MBBS ডিগ্রি চাই-ই-চাই, কোটায় ভর্তি হতে নিজের পা-ই কেটে ফেললেন যুবক! – Bengali News | Uttar Pradesh Youth Amputes his own leg to get Admission in MBBS under Physically Disabled Quota
এই যুবকই নিজের পা কেটে ফেলেছেন।Image Credit: X
লখনউ: স্বপ্নপূরণের জন্য মানুষ কোন সীমায় পৌছে যায়, তার হয়তো নজির এটাই। মা-বাবার ইচ্ছা, ছেলে ডাক্তার হবে। নিজেরও স্বপ্ন তাই। তবে শুধু স্বপ্ন থাকলেই তো হল না, যোগ্যতারও প্রয়োজন। এমবিবিএস ডিগ্রি দূর, ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট, যা নিট (NEET) নামেই পরিচিত, সেই পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হতে পারেনি তিনবারের চেষ্টাতেও। কিন্তু ডাক্তার তো হতেই হবে, এমবিবিএসে ভর্তি হতে হবেই। তাই চরম পদক্ষেপ যুবকের। নিজেই কেটে ফেললেন নিজের পা!
ভয়ঙ্কর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের জৌনপুরে। গত ১৮ জানুয়ারি সূরজ ভাস্কর নামক বছর চব্বিশের ওই যুবক নিজের বাম পা কেটে ফেলে বিশেষভাবে সক্ষম সার্টিফিকেট পওয়ার জন্য। ওই যুবক ইতিমধ্যেই ফার্মাসিতে ডিপ্লোমা শেষ করেছে। তাঁর প্ল্যান ছিল, প্রতিবন্ধী কোটাতে এমবিবিএসে ভর্তি হওয়া।
পুলিশে গিয়ে সূরজ অভিযোগ করেছিল যে তাঁকে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন খুন করার চেষ্টা করেছিল। হামলাতেই তাঁর পা বাদ যায়। যখন তাঁর জ্ঞান ফেরে, তখন দেখে যে বাম পা কেটে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই অজ্ঞাতপরিচয় দুইজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে এবং তদন্ত শুরু করে।
তবে পুলিশের সন্দেহ হয় যখন ওই যুবক বারবার করে নিজের বয়ান বদল করতে শুরু করে। তাঁর আচরণ ও কথাবার্তা দেখে সন্দেহ বাড়ে। সূরজ যে যুবতীর সঙ্গে প্রেম করত, তাঁর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে যে এই বছর সূরজ যে কোনও মূল্যে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হতে মরিয়া ছিল। পুলিশ জানতে পারে যে গত বছরের অক্টোবর মাসে সূরজ বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছিল বিশেষভাবে সক্ষম সার্টিফিকেট জোগাড়ের জন্য, কিন্তু সার্টিফিকেট পায়নি।
এরপরে যখন সূরজের ক্ষতস্থান দেখে পুলিশ, তখন সন্দেহ আরও বাড়ে। দেখা যায়, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাঁর পা কাটা, যেন কোনও অস্ত্র নয়, বরং মেশিন দিয়ে পা কাটা হয়েছে। যে জায়গায় তাঁর উপরে হামলা হয়েছিল বলে দাবি করেছিল যুবক, সেই জায়গাতে কাটা পা পড়ে নেই। উল্টে কয়েকটি ইঞ্জেকশন পাওয়া যায়। এতেই আরও সন্দেহ বাড়ে।
পরে তদন্তে জানা যায়, ওই যুবক নিজেই অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগ করে নিজের পা কেটে ফেলে। পুলিশই ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে স্থিতিশীল ওই যুবক। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করবে পুলিশ।