Malda News: মালদহে 'মাদক শিল্প'! মেশানো হচ্ছে বেবি-ফুডে, পুরিয়া পাচার করছে স্কুলপড়ুয়ারা - Bengali News | From Mangoes to Narcotics: Multi Crore Drug Lab Busted in Malda Using Schoolchildren as Mules - 24 Ghanta Bangla News
Home

Malda News: মালদহে ‘মাদক শিল্প’! মেশানো হচ্ছে বেবি-ফুডে, পুরিয়া পাচার করছে স্কুলপড়ুয়ারা – Bengali News | From Mangoes to Narcotics: Multi Crore Drug Lab Busted in Malda Using Schoolchildren as Mules

মালদহে বিরাট চক্রImage Credit: নিজস্ব চিত্র

মালদহ: স্কুল ব্যাগে যদি মাদকদ্রব্য রেখে দেওয়া হয়? পুলিশের নজর ফাঁকি দেওয়ার এর চেয়ে ভালো উপায় আর কী হতে পারে? শুনতে সিনেমার মতো লাগলেও, মালদহের বুকে আপাতত খুদে ছেলে-মেয়েদের হাত ধরেই তৈরি হয়েছে বিরাট মাদকচক্র। যে মালদহকে আমজনতা চেনে আমের জন্য। সেই মালদহকেই একাংশ চিনেছে ‘সেরা মাদকের’ জন্য। উত্তরবঙ্গের বুকে রীতিমতো শিল্পের আকার নিয়েছে মাদক ব্যবসা। অন্য রাজ্য থেকে কাঁচামাল এনে মাদক তৈরি হচ্ছে মালদহে।

ইংরেজবাজার এলাকার কুমারপুর। সাদামাটা আর পাঁচটা গ্রাম্য এলাকার মতোই এই জায়গা। কিন্তু কে বলবে, এই কুমারপুরের তলপেটেই গড়ে উঠেছে বিরাট মাদকচক্র? সম্প্রতি এই কুমারপুরেই তল্লাশি চালিয়ে একটি কারখানা থেকে ১৭ কোটি টাকার ব্রাউন সুগার উদ্ধার করেছে মালদহ জেলা পুলিশ। উত্তর-পূর্বের রাজ্য — অসম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড থেকে উত্তরবঙ্গের মালদহে এসে পৌঁছয় মাদক তৈরির কাঁচামালা। তারপর সেই কাঁচামাল দিয়েই তৈরি হয় নানাবিধ মাদক সামগ্রী। আমের ফলনের বিখ্যাত মালদহ এখন ফলায় মাদকও। কুমারপুরের মতোই গুপ্ত কারখানায় মাদক তৈরির পর তা সরাসরি চলে যায় পূর্ব ভারতে।

কিন্তু চক্রের সূত্রপাত কোথা দিয়ে? কারাই বা ধারাবাহিকভাবে এখনও চক্রটাকে ধরে রেখেছে? কাদের হাত ধরেই বা চলছে পাচারকাজ? বর্তমানে বাংলায় আন্তঃরাজ্য মাদক চক্রের পাণ্ডা একজনই, নাম এনারুল শেখ। গত জানুয়ারি মাসেই কলকাতার এন্টালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই মাদক কারবার করেই হাজার-হাজার কোটি টাকারও বেশি মুনাফা তৈরি করেছেন অভিযুক্ত।

তবে এনারুল একা নন, সম্প্রতি তাঁকে জেরা করেই আরও কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে গোয়া থেকেও। এদিন মালদহ জেলার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ইতিমধ্য়ে মণিপুর, বিহার, ঝাড়খণ্ড-সহ নানাবিধ রাজ্য থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছি। শুধুই তো প্যাকেট-প্যাকেট মাদক পাচার হচ্ছে এমন নয়। ছোট ছোট পুরিয়া করেও স্থানীয় এলাকায় কেরিয়াররা মাদক বিক্রি করছে। আমরা অভিযান চালিয়ে তাঁদেরও অনেককে গ্রেফতার করেছি।”

কিন্তু কেরিয়ার কারা? মালদহ জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদক তৈরির পর সেটিকে লোকালয়ে বিক্রির খাতিরে কেরিয়ার হিসাবে কাজ করছে খুদে স্কুল-পড়ুয়ারা। ১২ থেকে ১৪ বছরের নাবালকদের বাছাই করে এই কাজে ব্য়বহার করছে পাচারকারীরা। বই-খাতার মাঝেই পাচার হয়ে যাচ্ছে হাজার-হাজার টাকার মাদক। কেরিয়ার হিসাবে কাজ করছেন সদ্য মা হয়েছেন এমন মহিলারাও। সেক্ষেত্রে বেবি ফুডের আড়ালেই পাচার হচ্ছে মাদক। কিন্তু বিনিময়ে কী পাচ্ছেন তাঁরা?

কেউ করছেন অর্থের বিনিময়ে। কেউ আবার নেশার টানে। অর্থাৎ ব্রাউন সুগার পাচার করলে মিলছে ব্রাউন সুগার। হিরোইন পাচার করলে মিলছে হিরোইন। এই পাচারচক্র থেকে উদ্ধার হওয়া এক নাবালককে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সে জানায়, “আমাদের টাকা দিত না, পরিবর্তে মাল (পড়ুন মাদক) খাইয়ে দিত।” সব মিলিয়ে ক্ষতি হচ্ছে শৈশবের, ক্ষতি হচ্ছে সমাজের। কিন্তু এই ‘মাদক শিল্প’ ফাঁদ তৈরি হল কীভাবে? সেই উত্তর খুঁজছে পুলিশও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *