'বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্সের নোটিস ধরিয়েছে বর...', মুখ খুললেন সেলিনা জেটলি - Bengali News | Celina Jaitly says she was served divorce notice on her 15th wedding anniversary - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্সের নোটিস ধরিয়েছে বর…’, মুখ খুললেন সেলিনা জেটলি – Bengali News | Celina Jaitly says she was served divorce notice on her 15th wedding anniversary

Spread the love

নভেম্বর ২০২৫-এ অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি তাঁর স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা, নিষ্ঠুরতা ও মানসিকভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ৫০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য অর্থ দাবি করেছেন। এই মামলা মুম্বই শহরের আন্ধেরি আদালতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাসের কাছে দায়ের করা হয়। সম্প্রতি অভিনেত্রী একটি আবেগঘন নোট লিখে জানান, কীভাবে তাঁকে তাঁর তিন সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাঁর সন্তানদের তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য মানসিকভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সেলিনা তাঁর তিন সন্তানের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “১১ অক্টোবর ২০২৫, রাত ১টায়, প্রতিবেশীদের সহায়তায় আমি অস্ট্রিয়া ছেড়ে বেরিয়ে আসি—যে অভিজ্ঞতাকে আমি ধারাবাহিক নিপীড়ন ও নির্যাতন হিসেবে দেখেছি, তা থেকে বাঁচতে। আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে খুব সামান্য টাকা নিয়ে আমাকে ভারতে ফিরতে বাধ্য করা হয়, যাতে জীবনের বাকি পথ আমাকে সেভাবেই চলতে হয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ভারতে এসে, আমার নিজের বাড়িতে ঢোকা ও প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্যই আমাকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে—যে সম্পত্তিটি আমি ২০০৪ সালে, বিয়ের বহু আগে কিনেছিলাম, সেটিকেই এখন আমার স্বামী নিজের বলে দাবি করছেন। এসব করতে গিয়ে আমাকে একটি বড় ঋণও নিতে হয়েছে।”

“অস্ট্রিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের যৌথ হেফাজত ও কার্যকর আদেশ থাকা সত্ত্বেও, বর্তমানে আমাকে আমার তিন সন্তানের সঙ্গে কোনও ধরনের যোগাযোগই করতে দেওয়া হচ্ছে না, এবং আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছি। বারবার আমার সন্তানদের আমার সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া হয়েছে—নির্বাচিত মিডিয়া বয়ানের সংস্পর্শে আনা হয়েছে, যার ফলে নিয়মিত মা–সন্তান যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে; পাশাপাশি তাদেরকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে ও ভয় দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য করা হয়েছে—আমি সেই মা, যে জন্মের দিন থেকেই তাদের যত্ন নিয়েছি, তাদের বাবার ক্যারিয়ারকে সমর্থন করতে এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়েছি,” তিনি লেখেন।

সেলিনা জানান, তাঁর বিয়ের বার্ষিকীতেই তাঁকে ডিভোর্স নোটিস দেওয়া হয়েছিল। “সেপ্টেম্বরের শুরুতে, আমাদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকীর জন্য অর্ডার করা একটি উপহার নেওয়ার অজুহাতে স্থানীয় পোস্ট অফিসে আমাকে নিয়ে গিয়ে আমার স্বামী আমাকে ডিভোর্স নোটিস ধরিয়ে দেন”, বলেন সেলিনা।

তিনি আরও লেখেন, “এরপর আমি বারবার ও আইনসম্মতভাবে সদ্ভাব বজায় রেখে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিচ্ছেদের চেষ্টা করেছি, যেখানে একমাত্র অগ্রাধিকার ছিল শিশুদের কল্যাণ। কিন্তু এসব প্রচেষ্টার জবাবে আমার বিবাহ-পূর্ব সম্পত্তি নিয়ে দাবি এবং অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে—যার উদ্দেশ্য ছিল ডিভোর্সের পরও আমার স্বাধীনতা ও মর্যাদা কেড়ে নেওয়া। এক রাতেই আমাকে একজন মা ও অভিভাবক হিসেবে আমার ভূমিকা প্রমাণ করতে বলা হয়, যদিও আমি-ই তাদের মা এবং প্রধান যত্নদাতা। এক মুহূর্তে আমার পুরো পৃথিবী কেড়ে নেওয়া হয়,” তিনি বলেন।

শেষে তিনি লেখেন, “যখন আমি পারস্পরিক সমঝোতার বিচ্ছেদ চেয়েছিলাম, তখন আমাকে বলা হয়েছিল আমার পেশাগত পটভূমি ও সাফল্য অপ্রাসঙ্গিক, এবং অস্ট্রিয়ার যে ছোট গ্রামে আমরা থাকতাম সেখানে আমার সন্তানদের যৌথ হেফাজত বজায় রাখতে হলে আমাকে ক্লিনার হিসেবে বা সুপারমার্কেটে কাজ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। আমি প্রশ্ন তুলেছিলাম—যখন আমি নিজের দেশে, নিজের শর্তে সফলভাবে জীবন গড়তে পারি, তখন কেন আমাকে আমার সন্তানদের থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, কেন আমার জীবন ও কাজের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে—সব সম্পদ নিয়ে নেওয়ার পর, ১৫ বছর ধরে আমার আনুগত্য ও নিষ্ঠা দিয়ে একটি নির্যাতনমূলক বিবাহ টিকিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর আমাকে নিষ্ঠুরভাবে পরিত্যাগ করা হলো কেন? আজকের পরিস্থিতিতে, আর্থিক চাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক অসাম্যের কারণে আমি এখনও আমার সন্তানদের কাছে পৌঁছাতে পারছি না—শুধু এই কারণে যে আমি আমার অধিকারের জন্য দাঁড়িয়ে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *