Ranji Trophy: দেবাং, মনোজ হওয়া হল না সুদীপের… ১ রানের জন্য মিস ট্রিপল সেঞ্চুরি! – Bengali News | Sudip Gharami scores 299 in Ranji Trophy QF against Andhra.
কলকাতা : টপ অর্ডার ফ্লপ হয়ে গেলেও সুদীপের ব্যাটে ম্যাচে এগিয়ে বাংলা। অন্ধ্রপ্রদেশের ২৯৫ রানের জবাবে বাংলার স্কোর ৬২৯ অল আউট। আপাতত লিড ৩৩৪ রানের। সেমিফাইনালের টিকিট কার্যত পেয়ে গিয়েছে বাংলা। এই কল্যাণীতেই শেষ চারের ম্যাচ খেলবেন অনুষ্টুপ-আকাশ দীপরা। যতবারই বাংলা চাপে পড়েছে, কেউ না কেউ পরিত্রাতার ভূমিকা নিয়ে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন এই মরসুকলকাতা : সারা জীবন আক্ষেপ থাকবে, কেন ব্যাকফুটে গিয়েছিলেন! ফিরে ফিরে আসবে অধরা থেকে যাওয়া ওই মুহূর্তটা। ক্রিকেট এমনই। এক বলের খেলা। এই একটা বলের ছোবলেই এলিট ক্লাবে পা রাখা হল না। মাত্র ১ রানের জন্য থেমে যেতে হল সুদীপ ঘরামীকে। বাংলার হয়ে এর আগে দেবাং গান্ধী পেরেছেন। করে দেখিয়েছেন মনোজ তিওয়ারিও। তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরির মালিক হতে পারতেন সুদীপ। হতে হতেও হল না। সারা ম্য়াচে ওই একবারই ভুল করেছিলেন। আর সেই ভুলের খেসারত দিতে হল তাঁকে। ২৯৯ করে ফিরলেন সুদীপ।
বাংলার রঞ্জিজয়ী ক্যাপ্টেন সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে বলে দিলেন, “যে খেলায় ৩০০ রান করা বিরাট ব্যাপার। খারাপ লাগছে, ও মাত্র এক রানের জন্য ওই ম্যাজিক ফিগারটা ছুঁতে পারল না। ওর সঙ্গে আমারও আক্ষেপ থাকবে। তবে এই ইনিংসটা অসাধারণ খেলেছে। রঞ্জির নকআউট পর্যায়ে ২৯৯ করা বিরাট ব্যাপার। ছেলেটা কিন্তু চান্সলেস ইনিংস খেলেছে। লেগস্পিনারের বিরুদ্ধে ব্যাকফুটে না গেলে হয়তো ৩০০টাও করে ফেলত।”
বলটা নিচু হয়ে উইকেটে লাগতেই লাফিয়ে উঠলেন রশিদ। সেলিব্রেশন শুরু করে দিলেন অধিনায়ক রিকি ভুইঁ। মাত্র এক রানের জন্য ট্রিপল সেঞ্চুরি মিস করলেন সুদীপের। বোলারের উচ্ছ্বাস দেখে কে বলবে, কয়েক ঘন্টা আগেই কল্যাণীর মাঠে মুখ চুন হয়ে গিয়েছিল অন্ধ্র প্রদেশের বোলারদের! সুদীপ শুধু বাংলাকে আজ বাঁচানইনি, ২৯৯ রান করে বুঝিয়ে দিলেন তিনি এখনও ভরসাযোগ্য। যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি ব্যাট করছিলেন, ৩০০ করা অসম্ভব ছিল না। মাত্র ১ রান হলেই নতুন ইতিহাস গড়তেন সুদীপ। বছর চারেক আগে করা বেঙ্গালুরুতে ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে করা ১৮৬ রানই এতদিন ছিল সুদীপের সর্বোচ্চ স্কোর। সেও ছিল একটি কোয়ার্টার ফাইনাল। এ দিন সেই রেকর্ডও ভেঙে দিলেন বছর ২৬এর এই যুবক।
এর আগে বাংলার হয়ে ৩০০র গণ্ডি ছুঁয়েছেন আরও দু’জন। ১৯৯৮-৯৯ সিজনে আসামের বিরুদ্ধে ৩২৩ রান করেছিলেন প্রাক্তন জাতীয় নির্বাচক দেবাং গান্ধী। আবার ২০১৯-২০ সিজনে এই কল্যাণীতেই ৩০৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মনোজ তিওয়ারি। সেই দুটি ম্যাচ গ্ৰুপ পর্যায়ে হলেও সুদীপের এই ২৯৯ রান এসেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ব্যক্তিগত ৯৫ রানের মাথায় সেই রশিদের বলেই এলবিডব্লিউ আউট হয়েছেন হাবিব গান্ধী। শেষ মুহূর্তে ৩৩ বলে দুর্দান্ত অর্ধশতরান করেছেন মহম্মদ শামি। ৫৩ রানের মাথায় রশিদের বলেই ক্যাচ আউট হন তিনি।
মে। বাংলা ক্রিকেটের সুদীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র একবারই রঞ্জি জিতেছে বাংলা। এতদিনের জমে থাকা আক্ষেপ কি এ বার মিটবে?