Financial Freedom: আপনার বয়স অনুযায়ী কীভাবে ভাববেন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে! – Bengali News | Financial Freedom: How to think about financial freedom according to your age!
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কোন পথে আসে?Image Credit: Photo by Firdous Nazir/NurPhoto via Getty Images)
কোনও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কি বারবার ব্যাঙ্কের ব্যালেন্স চেক করতে হয় বা হিসাব কষতে হয় আপনাকে? আপনি কি চান এই অভ্যাস থেকে মুক্তি? অর্থাৎ, আপনার ব্যাঙ্কে এত পরিমাণ অর্থ থাকবে যে যে আপনাকে আগুপিছু করার জন্য বেশি চিন্তা করতে হবে না। এটাই হল আপনার আর্থিক স্বাধীনতা। আর্থিক স্বাধীনতা আসলে ভয়কে পিছনে ফেলে নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। সেই ক্ষমতাই আপনাকে দেয় নতুন শহরে চলে যাওয়ার, বিরতি নেওয়ার বা যখন খুশি জীবনকে নতুন করে শুরু করার সাহস।
অর্থ শুধুই একটি মাধ্যম। এক বেলার ভাল খাবার, সপ্তাহান্তের ট্রিপ, কিংবা একমুহূর্তের নিরাপত্তা; এই মুহূর্তগুলোতেই টাকার চিন্তা করতে ও পকেটে হাত দিতে বাধ্য করে। আসলে, টাকাকে কোনও কাজের বদলে প্রাপ্তি হিসাবে না দেখে একটি টুল বা হাতিয়ার হিসেবে দেখলে কিন্তু জীবনটা পাল্টে যায়।
শুরুতে ছোট পদক্ষেপ
আপনার বয়স যখন ২০ থেকে ২৫-এর মধ্যে, তখন আপনার জীবন উত্তেজনাপূর্ণ। কিন্তু আপনার তখন একটা অর্থের চিন্তা মাথায় ঘোরাফেরা করছে। আসলে, তখন হয়তো আপনার সবে রোজগার শুরু হয়েছে বা শুরু হওয়ার আগের স্টেপে রয়েছেন আপনি। গোটা পৃথিবীটা তখন আপনার খেলার মাঠ। ফলে, এটাই সময় আপনার নিজের জন্য আর্থিক সুরক্ষার জন্য কোনও অভ্যাস তৈরি করা। তাড়াতাড়ি শুরু করলে বিরাট সঞ্চয় কোনও কঠিন কাজ নয়। একটা ছোট পদক্ষেপ। আর আপনি তৈরি করে ফেলতে পারবেন দারুণ একটা তহবিল।তাড়াতাড়ি শুরু করতে আপনি অর্থে নয়, আসল বিনিয়োগটা করেন সময়ে।
স্বপ্ন গড়ার উপযুক্ত সময়!
২৫ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে জীবন একটু ব্যস্ত হয়। চাকরি পেয়েছেন আপনি, নতুন বাড়ি করেছেন বা ফ্ল্যাট কিনেছেন। এ ছাড়াও আপনার জীবনসঙ্গীকেও হয়তও খুঁজে ফেলেছেন আপনি। এটাই তো হয় সাধারণের জীবনে। আর এই সময়টাই আসলে আপনার বাকি জীবনের কাঠামো তৈরি করে। এই সময়ের প্রতিটি সিদ্ধান্তই যেন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটাই সেই সময় যখন আপনার সাবধানে করা কোনও পরিকল্পনা একটা ভিরাট পার্থক্য তোইরি করে দেয়।
আর্থিক স্বাধীনতা এমনই, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়। একদম আত্মবিশ্বাসের মতো। এই বদল আপনার জীবনে রাতারাতি আসে না।
বৃদ্ধি আর সুরক্ষার ভারসাম্য
৩২ পেরিয়ে মানুষ যখন ধীরে ধীরে ৩৮ বছর তখন মানুষের জীবনের দায়িত্ব বাড়ে। পরিবার তৈরি হয়। কাঁধে এসে পড়ে সন্তানের দায়িত্বও। এই অবস্থায় অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কেবল একটি মৌলিক প্রয়োজন নয়। এই অবস্থায় এটি বিরাট একটা অর্থ বহন করে। আসলে তখন এই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আসলে অর্থনৈতিক সুরক্ষার সমান হয়ে যায়। এই মুহূর্তে শুধু সম্পদের বৃদ্ধি নয়, তার সুরক্ষাও সম্পূর্ণভাবে প্রয়োজন।
আসল স্বাধীনতা
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কোনও বিরাট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়। এটি আসলে আপনার ব্যক্তিগত জীবন বা কর্মজীবনে ঘটে চলা দৈনন্দিন ঘটনার মধ্যেই থাকে। আপনার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আপৎকালীন সময়ে আপনাকে মানসিক ভাবে শান্ত থাকতে সাহায্য করে। ফলে, তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ শুরু করুন, ধৈর্য রাখুন এবং আপনার বিনিয়োগকে সাবধানে, সচেতনভাবে রাখুন। কারণ আসল স্বাধীনতা আপনি কতটা উপার্জন করেছেন সেটা নয়। বরং আপনি কতটা ভাল ভাবে বাকি জীবনটা কাটাচ্ছেন, সেটাই আসল কথা।