High Court: ‘গৃহবধূর পরিশ্রম কোনও ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টে বিচার হয় না’, বাড়ির কাজে জোটে না স্বীকৃতি, মনে করিয়ে দিল হাইকোর্ট – Bengali News | High Court reminds work of housewives, says they are not idle
নয়া দিল্লি: সমাজ মহিলাদের চাকরিজীবী আর গৃহবধূ- এই দু ভাগে ভাগ করে থাকে। চাকরিজীবী মহিলারা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে টাকার বিনিময়ে কাজ করে আসে আর গৃহবধূরা বাড়ির মধ্যে থেকে যে কাজ করে, তার না আছে পারিশ্রমিক, না আছে স্বীকৃতি। অনেক গৃহবধূই এনিয়ে আক্ষেপ করে থাকে। এবার সেই গৃহবধূদের গুরুত্ব মনে করিয়ে দিল দিল্লি হাইকোর্ট।
আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, একজন মহিলা গৃহবধূ হিসেবে বাড়ির কাজকর্ম করেন বলেই তাঁর স্বামী নিশ্চিন্তে বাড়ির বাইরে কাজ করতে পারেন। তাই তাঁদের কাজকে অসম্মান করা উচিত নয় বলে উল্লেখ করল হাইকোর্ট।
একটি বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় এই প্রসঙ্গ উঠে আসে। ওই মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট স্ত্রীর খোরপোষের দাবি খারিজ করে দেয়। যথেষ্ট শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও কেন স্ত্রী চাকরি না করে বাড়িতে থাকেন, এই প্রশ্ন তুলে খারিজ করে দেয় নিম্ন আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই মামলা হয় দিল্লি হাইকোর্টে।
বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা বলেন, “শুধুমাত্র রোজগার করার ক্ষমতা আছে বলে এভাবে একজন স্ত্রীকে বঞ্চিত করা যায় না। যে নারী বছরের পর বছর, তার সময় দিয়ে, পরিশ্রম দিয়ে পরিবার গড়ে তুলেছে, তাকে যেন আর্থিকভাবে বঞ্চিত হতে না হয়।” গৃহবধূর রোজগার না থাকলেও, তার আর্থিক গুরুত্ব কম নয় বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি।
স্বামীর চাকরি, ট্রান্সফারের জন্য একজন গৃহবধূকে যেভাবে মানিয়ে নিতে হয়, যেভাবে সন্তানকে মানুষ করতে হয়, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি। তিনি বলেন, “এই পরিশ্রম কোনও ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টে থাকে না, কোনও ট্যাক্সেবল আয় আনে না, কিন্তু পরিবারের ভিত্তি তৈরি করে।” গৃহবধূরা যে কাজের জন্য টাকাও পায় না, স্বীকৃতিও পায় না, সে কথাও উল্লেখ করে আদালত। তাঁদের কোনওমতেই আইডল বা অলস বলা যাবে না বলেও মন্তব্য করেছে আদালত। নিম্ন আদালতের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।