‘ও সব কিছু দেখে ফেলেছে…’, অরিজিতের ‘অবসর’ নিয়ে কোন তথ্য সামনে আনলেন উদিত নারায়ণ? কী বললেন শ্রেয়া? – Bengali News | Udit narayan said that arijit singh has done great work in very little time
মঙ্গলবার রাতে অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা যেন বিনোদন জগতে এক প্রবল ভূমিকম্প। সাফল্যের মধ্যগগনে থাকা এক শিল্পীর এমন সিদ্ধান্ত যেমন অবাক করেছে ভক্তদের, তেমনই ভাবিয়ে তুলেছে তাঁর সহকর্মীদেরও। এই আবহেই অরিজিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন বলিউডের বর্ষীয়ান গায়ক উদিত নারায়ণ।
একটি সাক্ষাৎকারে উদিত নারায়ণ বলেন, “অরিজিৎ খুব অল্প সময়ে অসাধারণ সব কাজ করেছে। পুরস্কার, পরিচিতি, খ্যাতি, অর্থ কিংবা মঞ্চে ভক্তদের উন্মাদনা— ও সবকিছুর একদম শীর্ষে পৌঁছেছে। তাই এই সময়ে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণ ওর ব্যক্তিগত। তবে আমি বিশ্বাস করি ও সঙ্গীত ছেড়ে যাবে না। ওঁর কাজ মানুষের হৃদয়ে চিরকাল গেঁথে থাকবে।”
অন্যদিকে শ্রেয়া ঘোষালও সোশাল মিডিয়ায় অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক অবসর নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাঁর কথায়, অরিজিৎ যুগ কখনও শেষ হয় না। শ্রেয়া লেখেন, ”এটা অরিজিতের জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা এবং এই জিনিয়াস ভবিষ্যতে আমাদের জন্য নতুন কী সৃষ্টি করেন, তা শোনার ও অনুভব করার জন্য আমি সত্যিই মুখিয়ে আছি!! আমি কখনোই এটাকে একটি যুগের অবসান বলতে পারি না।”
এদিকে অরিজিতের এই ‘অবসর’ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, এটি চিরতরের জন্য বিদায় নয়, বরং এক বছরের একটি পরিকল্পিত বিরতি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, অরিজিৎ সিং এখন তাঁর প্রথম পরিচালিত ছবির কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত। দীর্ঘদিনের লালিত এই স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি নতুন কোনো প্লেব্যাকের কাজ নিচ্ছেন না। পরিচালনার দায়িত্ব শেষ করে সম্ভবত এক বছর পর আবার চেনা ছন্দে ফিরবেন তিনি।
পরিচালক হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে অরিজিৎ নিজে সরাসরি কিছু না বললেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মানসিক পরিস্থিতির কথা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। গায়ক জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত হুট করে নেওয়া নয়। তিনি লেখেন, “সত্যি বলতে, আমি ক্লান্ত। একঘেয়েমি আমাকে খুব দ্রুত গ্রাস করে, তাই আমি বারবার নিজের গানের ধরন বদলে ফেলি। বেঁচে থাকার জন্য আমাকে এখন অন্য ধরণের মিউজিক নিয়ে গবেষণা করতে হবে।” পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন প্রতিভাদের জায়গা করে দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। আপাতত অরিজিতের এই ‘ক্লান্তি’ এবং পরিচালক হিসেবে তাঁর ‘সেকেন্ড ইনিংস’—এই দুইয়ের দোলাচলেই দুলছে সঙ্গীতপ্রেমীদের মন।