভালো নয়। ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেডি তাজ বলেছেন, বর্তমান পরিবেশ খেলাধুলার চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলাকে “নৃশংস” আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই আক্রমণের পর আমরা কীভাবে আশা করবো যে বিশ্বকাপ হবে?” যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কটের ঘোষণা আসেনি, তবু ইরানের ক্রীড়া কর্তারা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন। সম্প্রতি আটলান্টায় অনুষ্ঠিত একটি ফিফা প্রস্তুতি কর্মশালায় ইরানি প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।
ড্র অনুযায়ী, ইরান গ্রুপ ‘জি’তে রয়েছে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশরের সঙ্গে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু হওয়ার কথা। ২১ জুন একই শহরে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। শেষ গ্রুপ ম্যাচ ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে। অনেকের মতে, যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নিজ নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে, তবে ৩ জুলাই ডালাসে নকআউট পর্বে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়া এবার বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চেও পড়তে চলেছে। এখন দেখার, ইরান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেয় কি না।