TMC MLA: উন্নয়নের পাঁচালি শোনাতেই বিধায়ককে পুরনো কথা মনে করালেন গ্রামবাসীরা, বেকায়দায় পড়ে তড়িঘড়ি অ্যাকশন – Bengali News | Villagers reminded of old stories after hearing unnoyoner panchali, MLA in trouble takes hasty action
রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর Image Credit: TV 9 Bangla
বাঁকুড়া: ভোটের আগে স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভোটে জিতলেই প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষের দাবি মেনে শিলাবতী নদীর উপর তৈরি হবে পাকা সেতু। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ভোটে জেতার পর প্রতিশ্রুতি পালন তো দূরের কথা আর সেই গ্রামমুখোই হননি বিধায়ক। সম্প্রতি উন্নয়নের পাঁচালি শোনাতে গ্রামগুলিতে যেতেই বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। আর তাতেই হুঁশ ফিরল বিধায়কের। শিলাবতীর উপর স্থায়ী পাকা সেতু না হোক, সাংসদ উন্নয়ন তহবিলের টাকায় তড়িঘড়ি তৈরি হয়ে গেল কাঁচা সেতু।
বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাদারিয়া, রঘুনাথপুর, ঝমকা, পুঁইপাল সহ ৮ থেকে ১০টি গ্রামের মানুষকে নিত্যদিনের প্রয়োজনে শিলাবতী নদী পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয় অন্য পাড়ে থাকা লক্ষ্মণপুর, উন্তিশোল, হরিহরপুর ও চাকড়াশোল গ্রামে। নদী পারাপারের জন্য মাদারিয়া ঘাটে সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু ৩৪ বছরের বাম জমানা হোক বা ১৫ বছরের তৃনমূল জমানা কোনও আমলেই দাবি পূরণ হয়নি স্থানীয় বাসিন্দাদের। অগত্যা নদীর উপর গ্রামবাসীদের নিজেদের হাতে তৈরি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে এতদিন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলছিল যাতায়াত। বর্ষা এলেই সেই সাঁকো ভেসে যেত নদীর জলে। ফলে তখন মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে নৌকায় পারাপারই ছিল একমাত্র ভরসা।
২০২৪ সালের উপ নির্বাচনে স্থানীয় মাদারিয়া গ্রামে প্রচারে গেলে তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহ বাবুর কাছে মাদারিয়া নদী ঘাটে পাকা সেতুর দাবি জানান মাদারিয়া গ্রামের মানুষেরা। প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ ভোট মিটতেই বিধায়ক আর মাদারিয়া গ্রামমুখো হননি। গত ১৭ জানুয়ারি বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহ বাবু দলের দেওয়া কর্মসূচি অনুযায়ী মাদারিয়া গ্রামে উন্নয়নের পাঁচালি শোনাতে যান। বিধায়ককে কাছে পেয়ে তাঁকে ঘিরে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন মাদারিয়া গ্রামের মানুষ। আর তাতেই টনক নড়ে বিধায়কের। বিধানসভা ভোটের মুখে এলাকার মানুষের প্রবল ক্ষোভের আঁচ পেয়ে তড়িঘড়ি সাংসদ উন্নয়ন তহবিলের টাকা বরাদ্দ করিয়ে মাদারিয়া নদী ঘাটে হিউম পাইপ বসিয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরির কাজ শুরু করেন। মোরাম দিয়ে তৈরি হয় সেতুর সংযোগকারী অস্থায়ী রাস্তাও। অস্থায়ী এই সেতু মিললেও স্থানীয়দের দাবি বর্ষায় এই সেতু জলের তোড়ে ভেসে যাবে। তাই দরকার পাকা সেতু।
শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের সংসদ উন্নয়নের তহবিলের টাকা খরচ করে এই অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করে নাম কুড়োতে চাইছেন বিধায়ক। সেতু নির্মাণ এতটা সহজ হয়ে থাকলে কেন তা আগে হল না? এই অস্থায়ী সেতুর ভবিষ্যতই বা কী? প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার কটাক্ষের সুরেই বলছেন, দোরগোড়ায় ভোট। তার আগে মানুষের ক্ষোভ সামাল দিতেই তৃণমূল বিধায়কের এমন উদ্যোগ। অন্যদিকে ফাল্গুনী সিংহ বাবু বলছেন, মানুষের পাকা সেতুর দাবির কথা তিনি মেনে নিয়েছেন। তাঁর দাবি আপাতত এই সেতুই এলাকার মানুষের সমস্যা মেটাবে। বর্ষায় সেতু ক্ষতিগ্রস্থ হলে তা পুনরায় সংস্কার করা হবে। তৃণমূল কথা দিয়ে কথা রাখে এই সেতু তারই প্রমাণ।