মনোজ বাজপেয়ী-এর সিরিজ ঘিরে বিতর্ক! যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে FIR দায়ের – Bengali News | Yogi adityanath orders fir over manoj bajpayees ghooskhor pandat amid caste insult controversy
বলিউড অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী অভিনীত আসন্ন ওয়েব সিরিজ ‘ঘুষখোর পন্ডত’ নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সিরিজটির নাম ও কনটেন্টকে কেন্দ্র করে জাতিগত ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে লখনউয়ে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সিরিজের শিরোনামে ব্যবহৃত ‘পন্ডত’ শব্দটি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সেই শব্দের সঙ্গে ‘ঘুষখোর’যোগ করে এই গোটা সম্প্রদায়কে দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সামাজিকভাবে আপত্তিকর ও অবমাননাকর এবং অসম্মানজনক।
তাঁদের মতে, এতে ব্রাহ্মণ সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং সমাজে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। লখনউ পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, সিরিজটির শিরোনাম ও প্রচারমূলক ভিডিয়ো খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এটি কিছু মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে মামলা রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং নির্মাতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। সুত্রের খবর এই ইস্যুতে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন সিরিজটির নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে এবং কনটেন্টকে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করেছে। অনেকের আশঙ্কা, এ ধরনের শিরোনাম সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং সমাজে ভুল বার্তা ছড়াতে পারে।
এদিকে, মুম্বাইয়ের এক আইনজীবী নেটফ্লিক্স ও সিরিজের নির্মাতাদের কাছে লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়েছেন। নোটিসে বলা হয়েছে, ‘পন্ডিত’ বা ‘পন্ডত’ শব্দটি ঐতিহ্যগতভাবে জ্ঞান, সম্মান ও নৈতিকতার প্রতীক। সেই শব্দকে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত করা সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং মানহানিকর হতে পারে। তাই দ্রুত শিরোনাম পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।
সিরিজটির টিজারে মনোজ বাজপেয়ীকে এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে দেখা গিয়েছে, যাকে গল্পে ‘পন্ডত’ নামে ডাকা হয়। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি কাল্পনিক চরিত্র যার উদ্দেশ্য সমাজের দুর্নীতি ও ভণ্ডামিকে তুলে ধরা। তবে বিরোধীদের মতে, এই ধরনের উপস্থাপনা একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নেতিবাচকভাবে চিত্রিত করে।
এই বিতর্ক এখন আদালতেও পৌঁছে গিয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে, যেখানে সিরিজটির মুক্তি ও স্ট্রিমিং সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, কনটেন্টটি সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ‘ঘুষখোর পন্ডত’ ঘিরে বিতর্ক এখন শুধুই বিনোদনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই এটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সিরিজটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নির্ভর করছে প্রশাসন ও আদালতের আগামী সিদ্ধান্তের উপর।