নিজের ফ্ল্যাটেই পড়ে ছিল নিথর দেহ, প্রয়াত হৃতিক রোশনের ‘মাস্টারমশাই’ পরিচালক এম এম বেগ – Bengali News | Director mm baig who helped hrithik roshan with diction found dead at mumbai home
মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার প্রবীণ চিত্রপরিচালক এবং বলিউডের একসময়ের জনপ্রিয় শিশুশিল্পী ‘বেবি গুড্ডু’র বাবা এম এম বেগের পচাগলা দেহ। আশির দশকের এক উজ্জ্বল নাম এম এম বেগের মৃত্যুতে শোকের ছায়া টিনসেল টাউনে। সত্তরের কোঠায় বয়স হওয়া এই পরিচালক গত কয়েকদিন ধরেই একাকীত্ব ও অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
বেগের জনসংযোগ আধিকারিক হানিফ জাভেরি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে (PTI) জানান, গত ৪-৫ দিন ধরে বাড়ির বাইরে দেখা যায়নি তাঁকে। বুধবার তাঁর ফ্ল্যাট থেকে পচা গন্ধ আসায় প্রতিবেশিরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং মুম্বইয়ের কুপার হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। হানিফ জানান, বেগ সাহেব বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন এবং একাই থাকতেন।
বলিউড সুপারস্টার হৃতিক রোশনের কেরিয়ারের শুরুর দিকে তাঁর বড় অবদান ছিল। হানিফ জাভেরি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “রাকেশ রোশনের সঙ্গে এম এম বেগের অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। ২০০০ সালে ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে হৃতিকের অভিষেকের অনেক আগে থেকেই তিনি হৃতিককে বাচনভঙ্গি, ভয়েস মডুলেশন এবং সংলাপ বলার কৌশল শিখিয়েছিলেন।” হৃতিকের আজকের সফল বাচনভঙ্গির নেপথ্যে বেগের শিক্ষা অনস্বীকার্য।
এম এম বেগ তাঁর কেরিয়ার শুরু করেছিলেন জে ওম প্রকাশ, বিমল কুমার এবং রাকেশ রোশনের সহকারী হিসেবে। ‘আদমি খিলোনা হ্যায়’ (১৯৯৩), ‘জ্যায়সি করনি বৈসি ভরনি’ (১৯৮৯), ‘কিষাণ কানহাইয়া’ (১৯৯০)-র মতো ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে তিনি শিল্পা শিরোদকর অভিনীত ‘ছোটি বহু’ (১৯৯৪) পরিচালনা করেন। এ ছাড়াও নাসিরুদ্দিন শাহকে নিয়ে তিনি ‘মাসুম গাওয়াহ’ নির্মাণ করলেও ছবিটি আলোর মুখ দেখেনি।
এম এম বেগের মেয়ে শাহিন্দা বেগ, যিনি ‘বেবি গুড্ডু’ নামে পরিচিত ছিলেন, আশির দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিশুশিল্পী ছিলেন। ‘নাগিনা’, ‘আখির কিউঁ?’, ‘অওলাদ’-এর মতো একাধিক সফল ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে।
বলিউডের এক গুণী কারিগরের এই নিঃসঙ্গ প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তাঁর সহকর্মীরা। প্রখ্যাত এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন রোশন পরিবার ও বলিউডের বিশিষ্টজনরা।