Air Taxi in India: ২ ঘণ্টার রাস্তা পৌঁছে যাবেন ৭ মিনিটে! আকাশেও পাবেন এবার ট্যাক্সি, কত ভাড়া পড়বে? – Bengali News | 2 hours distance covered in just 7 minutes air taxis to begin in indias metro cities rooftops used for helipad
নয়া দিল্লি: হাজার চেষ্টা করেও অনেক সময় প্রাণ বাঁচানো যায় না শুধুমাত্র রাস্তায় যানজটে আটকে থাকা এবং তার জেরে দেরি হওয়ার কারণে। রাস্তাঘাটে গাড়ির হিড়িক কমানো কার্যত অসম্ভব। তবে যদি বিকল্প রুট খুলে যায়? যেমন ধরুন আকাশপথ। ভাবুন তো আকাশপথ ধরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌছে যাওয়া যাবে কত সহজে। থাকবে না কোনও যানজটের সমস্যাও। এমনই প্রকল্প চালু হতে চলেছে ভারতে। এবার ছুটে বেরাবে থুড়ি উড়ে বেরাবে এয়ার ট্যাক্সি।
কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিজের তরফে সম্প্রতি একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে যেখানে একটি পাইলট করিডরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এয়ার ট্য়াক্সির জন্য। গুরুগ্রাম থেকে শুরু করে দিল্লির কনৌট প্লেস হয়ে নয়ডার জেওয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এই পাইলট করিডরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এয়ার ট্যাক্সি চালু হলে কয়েক ঘণ্টার এই যাত্রাপথ কয়েক মিনিটে পার করা সম্ভব হবে।
এই এয়ার ট্যাক্সির ভাড়াও যে খুব বেশি হবে, তা নয়। দিল্লি থেকে গুরুগ্রাম পৌঁছানো যাবে মাত্র ৭ মিনিটে। যাত্রীদের এক পিঠের ভাড়া পড়বে আনুমানিক ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। সড়কপথে এই ৩৫-৪০ কিলোমিটার পার করতে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ব্যস্ত সময়ে সেই সময়টাই বেড়ে ২ ঘণ্টা হয়ে যায়।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্তরে হেলিপ্যাডের প্রয়োজন নেই, এয়ার ট্যাক্সিগুলি হাসপাতাল বা বাণিজ্যিক বিল্ডিংগুলির ছাদ থেকেই ওঠা-নামা করতে পারবে। এয়ার ট্যাক্সি চালু হলে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা হবে। কয়েক মিনিটেই এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া এই ধরনের যেকোনও মেডিক্যাল ইমার্জেন্সিতে পরিবহনের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে এয়ার ট্যাক্সি।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন বা ডিজিসিএ-র নিয়ন্ত্রণেই এয়ার ট্যাক্সি চলতে পারে। সম্প্রতি অসামরিক উড়ানমন্ত্রী রামমোহন নাইডুও অ্যাডভান্সড এয়ার মোবিলিটি নিয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন। ওই রিপোর্টে ধাপে ধাপে পরবর্তী প্রজন্মের এয়ার মোবিলিটি নিয়ে পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরা হয়েছিল।
দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরুর মতো জনবহুল শহরে এই ধরনের এয়ার ট্যাক্সি বিশেষ উপযোগী হতে পারে। সেক্ষেত্রে বহুতলগুলির ছাদকে ভের্টিপোর্ট হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। এটি অনেকটা খরচও কমাবে, কারণ আলাদাভাবে ভের্টিপোর্ট তৈরি করতে জমি অধিগ্রহণ করা অনেকটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। পাশাপাশি ছাড়পত্রের সমস্যাও হবে না। কমার্শিয়াল হাব, হাসপাতাল, টেক পার্কের জন্য এই ভের্টিপোর্ট সেই তুলনায় অনেক বেশি বাস্তবায়িত অপশন। তবে এখনও যেহেতু ডিজিসিএ-র নিয়মে ছাদ থেকে ওঠানামা নিষিদ্ধ, তাই এয়ার ট্যাক্সি চালু হলে এই নিয়মে পরিবর্তন করতে হবে।
ট্রায়াল পর্যায়ে প্রথমে ড্রোনের মাধ্যমে ডেলিভারি, এরপর মেডিক্যাল সামগ্রী এবং পরবর্তী সময়ে অর্গান ট্রান্সপোর্ট থেকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালু করা হতে পারে। ব্যাঙ্ক ও সরকারের অনুমোদিত সংস্থাগুলি অ্যাডভান্সড এয়ার মোবিলিটির জন্য যাবতীয় খরচ-খরচা বহন করতে পারে।