Nandigram: নন্দীগ্রামে সমবায় ভোটে বিজেপি ঝড়ে শূন্য তৃণমূল, শাসকনেতাকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা – Bengali News | BJP wins all seats in a cooperative society election in Nandigram
নন্দীগ্রামে সমবায় নির্বাচনে ৯টি আসনেই জিতেছে বিজেপিImage Credit: TV9 Bangla
নন্দীগ্রাম: আর মাস চারেক পর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে আরও একটি সমবায় নির্বাচনে বিজেপি ঝড়ে উড়ে গেল তৃণমূল। নন্দীগ্রাম বিধানসভার নন্দীগ্রাম ১-র গাংড়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের পরিচালন সমিতির নির্বাচনে খাতাই খুলতে পারল না রাজ্যের শাসকদল। ওই সমবায় সমিতির ৯টি আসনেই জিতলেন বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা। রবিবার এই সমবায়ের ফল ঘোষণার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ব্লক তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।
এদিন কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ওই সমবায় সমিতির ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া হয়। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সেজন্য তৎপর ছিলেন খোদ নন্দীগ্রাম থানার আইসি প্রসেনজিৎ দত্ত। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করেন। জমায়েত সরাতে ধমক দিতেও দেখা যায় নন্দীগ্রাম থানার আইসি-কে। আঙুল উঁচিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে আসা একজনকে তিনি বলেন, “চুপচাপ ভোট করতে দিন। ডিস্টার্ব করবেন, বারোটা বাজিয়ে দেব। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট করতে দিন।”
গাংড়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের পরিচালন সমিতির নির্বাচনে ৯টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল ও বিজেপি। দুটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল সিপিএম। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়। ৯টি আসনেই বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা জেতেন। জয়ের পরই গেরুয়া আবির নিয়ে পরস্পরকে রাঙিয়ে দেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। বিজয় মিছিলও বের করেন। সমবায় নির্বাচনে জয়ী সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন নন্দীগ্রামের বিধাযক শুভেন্দু অধিকারী।
সমবায় ভোটে জয়ের পর বিজেপির মিছিল
সমবায় ভোটে জয়ের পর বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক মেঘনাথ পাল বলেন, “এই জয় শুভেন্দু অধিকারীর জয়। নন্দীগ্রামের মানুষের জয়। এই জয় আমাদের নিশ্চিত ছিল। তবে এই জয়ে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ আরও বাড়ল।”
এদিকে, বিজেপি সমবায় ভোটে জেতার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গকে মারধরের অভিযোগ উঠে। নন্দীগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসে বাপ্পাদিত্য দিলেন, “সমবায় নির্বাচন অরাজনৈতিক। সমবায়ে জেতার পরই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমার উপর হামলা করে। চড়, ঘুষি মারে। যারা মেরেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছি।” অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, সমবায়ের ফল বেরনোর পরই তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর লাঠি চালায় পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।