চাপ সামলাতে দক্ষ, দুরন্ত ছন্দ, ভারতকেই বিশ্বকাপের ফেভারিট ধরছে সব মহল! – Bengali News | Calm under pressure all quarters consider india the favourites to win the world cup
কলকাতা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় দল আত্মবিশ্বাসে ফুটছে। ভারতের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকে কখনও আবেগতাড়িত হতে দেখা যায় না। কিন্তু এক অনুষ্ঠানে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্যতিক্রমী প্রতিক্রিয়া দেখান তিনি। ভারতের সবচেয়ে সফল ক্যাপ্টেন বলেছিলেন, “সবচেয়ে বিপজ্জনক দলগুলোর মধ্য়ে ভারত একটি। ভালো দলের যা যা দরকার হয় সবই ওই টিমের আছে।” ধোনির এই মন্তব্যই ভারতীয় দলের শক্তি স্পষ্ট করে দিয়েছে। ক্রিকেট এমনিতে অনিশ্চয়তায় ভরা একটা খেলা। টি-টোয়েন্টি আরও বেশি। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখানে সহজ নয়। তবু এই ফর্ম্যাটে ভারতের দুরন্ত ফর্মে জন্যই সূর্যকুমার যাদবদের আটকানো কঠিন বলে মনে করছে ক্রিকেট মহল। ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং ২০২২ সালে ইংল্যান্ড এমন ছন্দ নিয়ে টুর্নামেন্টে নেমেছিল। কিন্তু একমাত্র ইংল্যান্ডই সেই চাপ সামলে ট্রফি জিতেছিল। এবার ভারতের সামনে খেতাব ধরে রাখার লড়াই। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে চাপ থাকবে। কিন্তু সেই চাপ সামলানোর ক্ষমতা ভারতীয় দলের আছে বলেই মনে করছেন প্রাক্তনরা।
ভারতের দল গঠনের প্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘ। শুভমান গিলের ফর্ম না থাকায় দলের পক্ষে সমস্যা তৈরি করতে পারত। এই যুক্তিতে তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচকরা একটি বড় উদাহরণ রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হোম সিরিজে একাধিকবার তাঁর ব্যাটিং ত্রুটি চোখে পড়েছে। কিন্তু গম্ভীরের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত দলর মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে, গিলের জায়গায় ইশান কিষানের ব্যাটিং ওপেনিংয়ে নতুন গতি এনেছে। তিলক বর্মা, অক্ষর প্যাটেল বা ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও দল নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকে। বাম-ডান কম্বিনেশনের মোহ কাটিয়ে নির্দিষ্ট ভূমিকায় ব্যাটারদের খেলানো হয়।
গম্ভীরের কোচিংয়ে গত ১৮ মাসের পরিকল্পনার ফল এখন চোখে পড়ার মতো। ভারতীয় দল এখন অনেক বেশি শান্ত, আত্মবিশ্বাসী এবং আক্রমণাত্মক। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ধোনির কথা মাথায় রাখার মতো। একদিনের খারাপ পারফরম্যান্স বা শিশির সব হিসেব ওলোটপালোট করে দিতে পারে। তবুও সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরপা এখন ভারতের হাতেই থাকার কথা। সেই সঙ্গে এই বিশ্বকাপ কোচ গম্ভীরের কাছেও বড় পরীক্ষা। ওয়ান ডে কিংবা টেস্টে তিনি ততটা সফল নন, যতটা টি-টোয়েন্টিতে। যদি টিমকে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ না জেতাতে পারেন, তা হলে বোর্ডও বিকল্প কোচের সন্ধানে নেমে পড়তে পারে।