কোন রাশির সঙ্গে কার বন্ধুত্ব বেশি টেকসই? জ্যোতিষশাস্ত্র কী বলছে? - Bengali News | Zodiac friendship compatibility which signs make the best friends - 24 Ghanta Bangla News
Home

কোন রাশির সঙ্গে কার বন্ধুত্ব বেশি টেকসই? জ্যোতিষশাস্ত্র কী বলছে? – Bengali News | Zodiac friendship compatibility which signs make the best friends

Spread the love

কথায় আছে “বন্ধু নেবে চিনে , পয়সা নেবে গুনে।” অনেকেরই মতে বন্ধুত্ব শুধু মনের মিলেই গড়ে ওঠে। জ্যোতিষশাস্ত্র থেকে পাওয়া যায় আলাদা ব্যাখ্যা। ভারতীয় বৈদিক জ্যোতিষ ও পাশ্চাত্য জ্যোতিষ অনুযায়ী, মানুষের জন্মরাশি তার স্বভাব, মানসিক গঠন ও সম্পর্ক তৈরির প্রবণতাকে প্রভাবিত করে। সেই কারণেই অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কিছু মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব খুব সহজে হয় ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, আবার কিছু সম্পর্কে তাড়াতাড়ি দূরত্ব তৈরি হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রে রাশিগুলিকে চারটি তত্ত্বে ভাগ করা হয়েছে- অগ্নি, পৃথিবী, বায়ু ও জল। এই তত্ত্বের ভিত্তিতেই বন্ধুত্বের মিলের ব্যাখ্যা রয়েছে।

জানেন জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী কোন কোন রাশির মধ্যে বন্ধুত্ব জমবে?

অগ্নি রাশি (মেষ, সিংহ, ধনু)

অগ্নি রাশির মানুষ সাধারণত আত্মবিশ্বাসী, নেতৃত্বপ্রবণ ও উদ্যমী হন। মেষ রাশির সঙ্গে সিংহ ও ধনু, সিংহ রাশির সঙ্গে মেষ ও তুলা, ধনু রাশির সঙ্গে মেষ ও কুম্ভ রাশির বন্ধুত্ব জমবে। ‘বৃহৎ পরাশর হোরা শাস্ত্র’-এ বলা হয়েছে, যাদের তেজস্বী গ্রহপ্রভাব ও কর্মশক্তি কাছাকাছি, তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া সহজ হয়। অগ্নি রাশির সঙ্গে অগ্নি বা বায়ু রাশির বন্ধুত্ব তাই তুলনামূলকভাবে বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়।

পৃথিবী রাশি (বৃষ, কন্যা, মকর)

এই রাশির মানুষ বাস্তববাদী, দায়িত্বশীল ও স্থিরচিন্তার হয়ে থাকেন। বৃষের সঙ্গে কন্যা ও মকর, কন্যার সঙ্গে বৃষ ও কর্কট মকরের সঙ্গে বৃষ ও বৃশ্চিক রাশির বন্ধুত্ব জমে।

বৈদিক জ্যোতিষ মতে, পৃথিবী তত্ত্বের মানুষের জীবনে স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই মানসিকতা থাকার কারণে পৃথিবী ও জল রাশির মধ্যে বন্ধুত্ব বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী হয় বলে উল্লেখ রয়েছে ‘জাতক পারিজাত’ গ্রন্থে।

বায়ু রাশি (মিথুন, তুলা, কুম্ভ)

বায়ু রাশির মানুষ বুদ্ধিদীপ্ত, কথা বলতে ভালোবাসেন এবং মিশুকে হন। মিথুনের সঙ্গে তুলা ও কুম্ভ, তুলার সঙ্গে মিথুন ও সিংহ, কুম্ভের সঙ্গে মিথুন ও ধনু রাশির বন্ধুত্বের মিল বেশি হয়।

পাশ্চাত্য জ্যোতিষ অনুযায়ী, বায়ু তত্ত্ব মানসিক যোগাযোগের প্রতীক। যাদের চিন্তাধারা মেলে, তাদের বন্ধুত্ব টিকে যায় দীর্ঘদিন। তাই বায়ু রাশির সঙ্গে বায়ু ও অগ্নি রাশির বন্ধুত্ব বেশি জমে ও প্রাণবন্ত হয়।

জল রাশি (কর্কট, বৃশ্চিক, মীন)
এই রাশির মানুষ আবেগপ্রবণ, সংবেদনশীল ও অনুভূতির গভীরতায় বিশ্বাসী। কর্কটের সঙ্গে মীন ও কন্যা, বৃশ্চিকের সঙ্গে মকর ও মীন, মীনের সঙ্গে কর্কট ও বৃশ্চিক রাশির মিল বেশি।

জ্যোতিষশাস্ত্রে জল তত্ত্বকে আবেগ ও অনুভূতির প্রতীক ধরা হয়। ‘ফলদীপিকা’ গ্রন্থে উল্লিখিত রয়েছে, আবেগ সমান হলে বন্ধুত্বে বিশ্বাস ও সহানুভূতি বেশি তৈরি হয়। তাই জল ও পৃথিবী রাশির বন্ধুত্বকে সবচেয়ে স্থিতিশীল বলা হয়।

তবে জ্যোতিষ গবেষকদের মতে,
রাশি অনুযায়ী বন্ধুত্ব কোনও অন্ধ বিশ্বাস নয়। এটি মানুষের স্বভাব ও মানসিক প্রবণতার একটি বিশ্লেষণ মাত্র। বন্ধুত্ব টিকে থাকার আসল চাবিকাঠি হল পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস ও সময় দেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *