Purulia: পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিককে মহারাষ্ট্রে খুনের অভিযোগ, পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন অভিষেক – Bengali News | Migrant worker from Purulia allegedly killed in Maharashtra, Abhishek Banerjee will meet family on Friday
কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মৃতের পরিজনরাImage Credit: TV9 Bangla
পুরুলিয়া: ভিনরাজ্যে ফের বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে খুনের অভিযোগ। এবার মহারাষ্ট্রে উদ্ধার হল পুরুলিয়ার এক পরিযায়ী শ্রমিকের ক্ষতবিক্ষত দেহ। মৃতের নাম সুখেন মাহাতো (২৮)। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বাংলায় কথা বলাতেই খুন করা হয়েছে সুখেন। পরিযায়ী শ্রমিকের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার ঘিরে বিজেপির বিররুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আগামিকাল (শুক্রবার) মৃতের পরিজনদের সঙ্গে দেখা করতে পুরুলিয়া আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মৃত ওই পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি বরাবাজার ব্লকের তুমড়াশোল গ্রামে। কয়েক বছর আগে বাড়ির তিন ভাই পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে যান মহারাষ্ট্রের পুনেতে। সেখানে একটি বেসরকারি কম্পানিতে কাজ করেন তাঁরা। অন্যান্য দিনের মতো গত ৯ ফেব্রুয়ারি সুখেন কাজে যান। কিন্তু আর ফেরেননি। খোঁজ খবর করতেই পরদিন তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। সুখেনের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছতেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে তাঁর পরিবার-সহ গোটা গ্রাম।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, সুখেন বাংলায় কথা বলায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুখেনের বাবা ধীরেন মাহাতো। মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বুধবার গভীর রাতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা সুখেনের বাড়িতে উপস্থিত হন। আগামিদিনে সমস্ত দিক থেকে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তাঁরা। বান্দোয়ান বিধানসভার বিধায়ক রাজীব লোচন সরেন, পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো বলেন, “খুব নৃশংস ঘটনা। দেহে একাধিক ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্যই সুখেনকে খুন করা হয়েছে। গোটা দেশে যেখানে বিজেপি শাসন করছে, সেখানেই বাংলায় কথা বলার জন্য খুন হতে হচ্ছে। এটা শুধু অভিযোগ নয়, এটা তার প্রমাণ। বিজেপিশাসিত রাজ্যে মানুষ সুরক্ষিত নয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে এখানেও কাজের জন্য আসে মানুষ। এখানে কোনও ঘটনা ঘটছে না। বিজেপি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।”
যদিও বিজেপি এই মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা সেখানকার প্রশাসনকে তদন্ত কর দেখার অনুরোধ করেছে। বিজেপির জেলা মিডিয়া সেলের ইনচার্জ জয়দীপ্ত চট্টরাজ বলেন, “যেদিন থেকে এসআইআর-র কাজ শুরু হয়েছে, সব মৃত্যুকে নিয়ে তৃণমূল রাজনীতি করছে। অতি সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ঘটনায় দেখলাম অন্য রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন, আর বেলডাঙায় ঝামেলা করা হল।” একইসঙ্গে তৃণমূলকে নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন, এই রাজ্য থেকে কেন অন্য রাজ্যে কাজের জন্য যেতে হবে জেলার যুবকদের।
এদিকে, আগামিকাল পুরুলিয়ায় সুখেনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পুরুলিয়া যাওয়ার আগে কলকাতায় এদিন সুর চড়ান রাজ্যের দুই মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও ব্রাত্য বসু। তাঁরা অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই বাংলা বলার জন্য আক্রান্ত হতে হচ্ছে। এদিন আবার রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু বলেন, “পুরুলিয়া জেলা থেকে শ্রমিকরা আর বাইরে যাবেন না। এখানেই কাজ পাবেন।”