মহাদেব পালিয়ে যান! তাই চেন বেঁধে রাখতে হয় ভোলনাথকে, বৃহৎ এই শিবলিঙ্গের ইতিহাস জানেন? – Bengali News | Mota Mahadev of Kolkata: Why Is Lord Shiva Chained Inside Durgeshwar Temple?
শিবকে আমরা চিনি ভোলানাথ নির্লিপ্ত, মুক্তির দেবতা হিসেবে। সেই মহাদেবকেই যদি শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়! ভাবলেই কেমন এক শিহরণ জাগে তাই না? অথচ উত্তর কলকাতায় এমনই এক প্রাচীন মন্দির আছে, যেখানে প্রায় তিনশো বছর ধরে ভক্তদের বিশ্বাস—মহাদেবকে শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখলে তিনি নাকি নিজেই গঙ্গায় চলে যান। প্রায় ১০ ফুট উঁচু ‘মোটা মহাদেব’ এর গল্প জানেন?
স্থানীয়দের দাবি, গোটা কলকাতায় এত বড় শিবলিঙ্গ আর নেই। বিশালাকৃতি এই শিবলিঙ্গের জন্যই তাঁর নাম হয়েছে ‘মোটা মহাদেব’। শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালতে ভক্তদের লোহার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন মহাদেবের আশীর্বাদ পেতে। শিবরাত্রিতে এখানে উপচে পড়ে ভিড়—কারও হাতে দুধ, কারও হাতে গঙ্গাজল, কারও হাতে বেলপাতা।
মন্দিরটির নাম ‘দুর্গেশ্বর মোটা মহাদেব মন্দির ‘ ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, আঠারো শতকের শেষ দিকে, আনুমানিক ১৭৯৪ সালের কাছাকাছি সময়ে হাটখোলার দত্ত পরিবার এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। স্থাপত্যশৈলী আটচালা ধাঁচের এই মন্দির। বাইরে থেকে দেখলে আজ জরাজীর্ণ, পলেস্তারা খসে পড়েছে, বটগাছের ঝুরি নেমে এসেছে দেয়াল বেয়ে। তবু ভেতরে ঢুকলেই এক অন্য আবহ।
এই মন্দিরকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—লোহার মোটা শিকল। জনশ্রুতি বলছে, বহু বছর আগে একদিন গর্ভগৃহের দরজা খুলে দেখা যায়, শিবলিঙ্গ নাকি স্থানচ্যুত। পরে গঙ্গা থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই মহাদেবকে শিকল দিয়ে ‘বেঁধে’ রাখা হয়, যাতে তিনি আর না যেতে পারেন। ভক্তদের বিশ্বাসে আজও ৩০০ বছর ধরে মহাদেব এই মন্দিরে বিরাজ করছেন।
মন্দিরের পুরোহিতরা অবশ্য একে অলৌকিক ঘটনা বলে মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, এটি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া কাহিনি। তবে মন্দির প্রাঙ্গণে বহু পুরনো বিশাল লোহার শিকল আজও পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করে। ঐতিহাসিক প্রমাণ না মিললেও ভক্তদের বিশ্বাস আজও অটুট।
আরও একটি প্রশ্ন বহু ভক্তের—মন্দিরের দরজা তুলনায় ছোট, অথচ শিবলিঙ্গ বিশাল। এত বড় বিগ্রহ ভেতরে এল কীভাবে? অনেকের ধারণা, শিবলিঙ্গটি আগে থেকেই সেখানে ছিল, পরে তাকে ঘিরেই মন্দির গড়ে ওঠে। যদিও এ নিয়ে লিখিত প্রমাণ খুব সীমিত।
শিবরাত্রিতে এখানে ভোর থেকে শুরু হয় বিশেষ পূজা। মঙ্গলারতি, ভোগ আরতি, সন্ধ্যা আরতি সব মিলিয়ে দিনভর ভক্তদের আনাগোনা। স্থানীয়দের কাছে এই মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, প্রায় তিনশো বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী।