SIR: আদালতে দোষী সাব্যস্ত, কমিশনে গ্রিন সিগন্যাল! কোন 'জাদু'তে নাম তুললেন লাভলি খাতুন - Bengali News | Sir Controversial Lovely Khatun's name is on the voter list - 24 Ghanta Bangla News
Home

SIR: আদালতে দোষী সাব্যস্ত, কমিশনে গ্রিন সিগন্যাল! কোন ‘জাদু’তে নাম তুললেন লাভলি খাতুন – Bengali News | Sir Controversial Lovely Khatun’s name is on the voter list

Spread the love

মালদহ: তাঁকে ঘিরে বিস্তর অভিযোগ, হাজারও বিতর্ক। অভিযোগ ছিল বাংলাদেশ থেকে এসে এখানে জাল ওবিসি সার্টিফিকেট বানিয়ে কেবল নাগরিক নয়, এদেশের নির্বাচনেও লড়েছিলেন তিনি। লাভলি খাতুন। মালদহের রসিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত প্রধানও ছিলেন তিনি। যার জল গড়ায় আদালতে। দোষী সাব্যস্তও হন তিনি। মামলা মোকদ্দমার পর তাঁর প্রধানের পর খারিজও হয়ে যায়। তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের পদ থেকেও সরতে হয়েছে তাঁকে। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে রসিদাবাদের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান লাভলি খাতুনের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় থাকবে কি না, তা নিয়ে জল্পনাও চলছিল। মঙ্গলবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল লাভলি খাতুনের নাম বাদ যায়নি।

কেন নাম বাদ গেল না? কী বলছেন ওই বুথের বিএলও?

লাভলির আসল নাম নাসিয়া শেখ। অভিযোগ, পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে তিনি ভারতে ঢোকেন। তারপর নিজের পূর্ব পরিচয় মিটিয়ে ফেলেন। বাবার নামও বদলান। ২০১৫ সালে ভারতে তাঁর ভোটার কার্ড ইস্যু হয়। ২০১৮ সালে ইস্যু হয় বার্থ সার্টিফিকেট। জানা গিয়েছে, নথিতে নাসিয়ার বাবার নাম শেখ মুস্তাফা। কিন্তু অভিযোগ, লাভলির বাবার নাম শেখ মুস্তাফা নয়। আসল নাম জামিল বিশ্বাস। কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও হয়। পরে লাভলি খাতুনকে পঞ্চায়েত প্রধানের পদ থেকে সরানো হয়।

এসআইআর শুরু হওয়ার পর লাভলি খাতুন এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। অভিযোগ ওঠে, বিএলও-কে চাপ দিয়ে এনুমারেশন ফর্ম জমা করা হয়। আর এদিন খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, লাভলি খাতুনের নাম বাদ যায়নি। মালদহ জেলায় ২ লক্ষেরও বেশি নাম বাতিল হয়েছে। ইংরেজবাজারেও প্রায় ২৪ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। ইংরেজবাজার এবং পুরাতন মালদহ পৌর এলাকাতেও বহু নাম বাদ গিয়েছে। এমনকি হঠাৎ করেই কিছু এলাকায় উধাও হয়েছে বহু পরিবার।

এদিন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দাবি করা হচ্ছে, প্রকৃত ভোটারের নামও কোনও না কোনও ভুলে বাদ চলে গিয়েছে। আর এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশি হওয়ার যাবতীয় তথ্য প্রমাণ থাকা সত্বেও লাভলি খাতুনের নাম বাতিল হল না কেন?

ওই বুথের বিএলও মুজিবর রহমান বলেন, “লাভলি খাতুনের ফর্ম সাবমিট করা হয়েছিল। আমার বুথে ৩৪ জনের নাম বাদ গিয়েছে। লাভলি খাতুনের নাম বাদ যায়নি। আমি শুধু ফর্ম নিয়েছিলাম। তিনি ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছিলেন। আমাকে নথি যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। উনি ফর্ম পূরণ করে যা দিয়েছেন, সেটাই নিয়েছি। সবার এভাবেই ফর্ম জমা নিয়েছি।” বিএলও-র বক্তব্য, এবার কী করবে, সেটা সরকার জানে।

স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “ভোটার লিস্টে নাম তোলাটা এতদিন তৃণমূলের কাছে খুব একটা কঠিন বিষয় ছিল না। কমিশনের কোথাও যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে, সেটা শোধরাবে। কিছু ট্রায়াল অ্যান্ড এরর থাকবেই। লাভলি খাতুনের নাম পাঠিয়েছে বিএলও-রাই। কমিশন তো লাভলিও চেনে না, বিউটিও চেনে না।”

যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনই বলতে পারবে, যাঁর নাম বাদ পড়া উচিত, তাঁর নাম কেন তালিকায় থাকল? এবিষয়ে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর বক্তব্য, “লাভলি খাতুনের জাল নথি প্রমাণিত। সেই বিএলও কীভাবে সেই নথি গ্রহণ করল? কীভাবে এখানকার ভোটার লিস্টে নাম থাকল?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *