ASHA Worker Protest: রোদ-ঝড়-জল পেরিয়ে খোঁজ রাখে মায়েদের, চাইলে কি হওয়া যায় আশা কর্মী? – Bengali News | Who Are ASHA Workers? Inside the Grassroots Health Force at the Heart of Bengal’s ‘Purple Protest’
কলকাতা: বেগুনি রঙা শাড়ি, কাঁধে ঝোলা। বাংলার আশা কর্মীরা, পাড়ায় পাড়ায় ‘আশা-দিদি’ নামেই পরিচিত। বুধবার এই ‘আশা-দিদি’দের ‘নিরাশার’ জায়গাটা দেখেছে বঙ্গবাসী। দেখেছে তাঁদের মধ্য়ে দিনে দিনে জমে ওঠা ক্ষোভকেও। গ্রাম বাংলার তৃণমূল স্তরের জনস্বাস্থ্যের দায়িত্ব আশা কর্মীদের কাঁধে থাকলেও, তাঁদের দায়িত্ব নিয়ে যেন একটু হোঁচট খাচ্ছে প্রশাসন, এমনটাই অভিযোগ।
আশা কর্মীদের দাবি, বর্তমানে তাঁদের মাসিক সাম্মানিক ৫ হাজার ২৫০ টাকা। তা বাড়াতেই এত আন্দোলন। কিন্তু এই আশা কর্মীর কাজ মেলে কীভাবে? কারা পান?
২০০৫ সাল। কেন্দ্রে তখন ইউপিএ-র জোট সরকার। নেতৃত্বে তখন কংগ্রেস। সেই সময় জাতীয় গ্রাম্য স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় শুরু হয় আশা প্রকল্প। মূলত প্রসূতি ও শিশুর মৃত্যুর হার কমাতে, গ্রামে গ্রামে মায়েদের চিকিৎসা পৌঁছে দিতেই এই আশা প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। তখন বাংলায় বামেদের সরকার। ওই বছর থেকেই আশা কর্মীর নিয়োগ শুরু হয়ে গিয়েছিল। ২০২১ সালে বাংলায় মোট আশা কর্মীদের সংখ্য়া ছিল প্রায় ৬০ হাজার। বর্তমানে তা পৌঁছে গিয়েছে ৮০ হাজারের অধিক। অর্থাৎ গড়ে ১ হাজার ১০০ জনে বাংলায় একজন করে আশা কর্মী রয়েছেন।
বলে রাখা প্রয়োজন, এই আশা কর্মী হওয়ার জন্য বিশেষ ডিগ্রিধারী হতে হয়, এমনটা নয়। কোনও নির্দিষ্ট এলাকায়, যেখানে আশা কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছে, সেখানকার বাসিন্দা হতে হয়। মাধ্যমিক পাশ ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে একমাত্র মহিলারাই নিয়োগের আবেদন জানাতে পারবেন। লিখিত কিংবা ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা। তারপর কয়েকদিন প্রশিক্ষণ। অবশেষে নিয়োগ।
তারপরেও এই চাকরি স্থায়ী নয়, বরং চুক্তিভিত্তিক। যে দাবিকেও সামনে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ আশা কর্মীরা। দাবি জানিয়েছেন, চাকরির নিশ্চয়তার। তবে চাকরি যেমন স্থায়ী নয়, তেমন সাম্মানিক নিয়েও অনেক অভিযোগ। সাধারণভাবে আশা কর্মীদের মাসিক সাম্মানিক প্রদানের দায়িত্ব কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয়েরই। যৌথ উদ্যোগে এই স্বাস্থ্য প্রকল্প চলে। কিন্তু রাজ্য় সরকারের অভিযোগ, কেন্দ্র অনেক দিন ধরেই টাকা মেটাচ্ছে না। রাজ্য একা টানছে। যে দাবি আবার মানতে নারাজ আশা কর্মীরা। এদিন পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের রাজ্য় সম্পাদক ইশমতআরা খাতুন বলেন, ‘কেন্দ্র যে টাকা দেয় না, তা আমরা কীভাবে বুঝব? আমরা দেখেছি, রাজ্য বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নিজেদের নামে অন্য খাতে ব্যবহার করেন। আর মুখ্যমন্ত্রী তো বলেছিলেন, কেন্দ্র টাকা না দিলেও রাজ্য় আমাদের দায়িত্ব নেবে।’