অতিরিক্ত মানসিক চাপ! কাউকে 'না' বলতে পারেন না তাই তো? এটাই অসুখ - Bengali News | People pleasing syndrome when being too good starts hurting your mental health - 24 Ghanta Bangla News
Home

অতিরিক্ত মানসিক চাপ! কাউকে ‘না’ বলতে পারেন না তাই তো? এটাই অসুখ – Bengali News | People pleasing syndrome when being too good starts hurting your mental health

Spread the love

কর্মক্ষেত্রে হোক বা বাড়িতে ভাল মানুষ শব্দটি শুনতে আমরা কম বেশি সকলেই পছন্দ করি। তবে মনোবিদরা বলছেন সবার অনুরোধে ‘হ্যাঁ’ বলা, নিজের কষ্ট চেপে রাখা আর সবাইকে খুশি রাখার প্রবণতাকে সমাজের এখনও “ভালো মানুষ হওয়া” হিসেবে দেখেন অনেকে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন— এই অতিরিক্ত ভাল হওয়ার চাপই ধীরে ধীরে মানসিক অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। কীভাবে ভাল মানুষরা পরছেন বিপদে?

মনোবিদ্যার ভাষায় এই ধরনের আচরণকে বলা হয় People-Pleasing Behaviour। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা থেকে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে, যারা বারবার “না” বলতে পারেন না, তারা ভবিষ্যতে Anxiety, Depression ও Emotional Burnout-এর মত সমস্যায় পড়তে পারে।

এই বিষয়ে কী বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ফ্যাক্টশিটে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন নিজের আবেগ ও চাহিদা দমন করে রাখলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। জানেন ‘না’ বলতে না পারার ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে? American Psychological Association (APA)-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যাঁরা সবসময় অন্যকে খুশি রাখার চেষ্টা করেন, তাঁদের মধ্যে আত্মসম্মান কমে যাওয়া, অতিরিক্ত অপরাধবোধ হওয়া, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্লান্তি হওয়ার মতো সমস্যা দেখা যেতে পারে।

এক মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সবসময় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে অন্যের কাজ করে দিলে Emotional exhaustion, ঘুমের সমস্যা, Panic attack-এর প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
মনোবিদরা বলছেন সবসময় ভাল থাকার চেষ্টা সুস্থতার লক্ষণ নয়। ভাল থাকার জন্য নিজের সীমা তৈরি করাও জরুরি।

যাঁরা অফিসে অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকা সত্ত্বেও না বলতে পারেন না, তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পরিবারের ক্ষেত্রে, যাঁরা সব দায়িত্ব একাই সামলান, নিজের কষ্ট প্রকাশ করেন না, তাঁদের মধ্যে হঠাৎ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ার ঘটনা বাড়ছে। এমন ভাল মানুষরা কীভাবে মুক্তি পাবেন? কীভাবে বাঁচাবেন নিজেকে?

মনোবিদদের মতে সব অনুরোধে সঙ্গে সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ বলা বন্ধ করুন, নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন, প্রয়োজনে ‘না’ বলতে শিখুন।

অতিরিক্ত ভাল হওয়া যদি নিজের অস্তিত্বকেই ধীরে ধীরে মুছে দেয়, তাহলে সেই ভাল থাকার মানে নেই। তাই সবার আগে নিজেকে ভালবাসা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *