Explained: মুখোশ খুলে দিলেন মাস্ক, বিপদে পড়ল কারা?

ধনকুবের ইলন মাস্কের ‘এক্স’ এখন যাবতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। সাবেক টুইটার-এ এক নতুন ফিচার যুক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়ে গেছে প্রবল বিতর্ক। এক্স-এ সম্প্রতি ব্যবহারকারীদের লোকেশন দেখা যাচ্ছে। ফলে আঁচ পাওয়া যাচ্ছে, কার অ্যাকাউন্ট কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে। কবে থেকে অ্যাকাউন্ট-টি ব্যবহার করা হচ্ছে, কতবার ইউজার নেম বদলানো হয়েছে বা কোন ডিভাইস থেকে পরিচালিত হচ্ছে, সেটাও এখন এক্স-এ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। আর এই নতুন সুবিধা মিলতেই বিশ্বজুড়ে একের পর এক ‘ফেক’ প্রোফাইলের পর্দাফাঁস হতে শুরু করেছে। দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় নাম-পরিচয়-পদবি নিয়ে এমন বহু অ্যাকাউন্ট চলছে- যেগুলি আসলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এমনকী তুরস্ক থেকেও পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিজেপি সরাসরি অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে, বিদেশি শক্তি এক্স-কে ব্যবহার করে ভারত-বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যর দাবি,
- কংগ্রেস পন্থী, হিন্দু-বিরোধী এক্স হ্যান্ডেল দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হচ্ছে।
- জাতপাতের রাজনীতি করে জলঘোলা করে এমন বহু প্রোফাইল-ই ভারতীয়দের নয়।
- এইসব প্রোফাইলের একটা বড় অংশ পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে।
- ওই প্রোফাইলগুলি একাধিকবার নাম ও পরিচয় ভাঁড়িয়ে দেশবিরোধী প্রচার চালাচ্ছে।
- ভারতের সামাজিক স্থিতাবস্থা নষ্ট করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অশুভ বিদেশি শক্তির।
- ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে ভারতের ভিতর অশান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে।
- ভারত-বিরোধী সেই সব অশুভ শক্তির পর্দাফাঁস হয়ে গেছে।
অপারেশন সিঁদুর-এর পর থেকেই একটা জিনিস স্পষ্ট। ভবিষ্যতের সংঘর্ষ শুধু কামানে-বিমানে হবে না। সাইবার দুনিয়াতেও হবে। ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে ভারতে অশান্তি পাকানোর চেষ্টার অভিযোগ বহুদিন ধরেই তুলছে বিজেপি। কৃষক আন্দোলন থেকে শুরু করে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে সরব হয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। এবার এক্স- এ ‘About This Account’ সুবিধা যুক্ত হতেই বিজেপি হাতে অস্ত্র পেয়ে গেছে। সম্প্রতি দিল্লির লালকেল্লায় বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে ২০২১-র কৃষক আন্দলোন বা ২০২০-তে রাজধানীতে হিংসা কাণ্ডে বিদেশি শক্তির হাত থাকার অভিযোগ তুলছে বিজেপি। বিজেপি নেতারা একাধিক প্রোফাইলের লোকেশন ডিটেলস তুলে ধরে দেখাচ্ছেন, কীভাবে পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে বসে এই প্রোফাইলগুলি দেশের স্থিতাবস্থাকে নষ্ট করতে মদত দিচ্ছে। যেমন বিজেপি-র অভিযোগ,
- ‘ট্র্যাক্টর টু টুইটার’ প্রোফাইলটি পাঞ্জাবের কৃষকদের অধিকার নিয়ে সরব। এটি পরিচালিত অস্ট্রেলিয়া থেকে।

- ইন্ডিয়ান জেমস বলে ভুয়ো একটি প্রোফাইল চালিত হয় বাংলাদেশ থেকে। চালায় আব্দুর রাজ্জাক নামের এক।
- জাতপাত নিয়ে অপপ্রচার করে ‘দ্রাভিডিয়ান প্রাইড’ নামের প্রোফাইলটি চলে বাংলাদেশ থেকে।

- তরুণ, জিতেশ -এর মতো ভারতীয় নাম ও পদবির প্রোফাইল চালায় পাকিস্তানের জিতু রেহমানি, ফাওয়াদ শেখরা।
- এই প্রোফাইলগুলি শুধুমাত্র ট্রোল বা ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট ছড়ায় না, চড়া সুরে ভারত-বিরোধী প্রচার চালায় বলে অভিযোগ।

এক্স-এর এই নতুন লোকেশন ফিচার আনার উদ্দেশ্য হিসাবে সংস্থার প্রোডাক্ট হেড নিকিতা বিয়ার বক্তব্য, ‘স্প্যাম ছড়ানো বন্ধ করা, প্রোফাইলে আরও স্বচ্ছতা আনাই লক্ষ্য।’ কিন্তু এখন ভুয়ো প্রোফাইলের পর্দাফাঁস শুরু হতেই বিতর্কের ঢেউ ছড়িয়েছে আমেরিকাতেও। ৪ লক্ষ ফলোয়ার্স-সহ ট্রাম্প পন্থী ‘মাগা’ ইনফ্লুয়েন্সর, যেমন ‘মাগা নেশন এক্স’-এর মতো প্রোফাইল দেখা যাচ্ছে ইস্টার্ন ইউরোপ থেকে পরিচালিত হয়। দেখা যাচ্ছে, ‘ডার্ক মাগা’ নামের আরেকটি জনপ্রিয় প্রোফাইল পরিচালিত হচ্ছে থাইল্যান্ড থেকে। ট্রাম্প-বিরোধী প্রোফাইল-ও পিছিয়ে নেই। ‘রিপাবলিকান এগেইনস্ট ট্রাম্প’ বলে প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার্স রয়েছে এমন প্রোফাইলটি দেখা যাচ্ছে অস্ট্রিয়া থেকে পরিচালিত। রন স্মিথ নামের ডেমোক্র্যাট পন্থী আরেটি প্রোফাইল চলে কেনিয়া থেকে। ভারতে সাহিল ফারুখি বা খুশি খাতুন নামের প্রোফাইল চলছে পাকিস্তান থেকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকদিন ধরেই ISI বা বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা ভুয়ো নাম-পরিচয় বাগিয়ে, ভিপিএন-এর সাহায্যে এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যকলাপে যুবকদের মগজধোলাই করছে। এটাই ফিফ্থ জেনারেশন ওয়ার-ফেয়ার বা 5GW tactics। আইবি, NIA বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এই প্রক্সি ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ারের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালায়। বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে ভুয়ো প্রোফাইলকে চিহ্নিত করা গেলেই False-Flag Social Media Networks -এর অভিযোগে এক্স বা মেটা-র কাছে আবেদন জানিয়ে অ্যাকসেস রেস্ট্রিক্ট করা হয়। কিন্তু জঙ্গিরাও নিজেদের ধরণ পালটাচ্ছে। ভিপিএন ব্যবহার করে নিজেদের আসল লোকেশনের অস্তিত্ব-ই জানান দিচ্ছে না। একে বলে Hybrid Warfare। এখন এক্স-এর এই নয়া লোকেশন রিভিল ফিচার শুধু ভুয়ো প্রোফাইলকে চিহ্নিত করতেই নয়, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের আসল পরিচয় ও উদ্দেশ্য জানতেও খানিকটা সাহায্য করতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।