SIR in Bengal: এসআইআর-এ শ্বশুর ‘বাবা’ হলে সম্পত্তি মিলবে কি? - Bengali News | Will the property be available if the father in law become 'father' in SIR, what does the law saying - 24 Ghanta Bangla News
Home

SIR in Bengal: এসআইআর-এ শ্বশুর ‘বাবা’ হলে সম্পত্তি মিলবে কি? – Bengali News | Will the property be available if the father in law become ‘father’ in SIR, what does the law saying

Spread the love

বেজায় গরম। গাছতলায় দিব্যি ছায়ার মধ্যে চুপচাপ শুয়ে আছি, তবু ঘেমে অস্থির। ঘাসের উপর রুমালটা ছিল, ঘাম মোছবার জন্য যেই সেটা তুলতে গিয়েছি অমনি রুমালটা বলল “ম্যাও!” কি আপদ! রুমালটা ম্যাও করে কেন? চেয়ে দেখি রুমাল তো আর রুমাল নেই, দিব্যি মোটা-সোটা লাল টক্‌টকে একটা বেড়াল। গোঁফ ফুলিয়ে প্যাট্ প্যাট্ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে! আমি বললাম, “কি মুশকিল! ছিল রুমাল, হয়ে গেল একটা বেড়াল।” অমনি বেড়ালটা বলে উঠল, “মুশকিল অবার কি? ছিল একটা ডিম, হয়ে গেল দিব্যি একটা প্যাঁক্‌পেঁকে হাঁস। এ তো হামেশাই হচ্ছে।” কী সুকুমার রায়ের হযবরল-র লাইনগুলি মনে পড়েছে? হ্যাঁ, এবার যেন এসআইআর শুরু হতেই এরকমই ভুড়ি ভুড়ি উদাহরণ উঠে এল। দুই বউ নিয়ে কত লোকই তো ঝামেলায় পড়লেন, কার নাম দেবেন আর কার নাম দেবেন না তা নিয়ে কালঘাম ছুটল। কিন্তু ফাদার ইন ল হয়ে যাচ্ছে ফাদার… তাই যেন সবথেকে বেশি ভাবাচ্ছে নির্বাচন কমিশনে। যুক্তি দিতে গিয়ে কেউ বললেন, বিয়ের পর থেকে ওনাকেই তো বাবা বলে ডাকি সমস্যা কোথায়? বাড়ির বউমা কখনও ঘরের মেয়ে হতে পারে কি না সেই ডিবেট তো অনেক পুরনো, কিন্তু বাড়ির জামাই কি ঘরের ছেলে হতে পারে? পেতে পারেন সম্পত্তির ভাগ? এবারের এসআইআর যেন সেই প্রশ্নই তুলে দিল বারবার। আর বারবার জুড়ে গেল অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ। যা এতক্ষণ খানিক হালকা চালেই আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাই অচিরে হয়ে গেল গুরুগম্ভীর আলোচনার বিষয়।

পূর্ব মেদিনীপুর থেকে বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ। দুই জায়গায় দু’জন বাবা। একটি বুথে নিজের কাকুকে বাবা বানিয়েছেন। আবার অপর একটি বুথে নিজের শ্বশুরকে বানিয়েছেন বাবা। কয়েকদিন আগে এই ছবি দেখা গিয়েছে নন্দীগ্রামে। নন্দীগ্রামের দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শেখ জুলফিকারের আসল বাবা শেখ মনিরুল ইসলাম। শেখ মনিরুল ইসলামের ভাই অর্থাৎ জুলফিকারের কাকু শেখ মফিজুল ইসলাম দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়নান গ্রামে ১৯৩ নম্বর বুথের বাসিন্দা। ওই বুথে জুলফিকারের যে ভোটার কার্ড রয়েছে সেখানে তিনি নিজের বাবার জায়গায় কাকার নাম দিয়েছেন। এদিকে এখন জুলফিকার বিয়ে করেছেন নন্দীগ্রামের কেন্দামারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গোপীমোহনপুরে। ২১৩ নম্বর বুথেই রয়েছে তাঁর শ্বশুরবাড়ি। থাকেন সেখানেই। অভিযোগ সেখানেও ভোটার লিস্টে নাম তুলেছেন। সেখানে আবার বাবার জায়গায় দিয়েছেন শ্বশুরের নাম। অর্থাৎ দু’টো বুথেই ভোটার কার্ড রয়েছে তাও আবার দুজন বাবা! ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের বিডিওর কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে।

কিন্তু এভাবে শ্বশুর বাবা হয়ে গেলে কী আইনি অধিকার মেলে? কী বলছে আইন? আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলছেন যাঁরা যাঁরা এ কাজ করছেন তাঁরা অবশ্যই তাঁদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবেন। কারণ শ্বশুরকে কখনওই এভাবে বাবা দেখানো যায় না। কোনওভাবে আইনের ফাঁক গলে এই কাজ করলেও শাস্তি পেতেই হবে।  

তবে শুধু নন্দীগ্রাম নয়, বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জের সুতিরআটি এলাকাতেও কার্যত দেখা গিয়েছে একই ছবি। বাংলাদেশের টাউন শ্রীপুরের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম গাজি। বছর দশেক আগে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে আসে। ভারতে এসে আব্দুর রহিম গাজির বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কেটে যায় বেশ কিছুদিন। রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে আব্দুর রহিম গাজির মেয়ের বিয়েও হয়। আর তারপরই শ্বশুরকে বাবা পরিচয় দিয়ে ভোটার লিস্টে নাম তোলে। সরকারি নথিপত্রও নাকি নিজের নামে করে নেয় বলে শোনা যায়। রামেশ্বরপুর গরুরহাট পঞ্চায়েতের প্রধান আবুল কালাম গাজী বলছেন, এটা কোনওভাবেই মানা যায় না। নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিক।  

শুধু তাই নয়, সম্পর্কে কেউ হন না, তাও বাবার জায়গায় ভারতের বাসিন্দাদের নাম দিয়ে দিয়েছে অনুপ্রবেশকারী। এমন অভিযোগও উঠেছে। বসিরহাটের নিমদাড়িয়া কোদালিয়া পঞ্চায়েতের ৭৫ নম্বর বুথের বাসিন্দা জিয়াদ আলি দফাদার। বছর চারেক আগে হঠাৎই তিনি দেখেন, ভোটার লিস্টে মাহাবুর দফাদার নামে এক যুবকের নাম উঠেছে। আর ভোটার লিস্ট বলছে তাঁর বাবা নাকি তিনিই। এদিকে তাঁর এমন যে কোনও ছেলে আছে তা জানতেন না তিনিও। খোঁজ খবর নিয়ে দেখা যায় বাংলাদেশের এক অনুপ্রবেশকারী ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা হতে এই কাজ করেছেন। সেই যুবক মানে ওই মাহাবুর দফাদারের বাড়ি বাংলাদেশের ডুমুরিয়া জেলায়। এখন তাঁর বাবা হিসাবে নিজের নাম বাদ দিতে এসআইআর-ই ভরসা জিয়াদ আলি দফাদারের। অন্যদিকে মাহাবুরের স্ত্রী বলছেন, ভুল করে তাঁরা নাকি এটা করে ফেলেছেন।

এদিকে নামগুলো দেখলেন তো, আর এই নামগুলো একের পর এক সামনে আসতেই সুর চড়াচ্ছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক মহলেও তুমুল চাপানউতোর। কিন্তু তৃণমূল কি চুপ করে আছে? না তা ভাবার কোনও কারণ নেই। ফিরহাদ হাকিম যদিও তাঁদের দলের সবার মতো একই কথা বলছেন। তাঁদের একটাই কথা, একজনও বৈধ ভোটার বাদ না যায়। সেদিকেই পুরোদমে নজর রাখা হচ্ছে। এখন দেখার এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলে, নতুন ভোটার তালিকা সামনে এলে জল আর তেল কতটা আলাদা হয়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *