চালের গুঁড়ো ছাড়াও তৈরি করা যায় তুলতুলে পাটিসাপটা, সহজ রেসিপি জেনে নিন – Bengali News | Soft and supple patishapta without rice flour
মকর সংক্রান্তি মানেই পিঠে-পুলির রমরমা। বাঙালির শীতকালীন উদযাপনে পাটিসাপটা থাকবে না, তা যেন ভাবাই যায় না। তবে ব্যস্ত জীবন আর চালের গুঁড়ো জোগাড় করার ঝক্কিতে অনেকেই পিঠে বানানো থেকে বিরত থাকেন। চিন্তার কিছু নেই! চালের গুঁড়ো ছাড়াও ময়দা ও সুজি দিয়ে খুব সহজেই বানিয়ে ফেলা যায় দোকানের মতো মোলায়েম পাটিসাপটা। এই পিঠে ঠান্ডা হওয়ার পরও থাকবে নরম। জেনে নিন তৈরির সহজ পদ্ধতি।
উপকরণ যা যা লাগবে
এই বিশেষ পাটিসাপটা বানাতে আপনার হেঁশেলের সাধারণ কিছু সামগ্রীই যথেষ্ট:
ময়দা: ২ কাপ
সুজি: ১ কাপ (মিহি দানা হলে ভালো হয়)
চিনি বা গুড়: স্বাদমতো (ব্যাটারের জন্য)
দুধ: পরিমাণমতো (ব্যাটার তৈরির জন্য)
লবণ: এক চিমটি
পুর তৈরির জন্য: ক্ষীর, সন্দেশ অথবা নারকেল কোরা ও গুড়ের পুর।
প্রস্তুতির ধাপসমূহ:
ব্যাটার তৈরি: প্রথমে একটি বড় পাত্রে ময়দা, সুজি এবং এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন। এবার তাতে অল্প অল্প করে ইষদুষ্ণ দুধ দিয়ে একটি মসৃণ ব্যাটার বা গোলা তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন যাতে কোনো দলা পাকিয়ে না থাকে। মিষ্টির জন্য এতে সামান্য চিনির গুঁড়ো বা নলেন গুড় মিশিয়ে নিতে পারেন।
চালের গুঁড়ো নেই বলে এই ধাপে সুজিকে ভিজিয়ে রাখা জরুরি। ব্যাটারটি ঢাকা দিয়ে অন্তত ৩০ মিনিট রেখে দিন। এতে সুজি ভিজে ফুলে উঠবে এবং পিঠে অনেক বেশি নরম হবে।
পুর তৈরি: ব্যাটারটি যখন বিশ্রাম নিচ্ছে, সেই সময়ে ক্ষীর বা নারকেলের পুর তৈরি করে নিন। যদি হাতে সময় কম থাকে, তবে দোকান থেকে আনা নরম পাকের সন্দেশও পুর হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
পিঠে ভাজা: একটি নন-স্টিক প্যানে সামান্য ঘি বা তেল ব্রাশ করে নিন। প্যান গরম হলে এক হাতা গোলা দিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দিন। উপরের অংশ শুকিয়ে এলে একপাশে পুর রেখে সাবধানে মুড়িয়ে নিন বা রোল করুন।
কেন এই পাটিসাপটা সেরা?
রন্ধন বিশেষজ্ঞদের মতে, চালের গুঁড়োর পাটিসাপটা অনেক সময় ঠান্ডা হলে শক্ত হয়ে যায়। কিন্তু ময়দা ও সুজির মিশ্রণে তৈরি এই পিঠে দীর্ঘক্ষণ নরম থাকে এবং ভাজার সময় প্যানে আটকে যাওয়ার ভয় থাকে না।
ব্যাটার যদি খুব ঘন হয়ে যায়, তবে ভাজার আগে সামান্য দুধ মিশিয়ে পাতলা করে নিন। আর পিঠে ভাজার সময় আঁচ সব সময় মাঝারি বা লো-তে রাখবেন।