Explained: ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি মেনে ঢাকায় ফেরাতেই হবে হাসিনাকে? - Bengali News | Can Dhaka Demand Hasina’s Extradition from India? Treaty Clauses Explained - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি মেনে ঢাকায় ফেরাতেই হবে হাসিনাকে? – Bengali News | Can Dhaka Demand Hasina’s Extradition from India? Treaty Clauses Explained

Spread the love

ঢাকা: ঘড়িতে তখন ভারতীয় সময় অনুযায়ী প্রায় সোয়া ২টো। বাংলাদেশে ২টো বেজে ৪৭ মিনিট। সেদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে সাজা ঘোষণার পর্ব। এক মিনিটের ব্যবধান। ঘড়িতে ২ টো বেজে ৪৮ মিনিট। হাততালিতে ফেটে পড়ল গোটা আদালত কক্ষ। শেখ হাসিনাকে ফাঁসির সাজা শোনাল ট্রাইব্যুনাল। এদিন বিকালেই ভারতকে আহ্বান জানাল ঢাকা। এই আহ্বান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে আবার ঢাকায় ফেরত পাঠানোর। ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা উল্লেখ করে হাসিনা আবার ঢাকায় ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানায় সেদেশের বিদেশমন্ত্রক। তা হলে নয়াদিল্লি কি হাসিনাকে এবার বাংলাদেশ সরকারের হাতেই তুলে দেবে?

আইন-কাহন

হাসিনা সাজা পেয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, কেন এই সাজা, কোন ধারায় সাজা, এই সব প্রশ্ন এখন অতীত। যেটা তরতাজা তা হল তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি। সেই বিষয়ে কী বলছে ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি? দুই দেশের মধ্য়ে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে, একজন অভিযুক্ত প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তখনই তাঁকে সংশ্লিষ্ট দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা যাবে। হাসিনার ক্ষেত্রে সেই শর্ত মান্যতা পাচ্ছে। ফলত, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের দাবি জানানোর পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।

তবে এখানে আরও একটি শর্ত রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির ধারা ১ ও ২-এ দ্বৈত অপরাধ বা Dual Criminality-র কথা উল্লেখ রয়েছে। যার অর্থ হল উভয় দেশের বিচারব্যবস্থা অভিযুক্তকে দোষী বা অপরাধী বলে ঘোষণা করবে। কিন্তু হাসিনার ক্ষেত্রে কি তা হয়েছে? বাংলাদেশের অন্দরে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ হাসিনা ও সেদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দুষ্ট হলেও, ভারত কিন্তু বরাবর এই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে একটু ভিন্ন সুর তুলেছে। তা হলে ঢাকার আহ্বানে আইনি ভাবে সাড়া দেবে না নয়াদিল্লি?

সোমবার বিকালেই হাসিনার সাজা নিয়ে মুখ খুলেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। তাঁদের সুর কিন্তু একটু অন্যরকম। খুব কূটনৈতিক। অতল গভীর বললেও ভুল হবে না। বাংলাদেশ ‘ঘনিষ্ট প্রতিবেশী’ বলে উল্লেখ করে দেশের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশেরজনগণের স্বার্থে— শান্তি, গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতার প্রতি ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে ভারত সরকার অবশ্যই আলোচনা করবে।’

হাসিনা থাকছেন?

ভারতের কাছে কি ঢাকার আহ্বান প্রত্যাখ্যানের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে? কী বলছে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি? এই প্রত্যর্পণ চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারা, অন্তত যা হাসিনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রযোজ্য সেগুলি হল ধারা ৬-র ১ এবং ধারা ৮-র ৩। কী এমন রয়েছে এই দুই ধারায়? প্রথমে ধারা ৬(১) ব্যাখ্য়ায় আসা যাক। যদি অভিযুক্তের অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসাজোশ থাকে তা হলে প্রত্যাখ্য়ান করা যাবে তাঁর প্রত্যর্পণ। খুব সহজ ভাষায়, ঠিক যেমন ভাবে কোনও দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে পারেন কোনও রাজনীতিক। এই ধারাটাও তেমন। আর বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন যে রাজনৈতিক অভ্যুত্থান, তাতে বিশেষ কোনও সন্দেহ নেই।

এরপর আসা যাক ধারা ৮-র (৩)এ। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি অভিযুক্তের সঙ্গে আবেদনকারী দেশের বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক সংঘাত থাকে, তা হলে বিনা বাক্য ব্যয়ে সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া যেতে পারে। নোবেলজয়ী তথা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আদ্যপান্ত রাজনীতিক না হলেও, বিগত এক বছরে তাঁর আচরণ, নীতি সবটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মত একটা বড় অংশের। এমনকি, এই সময়কালে ভারতের সেভেন সিস্টারেও নজর দিতে ছাড়েননি তিনি।

দিকশূন্য ইউনূস সরকার?

তা হলে কি হাসিনাকে ফেরানোর কোনও পথই নেই ইউনূস সরকারের কাছে? আন্তর্জাতিক নিয়ম বলছে, দুই দেশের মধ্য়ে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তিতে নাক গলাতে পারে না রাষ্ট্রপুঞ্জ। সুতরাং, তাঁরা প্রথমেই খারিজ। তবে একটি প্রতিষ্ঠান এই বিষয়ে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা রাখে তা হল আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালত। দুই সরকারের যুক্তি-তর্ক শুনে হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে রায়দানের ক্ষমতা একমাত্র আন্তর্জাতিক স্তরে তাদেরই রয়েছে।

এই আন্তর্জাতিক আদালত নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হাসিনাও। রায়দানের পরেই তাঁর দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘নামে আন্তর্জাতিক লেখা থাকলেও, কাজে নয়। এটা স্পষ্ট, ইউনূস সরকার নিজেদের রাগ মেটাতে এই আদালতকে ব্যবহার করেছে। আমি আগে ওঁদের চ্যালেঞ্জ করেছি। আবারও করছি। সাহস থাকলে আমার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যান। আমি এটাও জানি, ওরা যাবেন না। কারণ, আন্তর্জাতিক আদালত আমাকে রেহাই দেবে।’

তবে একটা বিষয় এই গোটা পর্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা হল হাসিনার আত্মপক্ষ সমর্থন। একজন অভিযুক্তের এটা প্রাথমিক অধিকার। ভারতে যখন মুম্বই হামলা হয়েছিল, সেই সময় একমাত্র ধৃত জঙ্গি কসাবও নিজের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু হাসিনা তিনি একটি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, সেই সুযোগ কি তাঁর পাওয়া উচিত ছিল না? নাকি হাততালি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া, এটাই বাংলাদেশের নতুন নীতি? প্রশ্ন তুলেছেন একাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *