Imran Khan: জেলেই ইমরানকে খুনের 'ষড়যন্ত্র'! কার পথের কাঁটা কাপ্তান? - Bengali News | In Depth on Imran Khan & His Death Rumours: Why Pakistan in Chaos over Imran's Health Suspense, Who Wants him Dead? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Imran Khan: জেলেই ইমরানকে খুনের ‘ষড়যন্ত্র’! কার পথের কাঁটা কাপ্তান? – Bengali News | In Depth on Imran Khan & His Death Rumours: Why Pakistan in Chaos over Imran’s Health Suspense, Who Wants him Dead?

Spread the love

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্য়ম, চর্চা শুধু একটা নাম ঘিরেই। ইমরান খান (Imran Khan)। পাকিস্তানের ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিবিদ, সেখান থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী- ইমরান খানের উত্থানটা দেখার মতো ছিল। আবার পতনটাও চোখে পড়ার মতোই। যিনি একদিন দেশের সর্বেসর্বা ছিলেন, রাতারাতি তিনিই দাগী আসামী হয়ে গেলেন। আর এখন জল্পনা ইমরানের অস্তিত্ব নিয়েই। জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কি বেঁচে আছেন? নাকি জেলেই হত্যা করা হয়েছে তাঁকে? ইমরানের তিন বোনের দাবি ঘিরে তোলপাড় পাকিস্তান (Pakistan)। দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে জেলের বাইরে। আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (Pakistan Tehreek-e-Insaaf) কর্মী সমর্থকরা। সত্যিই কেমন আছেন ইমরান? তাঁকে ঘিরে এত সাসপেন্সই বা কেন?

ইমরান খান পাকিস্তানে বরাবরই চর্চিত ব্য়ক্তিত্ব। এক সময়ে তিনি দেশের ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপ। সেই ইমরানই আবার রাজনীতিতে নাম লেখানোর পর চর্চায় থেকেছেন নানা কারণে। ধীরে ধীরে গড়েন রাজনীতির কেরিয়ার। ১৯৯৬ সাল থেকে রাজনীতির পথচলা শুরু হলেও, ২০১১ সালের দিকে উত্থান হয় ক্য়াপ্টেনের। বিপুল সমর্থন নিয়ে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় বসেন ইমরান।

গদি টিকল না ইমরানের-

ওই যে কথায় আছে, ভাগ্য…ভারত থেকে আলাদা হওয়ার পর স্বাধীন পাকিস্তানের ইতিহাসে কোনও প্রধানমন্ত্রীই একটানা ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। ইমরানও তাঁর ব্যতিক্রম নন। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পাওয়া উপহার বিক্রি করে দেওয়া থেকে শুরু করে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে ইমরানের বিরুদ্ধে। তোশাখানা মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয় পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে। ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয় দেশের গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে। সংসদে এক প্রকার জোর করে আস্থাভোট করিয়ে গদিচ্যুত করা হয় ইমরান খানকে। সেই ২০২৩ সাল থেকেই জেলে বন্দি ইমরান। ১০০টিরও বেশি মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আল কাদার ট্রাস্টের মাধ্যমে জমি ঘুষ নেওয়ার মামলায় নাম রয়েছে ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবিরও। তাঁকেও ৭ বছরের সাজা দেওয়া হয়। এমনকী, তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ-কেও নিষিদ্ধ করেছে পাক সরকার। যদিও তাদের কণ্ঠরোধ করা যায়নি।

কেন মৃত্যুর জল্পনা?

ইমরান খানকে গ্রেফতারি সম্পূর্ণ অনৈতিক- প্রথম থেকেই এই দাবি পিটিআই কর্মী-সমর্থকদের। এর মধ্যে বিতর্ক উসকে দেন ইমরান নিজে। আদালতে হাজিরার সময় গলা ফাটিয়ে তিনি বলেন যে জেলে তাঁর উপরে অত্যাচার করা হচ্ছে। যদি জেলে তাঁর সঙ্গে কিছু ঘটে যায়, তাহলে সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে যেন দায়ী করা হয়। তিনি দাবি করেন, জেলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও কর্নেল আসিম মুনিরের নির্দেশে কাজ করছেন। ব্যস, আগুন জ্বলতে শুরু করল। এরপরে একাধিকবার জল্পনা রটে যে ইমরান খান মারা গিয়েছেন। পাকিস্তান সেনা জেলের ভিতরেই হত্যা করেছে ইমরান খানকে। এমনকী, ইমরানের খাবারে বিষ মিশিয়ে তাঁকে হত্যার জল্পনাও রটে। তবে প্রতিবারই সেই দাবি খারিজ করেছে জেল কর্তৃপক্ষ।

নতুন করে মৃত্যুর জল্পনা শুরু হয় ইমরানের তিন বোন, নরিন খান, আলিমা খান ও উজমা খান যখন রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। তাঁদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। দাবি, বিগত তিন সপ্তাহ ধরেই তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এরপরই রটে যায়, জেলে হয়তো খুন করা হয়েছে ইমরান খানকে। জেলের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, ইমরানের বোনেদের ও পিটিআই কর্মী-সমর্থকদের মারধর করেছে পুলিশ।

ইমরানের বোন আলিমা খান এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইমরানকে বিগত ৬ সপ্তাহ ধরে আলাদা রাখা হয়েছে। কারোর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “শেষবার যখন ইমরান খানের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তখন ওঁ সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। এখন যদি বলা হয় যে বয়সজনিত কারণে বা অসুস্থতায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর, তাহলে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা কী করে নিশ্চিত করব যে ইমরান কেমন আছেন? কেউ যোগাযোগ করতে পারছেন না।”

কেন ইমরানকে নিয়ে এত টানাটানি?

কূটনীতিকরা অনেকেই বলেন, ইমরান রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বলি। ইমরান নিজেও ওই দাবি করেছেন। শেহবাজ শরিফের ক্ষমতায় বসার পিছনে হাত ছিল দাদা নওয়াজ শরিফের, যিনি নিজেও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন একসময়ে। ইমরানকে সরানোর জন্য মরিয়া ছিলেন তিনি, সেই কারণেই একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হয় পিটিআই প্রধানকে। এক মামলা থেকে জামিন পেলেই আরেক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছিল। শেষে যখন গ্রেফতার করা হল ইমরানকে, সোজা তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হল কালকুঠুরিতে। এর নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানে যুগ যুগ ধরে চলা এক বিরাট রাজনীতি।

লোকদৃষ্টিতে নির্বাচিত সরকার দ্বারা পাকিস্তান শাসিত হলেও, অনেকেই জানেন যে আসল ক্ষমতার রাশ থাকে সেনা প্রধানের হাতে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে যে কোনও মন্ত্রী নিয়োগ বা সরকারি কোনও সিদ্ধান্ত- সব সিদ্ধান্তেই সিলমোহর থাকতে হয় সেনা প্রধানের। ইমরান ক্ষমতায় থাকাকালীন এখানেই সমস্যা বাধছিল। সেনা প্রধানের হাতের পুতুল হতে রাজি ছিলেন না প্রাক্তন ক্যাপ্টেন। সেই কারণেই দ্বন্দ্ব বাড়ে। তারপর অনাস্থা এনে গদিচ্যুত করা হয় ইমরানকে। প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন শেহবাজ শরিফ। আর সেনা প্রধান আসিম মুনির। তিনিই পাকিস্তানের সর্বেসর্বা। অসীম ক্ষমতা তাঁর। মার্কিন প্রেসিডেন্টও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের থেকে বেশি গুরুত্ব দেন মুনিরের কথায়। আইন বদল করে তৈরি করা হয়েছে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্স পদ। যিনি চিফ অব আর্মি স্টাফ হবেন, তিনিই ডিফেন্স ফোর্সেরও প্রধান হবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি ন্যাশনাল স্ট্রাটেজিক কম্যান্ডের প্রধানকে নিয়োগ করবেন। সে দেশের আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন কোনও নিয়োগ করা হবে না। আসিম মুনিরই এই সর্বোচ্চ পদে বসবেন। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই পদ অবলুপ্ত করে দেওয়া হবে। 

যেভাবে জেলে থেকেও হাজার হাজার মানুষকে তাঁর সমর্থনে পথে নামানোর ক্ষমতা রাখেন ইমরান, তাতেই ভয় শেহবাজ প্রশাসনের। সেই কারণেই ইমরানকে জেলে রাখা। কে বলতে পারে সত্যিই হয়তো মৃত্যুর খবর আসবে ইমরানের। পাকিস্তান যে সেনা প্রধানের বিরোধী পছন্দ করে না…  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *