দিনে ৪০ থেকে ৮০টি সিগারেট খেতেন বিনোদ খান্না! বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন স্ত্রী - Bengali News | Vinod Khanna’s Secret Health Battle: The Story Behind the Stardom - 24 Ghanta Bangla News
Home

দিনে ৪০ থেকে ৮০টি সিগারেট খেতেন বিনোদ খান্না! বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন স্ত্রী – Bengali News | Vinod Khanna’s Secret Health Battle: The Story Behind the Stardom

Spread the love

বিনোদ খান্না এই নামটার মধ্যেই যেন এক সময়ের বলিউডের রাজকীয় গ্ল্যামার, দুর্দান্ত ব্যক্তিত্ব আর অগণিত হিট ছবির স্মৃতি জড়িয়ে আছে। পর্দায় তিনি ছিলেন শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী, প্রায় অজেয়। কিন্তু পর্দার বাইরে তাঁর জীবনটা কেমন কেটেছে জানেন? শেষ জীবন একেবারে দূর্বিসহ হয়ে উঠেছিল অভিনেতার। যা অনেকেরই অজানা।

সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী কবিতা খান্না এক আবেগঘন স্মৃতিচারণায় তুলে ধরেছেন অভিনেতার জীবনের সেই অজানা জীবনসংগ্রামের গল্প তুলে ধরেছেন। অনেকের ধারণা ছিল, ২০১৭ সালে ব্লাডার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েই প্রয়াত হন বিনোদ খান্না। কিন্তু বাস্তবে তাঁর স্বাস্থ্যসংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। কবিতা খান্না বলেছেন, ২০০১ সালে তিনি প্রথম ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হন। নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষায় ধরা পড়ে ফুসফুসে ক্যানসার। খবর পেয়ে সুখের জীবনে হঠাৎই অন্ধকার নেমে আসে। যা অভিনেতা ও তাঁর পরিবারের জন্য ছিল এক বড় ধাক্কা।

সম্প্রতি এই অসুস্থতার পেছনে একটি বড় কারণের কথা জানিয়েছেন কবিতা। অতিরিক্ত ধুমপানই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন অভিনেতাকে। বিনোদ খান্না দিনে প্রায় ৪০ থেকে ৮০টি সিগারেট খেতেন। দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস তাঁর শরীরের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি চিকিৎসকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, ক্যানসার আক্রান্ত অংশ বাদ দিতে হলে ফুসফুসের অর্ধেক কেটে ফেলতে হতে পারে।

কিন্তু বিনোদ খান্না সবসময়ই ছিলেন একটু আলাদা। তিনি শুধু আধুনিক চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে আধ্যাত্মিকতা ও প্রাকৃতিক সুস্থতার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। শ্রী শ্রী রবি শংকরের পরামর্শে তিনি নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন ও ধ্যান শুরু করেন। কিছু সময়ের জন্য তিনি রিষিকেশ আশ্রমেও কাটান, যেখানে মানসিক শান্তি ও আত্মশক্তির চর্চায় নিজেকে স্থির রাখার চেষ্টা করেন।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল পরবর্তীতে জার্মানিতে করানো মেডিক্যাল পরীক্ষায় তাঁর শরীরে আর ক্যানসারের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। রিপোর্ট দেখে ইউরোপীয় চিকিৎসকেরাও বিস্মিত হয়ে পড়েন। যেন জীবন তাঁকে আরও কিছু সময় উপহার দিয়েছিল।

তবে সেই স্বস্তির সময় বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ২০১০ সালে তাঁর ব্লাডার ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ। তবুও বিনোদ খান্না নিজের বিশ্বাস ও মানসিক শক্তিকে আঁকড়ে ধরেই লড়াই চালিয়ে যান। পঞ্চকর্ম থেরাপি, যোগাভ্যাস ও আত্মিক চর্চার মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন অসুখের মোকাবিলা করেন।

২০১৭ সালে শেষ পর্যন্ত তিনি এই লড়াইয়ে পরাজিত হলেও, তাঁর জীবনের গল্প আজও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প। একদিকে সুপারস্টার, অন্যদিকে এক সাহসী যোদ্ধা—বিনোদ খান্না প্রমাণ করে গিয়েছেন, জীবনের আসল শক্তি শুধু খ্যাতিতে নয়, আত্মবিশ্বাস আর মানসিক দৃঢ়তা থাকলে জীবনযুদ্ধের অনেকাংশে জয়ী হওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *