TMC: ‘এক ব্যক্তি এক পদের’ নির্দেশ মেনেও ফাঁপড়ে জেলা সভাপতি, মাঠে আবার ঋতব্রত – Bengali News | Open factional infighting has erupted within the Trinamool Congress in Jalpaiguri
ঋতব্রতর বাম পাশে সাদা জামা পড়ে পুন্যব্রত মিত্র।Image Credit: TV 9 Bangla
জলপাইগুড়ি: দলের কোনও কমিটিতে এক ব্যাক্তিকে দুই পদে রাখা যাবে না। নির্দেশ ছিল তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের। সেই নির্দেশ মেনে TMC জেলা সভাপতি ঘনিষ্ঠ পুন্যব্রত মিত্র (INTTUC ব্লক সভাপতি) তাকে বাদ দিয়ে কয়েকদিন আগে নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা করেন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি তপন দে। সেই কমিটিকে অবৈধ বলে ঘোষণ করে দিলেন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতেই ভোটের মুখে ফের প্রকাশ্য়ে শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল।
ঝামেলা এমন জায়গায় পৌঁছাল যে শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতির অনুষ্ঠানে ডাক পেলেন না খোদ শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি তপন দে। তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর। নতুন জেলা কমিটির তালিকায় পুন্যব্রত মিত্র-সহ কয়েকজনের নাম না থাকা নিয়ে মতভেদ তৈরি হয় জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ এবং শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি তপন দে-র মধ্যে। সেই কারণেই মহুয়া গোপ ওই কমিটিতে স্বাক্ষর করেননি। কিন্তু জেলা সভাপতি স্বাক্ষর না করলেও স্বাক্ষর করেন তৃণমূল বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়। আর এর পরেই INTTUC জেলা সভাপতি তপন দে সেই তালিকা প্রকাশ করে দেন। তালিকা প্রকাশ হতেই শুরু হয় দুই জেলা সভাপতির মধ্যে কোন্দল।
সোমবার তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষথেকে জলপাইগুড়িতে থাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড কমিশনারের দফতর ঘেরাও অভিযান ছিল। সেই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন INTTUC রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তপন বাবুর অভিযোগ, তাঁকে অন্ধকারে রেখে রাজ্য সভাপতি সভা করেছেন। তাকে আমন্ত্রণ পর্যন্ত জানানো হয়নি৷ একইসঙ্গে জেলা তৃণমুলের চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়কেও এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে খবর। তবুও তিনি উপস্থিত ছিলেন
INTTUC রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমিও শুনেছি একটা কমিটির তালিকা বাজারে ঘুরছে। কিন্তু আমি খুব স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যেই তালিকায় তৃণমূলের মাদার কমিটির সভাপতি সই করেননি। সেই তালিকা বৈধ নয়।
অন্যদিকে INTTUC জেলা সভাপতি তপন দে বলছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশ আছে এক ব্যাক্তি কে একাধিক পদে রাখা যাবে না। আমি সেই নির্দেশ মেনে পুন্যব্রত মিত্রকে সহ সভাপতি পদে রাখিনি। কারণ তাকে রাখতে গেলে বাকি ব্লক সভাপতিদের কমিটিতে রাখতে হবে। আর এই নিয়ে জেলা সভাপতির সঙ্গে আমার মতবিরোধ হয়। আজকের সভার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। আমি এখন অসুস্থ। তবে রাজ্য সভাপতি যদি জেলায় আসেন তবে উনি আমাকে কখনওই জানান না। এই নিয়ে একাধিকবার এই ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে চাপানউতোরের মধ্যেই তৃণমূলের জেলা সভাপতি বলছেন, “INTTUC জেলা কমিটি করার জন্য তপন দে আমার কাছে এসেছিল। কিন্তু ওই কমিটির একাধিক নাম নিয়ে সমস্যা হয়। তাই আমি অনুমোদন দিইনি। তবে একটি কমিটি ঘোষণা হয়েছে আমি সেটা সামাজিক মাধ্যমে দেখেছি।” এদিকে আবার খগেশ্বর রায় বলেন, “আমাকে কেউ এই সভার বিষয়ে কেউ জানায়নি৷ আমি আই প্যাকের থেকে শুনে অনুষ্ঠানে এসেছি। তালিকা বাতিল করা হয়েছে কি না সেটা আমার জানা নেই।”
রাজনৈতিক আঙিনায় চাপানউতোরের মধ্যে খোঁচা দিতে ছাড়ছে না পদ্ম শিবির। জেলা কমিটির সদস্য নকুল দাস শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “তৃণমূলের কমিটি নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। দেখুন হয়তো টাকার ভাগ নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা। তাই খগেশ্বর সই করলেও মহুয়া গোপ সই করেনি।”