TMC: বিজেপি সাংসদের স্ত্রী যোগ দিলেন তৃণমূলে, খবর শুনেই খগেন বললেন… – Bengali News | BJP MP Khagen Murmu’s wife Aruna Murdi joins TMC
তৃণমূলে যোগ দিলেন খগেন মুর্মুর দ্বিতীয় স্ত্রী অরুণা মার্ডিImage Credit: TV9 Bangla
জ্যোতির্ময় কর্মকার
কলকাতা, মালদহ ও দিল্লি: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় চমক তৃণমূল কংগ্রেসের। রাজ্যের শাসকদলে যোগ দিলেন মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর দ্বিতীয় স্ত্রী অরুণা মার্ডি। বুধবার কলকাতায় এসে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। তাঁর হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন ব্রাত্য বসু, বীরবাহা হাঁসদা। ছিলেন যুব তৃণমূলের মালদহের সভাপতি প্রসেনজিৎ দাসও। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর তৃণমূলের যোগদানের খবর পেয়েই দিল্লি থেকে খগেন মুর্মু পাল্টা তৃণমূলকে আক্রমণ করেন। ভোটের আগে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টায় তৃণমূল এসব করছে বলে তাঁর দাবি।
অরুণা মার্ডি গাজলের দেওতলার বাসিন্দা। তিনি শহরের হ্যান্টাকালী এলাকার এক আবাসনে দত্তক নেওয়া এক মেয়েকে নিয়ে থাকেন। তিনি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসে চাকরি করতেন। প্রায় ৩০ বছর আগে খগেন মুর্মুর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে গত ১২ বছর তাঁরা আর একসঙ্গে থাকেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অরুণাকে কখনও খগেনের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি।
এদিন অরুণার হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দিয়ে ব্রাত্য বলেন, “দিদিকে ভালোবেসে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মযজ্ঞে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের সংগঠনে যোগ দিতে চান অরুণা মার্ডি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহমতে তৃণমূল কংগ্রেসের বৃহৎ পরিবারs অরুণা মার্ডিকে আমরা স্বাগত জানাই। কিছু নেতা-নেত্রীকে আমরা নিচ্ছি। খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মধ্যে একজন অরুণা মার্ডি। তাঁকে আমি দলের তরফে স্বাগত জানাই।” অরুণা মার্ডির তৃণমূলে যোগদান নিয়ে খগেন মুর্মুকে কটাক্ষ করে মালদহের তৃণমূল নেতা তথা রাজ্য তৃণমূলের সম্পাদক কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী বলেন, “খগেনবাবুর দুর্ভাগ্য তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী তাঁর সঙ্গে না থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন।”
দিল্লিতে বসে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর তৃণমূলে যোগদানের খবর পান খগেন মুর্মু। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের এটা নোংরা রাজনীতি। সহানুভূতি পেতে এসব করছে। তবে কোনও সহানুভূতি পাবে না।” মেয়ে দত্তক নেওয়াকে কেন্দ্র করে ২০১৪ সাল থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই জানিয়ে বিজেপি সাংসদ বলেন, “ও আলাদা থাকে। আলাদা বাড়ি করেছে। ২০১৪ সাল থেকে আমাদের পরিবারের সঙ্গে ওর যোগ নেই। আমার সঙ্গে ও আলোচনা করেনি। তৃণমূল একজন জনপ্রতিনিধিকে যেভাবে রক্ত ঝরিয়েছে, ওরা কখনও সহানুভূতি পাবে না। আমাদের খুন করার পরিকল্পনা করেছিল। সারা বাংলার আদিবাসীরা তৃণমূলের উপর ক্ষিপ্ত। জবাব দিতে তৈরি রয়েছে। তাই, আদিবাসীদের মধ্যে দুর্বলতা তৈরি করতে তৃণমূল এটা করছে। ভাবাবেগ তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু, কোনও লাভ হবে না। হেরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। এর আগে বিষ্ণুপুরেও একই কাজ করতে চেয়েছিল। বিষ্ণুপুরে যা ফল হয়েছে, এখানেও তাই হবে।” প্রসঙ্গত, বিষ্ণুপুরের বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁর স্ত্রী সুজাতা খাঁ (তখন ডিভোর্স হয়নি) একুশের নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দেন।