Naushad Siddiqui: চলছে আলোচনা, ডেডলাইন জানুয়ারি! ভোটের আগে এক হবে সংযুক্ত মোর্চা? – Bengali News | Ahead of Bengal Elections, ISF Signals Openness to Alliance Talks with Left and Congress
বাঁদিকে বিমান বসু, ডান দিকে নওশাদ সিদ্দিকীImage Credit: নিজস্ব চিত্র
কলকাতা: ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের ঠিক আগেই তৈরি হয়েছিল আইএসএফ। নির্বাচনে তারা বাম এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছিল। যদিও ভোটের খানিক আগে এই জোট তৈরি করায় বুথস্তর অবধি তার রেশ পৌঁছতে পারেনি। বামেদের সঙ্গে সখ্য থাকলেও, দূরত্ব বেড়েছিল কংগ্রেসের সঙ্গে। ফলে আইএসএফ-এর পোশাকি নাম ‘সংযুক্ত মোর্চা’ থাকলেও ভোটের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জোটে যুক্ত থাকতে পারেনি। ভাঙন দেখা গিয়েছিল সর্বত্র। তবে এরপরের ঘটনা আরও নজিরবিহীন। বাম-কংগ্রেস শূন্য হয়ে গেল, ভাঙড় থেকে আইএসএফ-এর একা মুখ নওশাদ জিতে গেলেন।
বাংলায় আবার ভোট আসছে। বাম-কংগ্রেসে পাক ধরেছে। কাঁচা চুলে শক্তি বলতে একা আইএসএফ। কিন্তু নির্বাচনের ময়দানে এই দল এখনও নাবালক। সুতরাং আবার সংযুক্তা মোর্চা এক হওয়ার মাধ্যমে কিছুটা হলেও পালে হাওয়া টানা যেতে পারে। বুধবার আইএসএফ-এর জনসভা থেকে সেই হাওয়াতেই গা ভাসালেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
সিপিএম-কংগ্রেস-সহ বাংলায় যে সকল ‘সেকুলার ফ্রন্ট’ রয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত আইএসএফ। বুধবার সভাস্থল থেকে এই কথা জানিয়েছেন নওশাদ। বিধায়কের কথায়, ‘আগামিকাল থেকে জোট প্রক্রিয়ায় গতি আনার চেষ্টা করব। এই মাসের মধ্য়েই যেন এই প্রক্রিয়া শেষ করা যায়, আমাদের দলের তরফ থেকে সেই ব্যবস্থাটাও করব।’
নওশাদের সংযোজন, ‘তৃণমূল-বিজেপিকে হারাতে বা বলা চলে কম কষ্টে বেশি ফল পাওয়া যায়, তার জন্য কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং অন্য সকল সেকুলার ফ্রন্টগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। রাজ্যস্তরে জোট হয়ে যাবে, বুথ স্তরে কোনও প্রভাব দেখা যাবে না। সে ব্য়াপারটা আমরা জানিয়েছি। আলোচনা চলছে। আশা করছি জানুয়ারির মধ্য়েই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেব।’
আইএসএফ যে জোট করতে প্রস্তুত, তা স্পষ্ট হয়েছে বহুদিন। গতবছর বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন নওশাদ। আসন সমঝোতার সমীকরণ নিয়ে গতবছর থেকে বাম-কংগ্রেসদের ভাবতে বলছেন তিনি। কিন্তু পাল্টা সাড়া কি আসছে? প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে হাওয়া একটু অন্য রকম। বরাবরই নওশাদের সঙ্গে মেলে না তাদের। তাই এই ভোটে ‘একলা চলো’ নীতি দেখা যেতে পারে বলেই মনে করছেন একাংশ। অন্যদিকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এই নিয়ে আলোচনা চললেও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
বাংলার রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির তালিকায় নাম জুড়েছেন হুমায়ুন কবীরও। তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন দল খুলেছেন তিনি। জোট গড়তেও প্রস্তুত। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘দলের দরজা খোলা রয়েছে’ বলেই মত তাঁর। কিন্তু আইএসএফ কি সেই দিকে যাবে? নওশাদের কথায়, ‘দল এখনও এই নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।’