ব্লাড প্রেসারের রোগীদের কি সারাজীবন ওষুধ খেতেই হয়? কী বলছেন চিকিৎসক - Bengali News | Do bp patients need lifelong medication doctors explain the truth - 24 Ghanta Bangla News
Home

ব্লাড প্রেসারের রোগীদের কি সারাজীবন ওষুধ খেতেই হয়? কী বলছেন চিকিৎসক – Bengali News | Do bp patients need lifelong medication doctors explain the truth

Spread the love

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। বহু মানুষের মধ্যেই একটি ভয় কাজ করে একবার ব্লাড প্রেশারের ওষুধ শুরু করলে তা কি সারাজীবন খেতেই হবে? কী বলছেন চিকিৎসকরা? তাঁদের মতে রোগীভেদে এই বিষয়টি আলাদা এবং সব ক্ষেত্রে আজীবন ওষুধ খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

চিকিৎসকদের মতে, ব্লাড প্রেশারের ওষুধের মূল লক্ষ্য হলো রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি ফেলিওর বা চোখের ক্ষতির মতো জটিল সমস্যা এড়ানো যায়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) ও ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO)-এর গাইডলাইন অনুযায়ী, যদি রক্তচাপ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তাহলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ক্ষতি হতে পারে।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, যাদের রক্তচাপ সামান্য মাত্রায় বেশি এবং যাদের কোনও জটিল রোগ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রথমে জীবনযাত্রা বদলের উপর জোর দেওয়া দরকার। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, লবণ কম খাওয়া, ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করা এবং মানসিক চাপ কমালে অনেক রোগীর রক্তচাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অনেক সময়তেই ওষুধের মাত্রা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেন, প্রয়োজনে বন্ধও করে দেন।

অন্যদিকে, যাদের রক্তচাপ অনেক বেশি, অথবা যাঁদের ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হার্টের সমস্যা কিংবা পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধ বন্ধ করলে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে যা বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল স্টাডিতেও প্রমাণিত।

নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে বারবার সতর্ক করেন চিকিৎসকরা। অনেক রোগী রক্তচাপ স্বাভাবিক দেখলেই ওষুধ ছেড়ে দেন, কিন্তু এতে হঠাৎ করে ব্লাড প্রেশার বেড়ে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই ওষুধ কমানো বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিৎ।

সব মিলিয়ে চিকিৎসকদের স্পষ্ট মত ব্লাড প্রেশারের ওষুধ অনেকের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে, কিন্তু তা সারাজীবনের জন্যই হবে এমন কোনও বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। নিয়মিত চেকআপ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকলে সুস্থ্য থাকা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *