Kolkata: স্কুলের বিজ্ঞপ্তিতে ‘হোয়াটসঅ্যাপ ল্যাঙ্গুয়েজ’, অশনি সংকেত দেখছেন শিক্ষাবিদরা – Bengali News | What educationists are saying about notice in Romanisation of Bangla language in a school in Purba Medinipur?
কী বলছেন শিক্ষাবিদরা?Image Credit: TV9 Bangla
কলকাতা ও রামনগর: kmn achis. হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটে এমনভাবে লিখতে অনেককেই দেখা যায়। যিনি এই মেসেজ পেলেন, তিনিও বুঝে যান, প্রেরক কী বলতে চেয়েছেন। উত্তরও যায়, vlo. বেশিরভাগ মানুষকে এভাবেই হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করতে দেখা যায়। কিন্তু, এই ‘হোয়াটসঅ্যাপ ল্যাঙ্গুয়েজ’-ই যদি স্কুলের নোটিসে দেওয়া হয়? চমকে উঠবেন না। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের স্কুলের একটি নোটিসে এই হোয়াটসঅ্যাপ ল্যাঙ্গুয়েজেই বার্তা দেওয়া হয়েছে পড়ুয়াদের। আর সেই নোটিস সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে অনেকে সরব হয়েছেন। আর এই ধরনের নোটিসেই বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে অশনি সংকেত দেখছেন শিক্ষাবিদরা। কী বলছেন তাঁরা?
রামনগরের ওই স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হয়েছে। কোন দিন কী পরীক্ষা, তা লেখা হয়েছে রুটিনে। ইংরেজি ভাষায়। আর ওই রুটিনের শেষে রোমান হরফে বাংলা ভাষায় পড়ুয়াদের পরীক্ষায় উপস্থিত থাকতে বার্তা দেওয়া হয়েছে। আর ওই রোমান হরফে বাংলা লেখা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নোটিসটি ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও স্কুলের সাফাই, অভিভাবকদের সুবিধার জন্য এমনভাবে লেখা হয়েছে। তবে স্কুলের নোটিসে এরকম লেখা যায় কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।
সত্যিই কি বাংলা ভাষার অবনমন হচ্ছে? কী বলছেন শিক্ষাবিদরা?
স্কুলের নোটিসে ‘হোয়াটসঅ্যাপ ল্যাঙ্গুয়েজ’ ব্যবহারের নিন্দা করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা। এই নিয়ে তিনি বলেন, “এটাই সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ও উদ্বেগের। যিনি বা যাঁরা এই নোটিস দিলেন, তাঁরা নোটিস দিলেন ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। তা দেখে পড়ুয়ারা কী শিখবে? এখানে দুটো জিনিস শেখার রয়েছে। একটা যেমন খুশি, যা খুশি বাংলা বলা যায়। এবং সেই শিক্ষকরা ভাষাটাকে এমন জায়গায় নামিয়ে দিলেন, যেখানে এমনভাবে বলা যায়, সেটাকে মান্যতা দিলেন।”
এরপর তিনি বলেন, “এখন ক্লাসরুমে পড়ানোর সময় শিক্ষকরা বলতে পারবেন না, এটা ভুল, এটা ঠিক। কার্যত বন্ধুর সঙ্গে যখন বার্তালাপ হয়, তখন যা লেখা হয়, সেটা যদি নোটিসে দেওয়া হয়, পড়ুয়ারাও এটাকে টেকেন ফর গ্রান্টেড হিসেবে নেবে। তখন তা মেনে নেওয়ার মতো অবস্থায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা রয়েছেন কি না, তা বিবেচনা করতে হবে।”
স্কুলের নোটিসে এমন লেখা ঠিক হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “যাঁরা এই কাজটা করলেন, তাঁদের জানতে হবে, এই যে রোমান হরফে লিখেছেন, এটা বাংলায় অনুবাদ করে পড়লে ঠিকঠাক পড়তে পারবেন না। যদি IPA ব্যবহার হত, তাহলে ঠিকঠাক পড়া হত। কিন্তু, যেহেতু রোমান হরফে তার মতো উচ্চারণ, ফলে উচ্চারণও ভুল শিখবে পড়ুয়ারা। বাংলা হরফে লিখলে উচ্চারণটা ঠিক হত। আবার রোমান হরফে বাংলা লিখে বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হল। বাংলার হাতের লেখার কী অবনমন ঘটেছে, সেটা এখনই দেখা যায়। এভাবে লিখলে বাংলা লেখাটাই ভুলে যাবে। রোমান হরফে লিখবে। ভাষা শেখাটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে।”
এই নিয়ে প্রধান শিক্ষক- শিক্ষিকাদের সংগঠন ASFHM-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, “এখন ঘুম বাদ দিয়ে মোবাইলেই ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তিনি হয়তো একটি নোটিস নিজের মোবাইলে টাইপ করেছিলেন। সেটাই হয়তো চলে গিয়েছে। ইংরেজিতে টাইপ করা অথচ বাংলা ভাষার জন্য। এটা হয়তো বা ঠিক হয়নি। তিনি নিশ্চিত আর করবেন না। দ্রুততার সঙ্গে যে বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে এটা হয়ে গিয়েছে। আমরা কখনওই এটা সমর্থন করি না। এই ধরনের লেখাও ঠিক নয়। কিন্তু, তিনি নিজেও বলেছিলেন, অভিভাবকরা চাইছিলেন, যেভাবে তাঁরা অভ্যস্ত হচ্ছেন, সেভাবে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হোক। তবে অভিভাবক হোক কিংবা যিনি হোক, বাংলায় বিজ্ঞপ্তি হলে বাংলা ভাষাতেই লেখা হোক। ইংরেজিতে হলে ইংরেজি ভাষায়। বাংলা ভাষার মাধুর্য যেন আমরা রক্ষা করতে পারি। নিশ্চিতভাবেই ওই প্রধান শিক্ষিকা আমাদের থেকেও সচেতন। এই নিয়ে আর বিতর্ক বাড়িয়ে লাভ নেই। আমরা যে মেসেজ আদানপ্রদান করি, সেখানে ভাষা যোগাযোগের মাধ্যম ছাড়া কিছু নয়। সেই যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে যদি দেখা যায়, তিনি কমিউনিকেট করেছেন। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে বিষয়টা সেভাবে আসে না। যেভাবেই হোক, আর যেন এ ধরনের ঘটনা কোথাও না ঘটে, সেই আবেদন আমরা জানাই।”